প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০০:৪৭ এএম
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২১ আগস্ট বিসিবি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন নাজমুল হাসান পাপন। ওই দিনই বিসিবির নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন ফারুক আহমেদ। গতকাল শনিবার তিনিসহ বিসিবির কয়েকজন পরিচালক পূর্বাচলে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য বরাদ্দকৃত জমি দেখতে যান। জমি ঘুরে দেখে সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুটি খেলার মাঠ বানানোর কথা বলেছেন ফারুক। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামের নাম ও নকশাও যে বদলে যাবে, দিয়েছেন সে ইঙ্গিতও। পূর্বাচলে নৌকার আদলে স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রয়োজন নেই বলেও জানান বিসিবির নতুন সভাপতি।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ফারুক। এ সময় স্টেডিয়ামের মূল নকশা নৌকার আদলে থাকবে কি নাÑ এ প্রসঙ্গে বোর্ড সভাপতির বক্তব্য, ‘মাঠ করতে তো নৌকা বা স্কয়ার শেপের দরকার নেই। ক্রিকেটে মাঠ দরকার ওভাল আকৃতির। আগেই উল্লেখ করেছি, একটা পরামর্শক গ্রুপে বিনিয়োগ হয়েছে। ঐটার ভিত্তিতেই বড় কোনো পরিবর্তন না করে এক দিনেই তো সব করা সম্ভব না। প্রথমে মাঠ, ড্রেসিং রুম এভাবে করতে হবে। ওদের প্ল্যান এখনও দেখিনি, সেগুলো দেখে-বুঝে প্রথমেই মাঠ করার চিন্তা আমাদের।’ স্টেডিয়ামের নাম যে ‘শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম’ থাকছে না, সে আভাসও আছে ফারুক আহমেদের কথায়, ‘এটা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ক্রিকেট বোর্ড মিলে সিদ্ধান্ত নেবে।’
মাঠের উন্নতির ওপর জোর দিচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাদের প্রধান ইচ্ছা ছিল মাঠগুলোর উন্নতি। নতুন মাঠও যদি করতে পারি, সেটা নিয়েও চিন্তা করেছিলাম। এখন এটাকে আমরা যত দ্রুত মাঠের কাঠামোতে রূপ দিতে পারি, সে চেষ্টা করব। আমাদের যে মাঠগুলোর উন্নতি করার কথা, সেগুলোর সঙ্গে এটা যোগ হবে।’ যোগ করেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে যাব। এখানে দুটি মাঠ হওয়ার কথা ছিল, বড় স্টেডিয়াম হওয়ার কথা ছিল। এই মুহূর্তে আমরা এত বাজেট অ্যাফোর্ড করতে পারব না। সেজন্য প্রথমে একটা মাঠ দিয়ে শুরু করব, তারপর পাশের মাঠটা করার চেষ্টা করব। দ্রুতই মাঠের কাজ শুরু করব। এখন আমাদের অনেক ধরনের খেলা, আপনারা সবাই জানেন। বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে নারী ক্রিকেট, ক্লাব ক্রিকেটÑ অনেক খেলা। সেজন্যই মাঠটা তৈরি করব।’
এই স্টেডিয়াম বিসিবির নিজস্ব অর্থায়নে তৈরির কথা ছিল। প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্টেডিয়ামকে ঘিরে দুটি মাঠসহ পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট কমপ্লেক্স গড়ে তোলার জন্য ৩৭ একর জমি পায় বিসিবি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। পাপনের আগের বোর্ড পপুলাস নামের অস্ট্রেলিয়ান একটি প্রতিষ্ঠানকে স্টেডিয়াম নির্মাণের পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছিল। তাদের সঙ্গে কথা বলেই যত দ্রুত সম্ভব মাঠের কাজ শুরু করতে চান ফারুক, ‘আমি আগেই উল্লেখ করেছি, কনসালটেন্সিতে আমাদের টাকা ইনভেস্ট হয়েছে। ওটাকে ধরেই বড় কোনো পরিবর্তন না করে…আপনি তো এক দিনে সব করতে পারবেন না। মাঠ, ড্রেসিং রুম…আমি ওদের প্ল্যানটা পুরোপুরি দেখিনি। এটা নিয়ে আমার কথা বলাটাও ঠিক হবে না। ওই প্ল্যানটা দেখে, ড্রইং দেখে ওদের সাজেশন অনুযায়ী আমরা প্রথমে মাঠ করার চেষ্টা করব।’
২০৩১ সালে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক বাংলাদেশ। সেই বিশ্বকাপে এই স্টেডিয়ামে ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে এটা নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাননি বিসিবি সভাপতি, ‘ফ্যাসিলিটি ভালো হলে কেন না? আমরা চাই সেরা মাঠে সেরা খেলা হোক। গ্যালারি না থাকলেও মাঠ, উইকেট, ড্রেসিং রুম ভালো হলে আমরা করতে পারি। এটা (২০৩১ বিশ্বকাপ) অনেক দূরের বিষয়। পরবর্তী বিসিবি নির্বাচনের এক বছর সময় আছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য টার্গেট করে কাজটা করা সহজ হবে।’