প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ২০:১৭ পিএম
ইউএসওপেন থেকে দ্রুত বিদায়ের পর নিজের সমালোচনা করেছেন জোকার— সংগৃহীত ছবি
কার্লোস আলকারাজের পর ইউএস ওপেনে আরেকটি অঘটন। এবার শিকার হয়েছেন নোভাক জোকোভিচ। বছরের শেষ গ্র্যান্ডস্লামে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি সময়ের দুই আলোচিত পুরুষ টেনিস তারকা। সার্বিয়ান মহাতারকা জোকার থেমেছেন তৃতীয় রাউন্ডেই। দ্রুততম বিদায়ের কারণে রেকর্ড ২৫টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল ৩৭ ছাড়ানো কিংবদন্তির। অলিম্পিকে এবছর সোনা জিতলেও কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা হয়নি জোকারের। ২০১৭ সালের পর এমন বছর দেখেননি তিনি। গত বছরও তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন।
গতকাল শনিবার আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে র্যাঙ্কিংয়ের ২৮ নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ান অ্যালেক্সেই পপিরিনের বিপক্ষে ৩-১ সেটে হারেন জোকোভিচ। প্রতিপক্ষের কাছে ছেলেদের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দুইয়ে থাকা তারকাকে হারতে হয়েছে ৪-৬, ৪-৬, ৬-২ ও ৪-৬ সেটে। এদিন নিজের হারের ভাগ্যও যেন জোকার নিজেই লিখেছিলেন। ম্যাচে ১৪টি ডাবল ফল্ট করেননি। চলতি বছরে তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামে মুখোমুখি হয়েছিলেন জোকোভিচ এবং পপিরিন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং উইম্বলডনে হেরে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার টেনিস তারকা। তবে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লামে ভুল করেননি।
কোর্টে ভুল শট, মন্থর গতি, সর্বপরি হারের কারণ হিসেবে ক্লান্তিকে দুষেছেন জোকোভিচ, ‘(অলিম্পিকে) সোনা জয়ের সেই প্রক্রিয়ায় প্রচুর প্রাণশক্তি ক্ষয় হয়েছে। নিউইয়র্কে যখন আসি, শারীরিক ও মানসিকভাবে তরতাজা ছিলাম না। তারপরও, ইউএস ওপেন বলেই ভেবেছি যে চেষ্টা করেই দেখি। সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছি। শারীরিক কোনো সমস্যা বা চোট ছিল না। স্রেফ অনুভব করছিলাম, ভেতরে কোনো শক্তি অবশিষ্ট নেই এবং যেভাবে খেলেছি, তাতেই তা ফুটে উঠেছে।’
নিজের পারফরম্যান্সকে ‘ভয়ানক’ বলে ৩৭ বর্ষী তারকা সমালোচনা করেছেন নিজের, ‘গতিময় সারফেসে যদি সার্ভ উধাও হয়ে যায়, ফ্রি পয়েন্টস আদায় করা না যায়, এত ডাবল ফল্ট হয়, তাহলে ম্যাচ জেতা যায় না। আমার জন্য ভয়ানক বাজে ম্যাচ ছিল। এবার আসলে এখানে প্রথম ম্যাচ থেকেই কোর্টে নিজেকে খুঁজে পাইনি। অনেক বেশি কিছু চেষ্টা করেছি। এটাও কখনও কখনও বড় সমস্যা। কারণ, মৌলিকত্ব থেকে সরে গেছি।’
জোকোভিচের বিপক্ষে চার বার খেলে এই প্রথম জেতেন পপিরিন। তাই স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত অজি টেনিস তারকা, ‘অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং উইম্বলডনে লড়াই হয়েছিল (জোকারের বিপক্ষে)। ওই ম্যাচগুলোতে সুযোগও পেয়েছিলাম। কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। এই ম্যাচটা আলাদা ছিল। সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছি। ভাল টেনিস খেলেছি। অন্তত ১৫ বার গ্র্যান্ড স্ল্যামের তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছি। কিন্তু কখনও জিততে পারিনি। প্রথম বার সেটা পারলাম। তা-ও আবার সর্বকালের সেরা টেনিস খেলোয়াড়কে হারিয়ে। এটা অবিশ্বাস্য। পরিশ্রমের দাম পেলাম।’