রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ১৮:৩৭ পিএম
আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ১৯:৪৬ পিএম
মিরাজের আগে তাসকিনের তোপ সামলেছে পাকিস্তান— সংগৃহীত ছবি
সময় নিচ্ছিলেন আবদুল্লাহ শফিক। তাসকিন আহমেদের দিনশুরুর ওভারের পাঁচটি বল দেখেশুনে ডিফেন্স করলেন। কিন্তু এতদিন পর সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফেরা তাসকিনের তর সইছিল না। ওভারের শেষ বলটি গোলা হয়ে সুইং করালেন, ভেতরের দিকে বাঁক খেয়ে ভেঙে দিল স্ট্যাম্প। রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় দিনের প্রথম ওভারের সেই উদযাপন ক্ষণে ক্ষণে দিক হারালেও রঙ বদলায়নি। তাসকিনের আগুনে দিনে স্পিন ভেলকি দেখিয়ে রঙিন করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগিয়েও পাকিস্তান তাতে প্রথম ইনিংসে থেমেছে ২৭৪ রানে। দিনের শেষটাও এসেছে বাংলাদেশের পক্ষে। কোনো ভুল না করেই বাংলাদেশ শোধ দিয়েছে ১০ রান।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলার দ্বিতীয় দিনে হয় টস। বৃষ্টির কারণে পণ্ড হয় টেস্টের প্রথম দিন। আগের ম্যাচে এখানেই ইতিহাস গড়া নাজমুল হোসেন শান্তদের পক্ষে আসে শনিবারের টসভাগ্য। বোলিং নিয়ে তাসকিনের সেই তাণ্ডব আর মিরাজের ভেলকি। পাকিস্তানের তিন ব্যাটার ফিফটি পেয়েছে, তবে আড়াইশ ছাড়িয়ে বেশিদূর যেতে পারেনি। দিন শেষে বাংলাদেশের দুই ওপেনার প্রথম ইনিংসে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশ এখনও স্বাগতিকদের থেকে প্রথম ইনিংসে ২৬৪ রান পিছিয়ে।
দিনের শুরু সন্ধ্যার কথা বলে— এমন একটা প্রবাদ আছে। তাসকিনরা সেটির প্রমাণ দেখিয়েছেন। তবে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই উইকেট হারানো পাকিস্তান দ্বিতীয় উইকেটে ভুগিয়েছে। ১০৭ রানের জুটিতে তিনে নামা শান মাসুদ হয়ে উঠেছিলেন টাইগারদের ত্রাস। ফিফটি করা সাইম আইয়ুবও স্কোর বাড়াচ্ছিলেন। দুজনকেই স্পিন ঘূর্ণিতে বোকা বানিয়েছেন মিরাজ। শতরানের পর সেই শুরু এবং শেষটাও আসে মিরাজের হাত ধরে। মাঝে বাবর আজমকে বোকা বানান সাকিব আল হাসান। নাহিদ রানা গতিতে পরাস্ত করেন পাকিস্তানের অন্যতম ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। দিনের বাকি দৃশ্যপটে কখনও মিরাজ কখনও তাসকিন। মিরাজের নাম আসে আবার পাঁচবার। পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশি হিসেবে মিরাজই তৃতীয় কেউ, যিনি এক ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারে গতকাল টাইগার অফস্পিনার পেয়েছেন দশম ফাইফারের দেখা। স্বাগতিকদের অধিনায়ক মাসুদকে ৫৭ রানে ফেরানোর পর আরেক হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইমকে থামান ৫৮ রানে। মিরাজের বাকি তিন শিকার— খুররাম শেহজাদ (১২), মোহাম্মদ আলী (২) ও একদম শেষে বোকা বানান আবরার আহমেদকে (৯)। মিরাজ খরচ করেছেন ৬১ রান। টাইগার স্পিনারের আগে পাকিস্তানের পেশোয়ারে মোহাম্মদ রফিক ১১৮ রানে ৫ উইকেট ও মুলতানে মোহাম্মদ রফিক ৩৬ রানে পেয়েছিলেন ফাইফার। ২০০৩ সালের পর এবার রাওয়ালপিন্ডিতে মিরাজ ঘুচিয়েছেন ফাইফারের আক্ষেপ।
ফাইফার নিয়ে দিনটি মিরাজের হলেও দিনের দাবি করতে পারেন তাসকিন। বিশেষ করে তার প্রত্যাবর্তন এবং ফেরার শুরুতে উদযাপন। শফিকের স্ট্যাম্প ওড়ানোর সেই বোলিং দেখে বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেই দিয়েছেন, ‘আমরা ওখানে এগিয়ে আছি।’ পূর্বাচলে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে ফাহিম বলেছেন, ‘জয় নিয়ে অবশ্যই আশাবাদী। তাসকিন যেভাবে বলে সুইং করাল, ইন কাটারে বোল্ড করল দেখেছি। অবশ্যই সে অভিজ্ঞ বোলার। টেস্ট ম্যাচ তো ওরা চেষ্টা করবে একটা ম্যাচ জিতে সিরিজ ড্র করার জন্য, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা এগিয়ে আছি। যে ধরনের মানসিকতা নিয়ে আমরা এখন খেলছি এই টেস্টে ভালো করার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।’
সেই সম্ভাবনার পারদে আশার পারদ চাপিয়েছে গতকালের শেষ বিকেল। কোনো উইকেট না হারিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। যদিও মোটে দুই ওভার খেলতে পেরেছেন টাইগারদের দুই ওপেনার। সাদমান ইসলাম আজ রবিবার ৬ রান থেকে ব্যাট করবেন, জাকির হাসান এখনও রানের খাতা খোলেননি। তৃতীয় দিনে ২৬৪ রান পেছনে থাকা বাংলাদেশ বোলিংয়ের ব্যাটিংয়েও দিনটা রাঙাতে চায়। রাওয়ালপিন্ডির আজকের আকাশও বেশ পরিস্কার। বৃষ্টির শঙ্কা কিংবা সম্ভাবনা নেই। তারউপর সফরকারী বাংলাদেশের জন্য সুখবর— ব্যাট করতে প্রস্তুত রয়েছেন মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তানের ইনিংসের ৫৩তম ওভারের সময় চোট পেয়েছিলেন মুশফিক। মিড অফে ডাইভ দিয়ে বল ঠেকাতে গিয়ে আঘাত পান মুশফিক।
পরে তাকে মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলেও পরক্ষণেই বোঝা যায় খেলা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থায় নেই মিস্টার ডিপেন্ডেবল। ফিজিওকে নিয়ে কাঁধ চেপে পরে মাঠ ছাড়েন মুশফিক। তবে দিন শেষে জানা গেছে, ব্যাটিং করার জন্য ফিট আছেন মুশফিক। বোলিংয়ে আগের দিন বাংলাদেশের ডাগআউটে স্বস্তি এনে দেওয়ার পর মুশফিকের ফেরা নিশ্চয়েই খুশির। আগের ম্যাচের তার ১৯১ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ পেয়েছিল ঐতিহাসিক জয়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ পাখির চোখ করে রেখেছে চলতি টেস্টও। যার প্রমাণ গতকাল মাঠেই দিয়েছেন মিরাজ-তাসকিন। এবার মুশফিক-লিটনদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার সময়।