প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ২২:২৭ পিএম
বৃহস্পতিবার সাফ অনুর্ধ্ব-২০ এর ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরে বাংলাদেশ দল। ছবি : আ. ই. আলীম
বয়সভিত্তিক সাফে বেশ কয়েক বছর ধরেই দুর্দান্ত বাংলাদেশের ফুটবলাররা। সেটি ছেলেদের খেলায় হোক কিংবা মেয়েদের। এ বছরই মেয়েদের জুনিয়র সাফে দুটি শিরোপা (অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-১৬) ঘরে তুলেছে বাংলাদেশ। ছেলেদের বয়সভিত্তিক পর্যায়েও ছিল দারুণ অর্জন। কেবল অনূর্ধ্ব-২০ সাফের একটি শিরোপার আক্ষেপ ছিল এতদিন। সেই অধরা ট্রফিটাও দেশকে উপহার দিয়েছেন মিরাজুল ইসলামরা। বীরের বেশে ট্রফি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন সাফজয়ী নায়করা।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন সাফ চ্যাম্পিয়নরা। তবে উদযাপন ছিল অনাড়ম্বর। দেশে বন্যা পরিস্থিতির কারণে খেলোয়াড়রাই চাননি বড় কোনো আয়োজন হোক। ট্রফি জয়ের পরই তারা স্মরণ করেছিলেন বানভাসি মানুষদের এবং গত জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদদের। দেশে ফেরার পরও কোচ মারুফুল হক থেকে শুরু করে সাফজয়ী খেলোয়াড়রা স্মরণ করলেন তাদের।
এই শিরোপা জয়কে বিশেষ কিছু বলে মনে করছে বাংলাদেশ শিবির। কোচ মারুফুল হকের কথায়, ‘সাফের যাত্রা সত্যি দারুণ ছিল। দেশ ছাড়ার আগে আমরা বলেছিলাম চ্যাম্পিয়ন হব এবং ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরব। খেলোয়াড়দের ওপর আত্মবিশ্বাস ছিল।’ ট্রফি জেতা ছাড়াও কিছু বিষয় তাকে তৃপ্তি দিয়েছে বলে জানান কোচ, ‘যখন একটা দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উচ্চ স্তরে থাকে এবং দলের সাফল্যে কোনো মুকুট যোগ হয়, তখনই আসলে একজন কোচ তৃপ্তি পায়। সেক্ষেত্রে বলব আমি তৃপ্ত, ছেলেরা অনেক পরিশ্রম করেছে, তারা ট্রফি জিতেছে, দেশের সম্মান বৃদ্ধি করেছে। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেদের মধ্যে যে খুশির ভাব দেখেছি সেটাই আমাকে তৃপ্ত করেছে। দেশের এমন পরিস্থিতিতে (বন্যা) দেশবাসীও যেভাবে আনন্দ করেছে, উল্লাস করেছে সেটা দেখে আমি তৃপ্ত।’

কোচের মতোই আনন্দিত বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। এই গোলরক্ষক জানান, ‘এই ট্রফিটা অধরা ছিল। অবশ্যই এখন এই ট্রফি আমাদের, তরুণ খেলোয়াড়দের, সংগঠকদের এবং দেশবাসীকে উজ্জীবিত করবে।’ সাফের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ফাইনালের নায়ক মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফাইনাল নয়, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য বেশি কঠিন ছিল। তার কথায়- ‘ওই দিনটা (ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল) বোঝানোর মতো নয়। আসলে আমরা নিজেদের জন্য খেলি নাই, দেশবাসীর জন্য খেলেছি। ওরা আমাদের যেভাবে কষ্ট (বন্যার পানিতে) দিয়েছে, আমরাও চেয়েছি ওদের বের করে দিয়ে (টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়ে) কষ্ট দেব।’

ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আঘাত পান দলের প্রথম গোলরক্ষক শ্রাবণ। বিরতির পর বদলি হিসেবে নামেন আসিফ হোসেন। যদিও দল তখন এক গোলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ভারতের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে অবিচল ছিলেন এই গোলরক্ষক, ‘আসলে যখন আমি মাঠে নামলাম (ভারতের বিপক্ষে) তখন দল অনেক চাপে ছিল। তখন ভাবলাম নিজেকে যত পারি চাপমুক্ত রাখি এবং নির্ভার থাকি। এরপর একটা গোল হজম করলাম, পরে তো ম্যাচটা টাইব্রেকারে গেল। তখন আমি আমার সতীর্থদের বলেছি- তোমরা পাঁচটা শট ওকে কর, আমি ওদের এক-দুইটা সেভ করব।’ এবারের প্রতিযোগিতায় সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে বলেন, ‘এর আগে এই ট্রফিটা আমি জিকো (আনিসুর রহমান) ভাইকে পেতে দেখেছি। এ ছাড়া দেশের বাইরে মার্তিনেজকে (এমিলিয়ানো) দেখেছি। তো আমি পুরস্কারটা পেয়ে খুশি।’