সাফ অ-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৪ ১০:০৭ এএম
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪ ১১:০০ এএম
ফাইনালের আগে ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনে বাংলাদেশ ও নেপালের অধিনায়ক। ছবি : বাফুফে
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের সবশেষ আসরের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ হয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের। এবার সেই ভারতকেই দর্শক বানিয়ে চতুর্থবারের মতো শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে লাল-সবুজের দল। লক্ষ্য এবার চ্যাম্পিয়ন এবং পুরোনো ক্ষতের প্রতিশোধ নেওয়ার। কেননা ফাইনালে আজ বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক নেপাল। যাদের বিপক্ষে ২০১৭ সালের ফাইনাল হেরেছিলেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ কি এবার পারবে ট্রফি ছিনিয়ে আনতে? নেপালের ললিতপুরের আনফা কমপ্লেক্সে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে। খেলাটি সরাসরি দেখা যাবে ইউটিউবে।
ফাইনাল জিততে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। কতটা? মারুফুল হকের শিষ্যরা তার ছাপ রেখেছেন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। যেখানে কোচের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণকে হারিয়েও ভেঙে পড়েনি দল। টাইব্রেকারে দুর্দান্ত দুটি সেভের কল্যানে ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। ম্যাচের নায়ক বনে যান বদলি গোলরক্ষক হিসেবে নামা মোহাম্মদ আসিফ। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) এলিট একাডেমি থেকে উঠে আসা এই গোলরক্ষক থাকছেন ফাইনালেও। কেননা মাথায় আঘাত পাওয়া শ্রাবণ ফাইনালে থাকছেন না, সেটি আগেই জানিয়ে দিয়েছেন কোচ।

শ্রাবণের না থাকায় অবশ্য খুব বেশি চিন্তিত নন মারুফুল হক। তাকে আশ্বস্ত করেছেন আসিফই। সেমিফাইনালে জিতেই বলেছিলেন তিনি সবকিছুর জন্য প্রস্তুত ছিলেন। যদিও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলার কথাই ছিল না তার। কিন্তু শ্রাবণের ইনজুরিতে কপাল খুলে আসিফের। আর যেকোনো পরিস্থিতিতে মাঠে নামার প্রয়োজন হতে পারে এবং সেজন্য প্রস্তুত থাকার কথা খেলোয়াড়দের আগেই জানিয়েছিলেন কোচ। সেটি মেনেই আসিফরা ছিলেন প্রত্যয়ী। গত সোমবার ম্যাচপরবর্তী বাফুফেকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেছেন, ‘আমরা ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। যারা খেলবে বা যারা বেঞ্চে থাকবে, সবাই। মাঠে নামলেই যেন নিজেদের মেলে ধরতে পারি, প্রস্তুতিটা সে কারণেই। ম্যাচটা যেকোনো মূল্যে জিততে চেয়েছিলাম। তাই মাঠে ও বেঞ্চের সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম।’
গোলরক্ষক আসিফের ওপর ভরসা রাখছেন ফাইনাল ম্যাচে অধিনায়কত্ব পাওয়া আশরাফুল হক আসিফ। ফাইনালের আগের দিন গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অধিনায়ক শ্রাবণ নেই। ওর শূন্যতা পূরণ করতে আসিফ (দলের দ্বিতীয় গোলরক্ষক মোহাম্মদ আসিফ) আছে। ও ভালো খেলোয়াড়। এ ছাড়া আরও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দলে আছে, আশা করি কোনো সমস্যা হবে না।’

ভারতবধের পর এবার যুবাদের লক্ষ্য ফাইনাল জেতা। দেশ ছাড়ার আগেও দলের কাছে কোচের চাওয়া ছিল এমনই। আগের দুই হারের কথা মাথায় রেখেই এবার আরও বেশি শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে নেপালে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন দলটির খেলোয়াড়রা। তা ছাড়া এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা তাদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপাড়া। অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে খেলছেন এই দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার। লিগে তাদের সেই বোঝাপাড়া নিয়েই পাড়ি জমান নেপালে। ফাইনাল জিততে আর এক ধাপ দূরে বাংলাদেশ। তবে সেমিফাইনালে কামাচাই মারমাকে হারিয়ে কিছুটা বিপাকে বাংলাদেশ। আগের তিনটি ম্যাচেই যিনি খেলেছেন। কাঠমান্ডুর পরিবেশের সঙ্গেও যিনি মানিয়ে নিয়েছিলেন বেশ। তবে কোচ মারুফুল হক মনে করেন, তার দলে যেই আসুক, অবদান রাখবে। ‘তার জায়গাতে যে-ই আসবে আশা করি ভালো খেলবে। রিকভারি প্রসেস নিয়ে যদি বলি, এখানে এখন পর্যন্ত আইস বাথ আমরা পাইনি। জানি না এখানে সেটা কেন নেই। পেলে ভালো হতো। তারপরও আমরা যেভাবে পেরেছি খেলোয়াড়দের শতভাগ রিকভারি করানোর চেষ্টা করেছি।’
গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ পড়েছিল শ্রীলঙ্কা ও নেপালের সঙ্গে। যেখানে লঙ্কানদের হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিতের পর ২-১ ব্যবধানে বাংলাদেশি যুবাদের হার মানতে হয়েছিল স্বাগতিকদের বিপক্ষে। এবার ফাইনালে ফের নেপালকে পেয়ে মারুফুল হক বলেছেন, ‘আমরা নেপালকে যখন গ্রুপপর্বের ম্যাচে খেলেছি, মনে হয়েছে তারা ৮০ শতাংশ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। ফাইনালে অবশ্যই তারা শতভাগ দিয়ে খেলবে। ট্যাকটিকসে তারা অবশ্যই নতুন কিছু করার চেষ্টা করবে। তারপরও বলব ফাইনালে অবশ্যই আমরা তাদের হারাতে পারি। সেক্ষেত্রে আমাদেরও শতভাগ দিতে হবে। আমরাও ট্যাকটিকসে পরিবর্তন আনতে পারি।’

এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে ভুটানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে নেপাল। পরে ফাইনালে নিজেদের প্রতিপক্ষে কে হচ্ছে- সেজন্য তারা চোখ রেখেছে বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচে। যেখানে ভারতকে হারায় বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশকে সমীহ করছেন নেপালের কোচ উরজান শ্রেষ্ঠ। ফাইনাল পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে তাদের সেরাটাই খেলতে হবে, ‘আমরা দেখেছি বাংলাদেশ টপ ফর্মে আছে। সবশেষ ম্যাচে তারা ভারতের বিপক্ষে দারুণ খেলেছে। তবে আমরাও প্রস্তুত, ছেলেরা সেরা দিতে পারলে আমাদেরও ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করি, ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ্য হবে।’