প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৪ ১৭:৫৬ পিএম
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪ ১৮:১৩ পিএম
অক্টোবরে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নিরাপত্তা ইস্যুতে আসরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তন হলেও নিগার সুলতানা জ্যোতিদের অবশ্য প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ‘এ’ দলের ব্যানারে আগামী মাসে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে জাতীয় দলের ক্রিকেটার। যা বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ইতিহাসে প্রথম কোনো ‘এ’ দলের বিদেশ সফর।
এদিকে ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি
ফরম্যাটে মেয়েদের জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল)। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে
ও বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট অ্যাকাডেমি মাঠে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ৮ দলের এই টুর্নামেন্ট।
এরপর ৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে
‘এ’ দল। সেখানে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি ওয়ানডে খেলবেন
টাইগ্রেসরা।
বৃহস্পরিবার (২২ আগস্ট) মিরপুরে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির নারী বিভাগের হেড অব অপারেশনস হাবিবুল বাশার সুমন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপকে ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। মেয়েদের ওয়ান টু ওয়ান অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। এনসিএলটা আমাদের প্রস্তুতির অংশ। তারপর আমরা শ্রীলঙ্কাতে এ দল পাঠাব। সেটাও আমাদের প্রস্তুতির অংশ।’

গত মঙ্গলবার এক বোর্ড মিটিংয়ে বিশ্বকাপের
ভেন্যু বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেয় আইসিসি। সূচি অনুযায়ী, ৩ থেকে ২০ অক্টোবরই আমিরাতের
দুই শহর দুবাই ও শারজায় হবে মেয়েদের ১০ দলের এই আইসিসি ইভেন্ট। ‘এ’ গ্রুপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী
ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে থাকছেন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মেয়েরা। আর
‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ডের
মেয়েরা।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেঙে
যাওয়ায় হতাশ বাংলাদেশ নারী দলের ক্রিকেটাররা। সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুল বাসারও জানালেন
বিশ্বকাপে চেনা কন্ডিশনকে মিস করার কথা। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ না হওয়ায় যেটা হলো, সবারই
ইচ্ছা থাকে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলা। মেয়েদের অনেকেরই সে স্বপ্ন ছিল। এ জন্য ওরা একটু
হতাশ। আমরা অবশ্যই ঘরের মাঠের কন্ডিশন মিস করব।’
রাজশাহীতে জাতীয় লিগ দিয়ে বিশ্বকাপের
প্রস্তুতির ব্যাপারে হাবিবুল বলেছেন, ‘রাজশাহীতে উইকেট ভালো। মেয়েরা যেন ভালো উইকেটে
খেলতে পারে, স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে পারে, আমরা এটাই চাই। আর এ সময় যেহেতু বৃষ্টির
সময়, রাজশাহীর দিকে বৃষ্টিটা একটু কম হয়। দুটি মাঠ পাওয়া যায়। টুর্নামেন্টটা শেষ করতে
হবে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। এটা যেহেতু আমাদের বিশ্বকাপ প্রস্ততির অংশ। এ জন্যই
রাজশাহীতে খেলা দেওয়া।’ পরে যোগ করেন, ‘যাদের নিয়ে বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করব, তাদের
নিয়েই “এ” দলটা সাজাব।’
সংবাদ সম্মেলনে উঠেছে বিসিবির নতুন সভাপতি ফারুক আহমেদের প্রসঙ্গও। এর আগে তার নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে হাবিবুলের। নতুন বোর্ড সভাপতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সুমন বলেন, ‘ফারুক ভাইয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, তিনি ভেতর-বাহির দুটিই জানেন। ক্রিকেটটা খেলেছেন। নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। বোর্ডের সঙ্গেও কাজ করেছেন। পরে অনেক কিছু দেখেছেন। তিনি ভেতর-বাহিরের সবকিছু জানেন। এটা অনেক বড় সুবিধা।’
তবে ফারুক যে জাদুর ছড়ি নিয়ে বিসিবিতে
আসেননি যা রাতারারি বদলে দিবে সব, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন বাশার। তিনি বলেন, ‘উনাকে
একটু সময় দেওয়া উচিত। উনি নিশ্চয়ই জাদুর ছড়ি নিয়ে আসেননি যে এসেই সব ঠিক করে ফেলবেন।’