প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৪ ২১:১১ পিএম
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৪ ২১:১৩ পিএম
বুধবার বিকালে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নতুন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। আ. ই. আলীম
প্রায় এক যুগ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বুধবার পদত্যাগ করেছেন নাজমুল হাসান পাপন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিসিবির এক জরুরি সভায় একই দিনে বরণ করে নেওয়া হয় বিসিবির নতুন সভাপতি ফারুক আহমেদকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর সভায় উপস্থিত বিসিবি পরিচালকদের সামনে বক্তৃতা দেন বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক। সেখানে তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে দেশ ও দেশের ক্রিকেটকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন। তার অধীনে বোর্ডে আসবে আরও কিছু পরিবর্তন।
অতীতের কথা চিন্তা না করে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে চান নতুন বিসিবি সভাপতি। তার কথায় ছিল দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়। বোর্ড সভাপতি হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘চেষ্টা করব সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে। একটা জিনিস সবাইকে মাথায় রাখতে হবে, সবার আগে যদি দেশটার কথা চিন্তা করি, এরপর বাংলাদেশ দল, তাহলে কিন্তু অনেক জিনিস সহজ হয়ে যাবে। কী হয়েছে না হয়েছে, আমরা সবাই জানি। এখন ভাবতে হবে আজকে ও ভবিষ্যতের কথা।’ নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘লক্ষ্য তো অনেক বড়। প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য দেশের সম্মান বৃদ্ধি করা, দেশের মুখ উজ্জ্বল করা। পাশাপাশি দলকে একটা জায়গায় দেখতে চাই।’
নতুন বোর্ড সভাপতির সংবাদ সম্মেলনের হাইলাইটস
• গুরুত্ব পাবে দেশ ও দেশের ক্রিকেট
• হাথুরুকে রাখতে চান না ফারুক
• কোচিংয়ে আসতে পারে স্থানীয় কোচ
• তামিমকে মাঠে নয়তো বোর্ডে চান নতুন সভাপতি
• সাকিবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে বিসিবির বোর্ডসভায়
বুধবার বিকালে এরপর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ফারুক। যেখানে উঠে আসে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানদের প্রসঙ্গ। ছিল প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুকে নিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়টিও। এর আগে গত রবিবার একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি সমালোচনা করেছিলেন হাথুরুর। বোর্ডে শ্রীলঙ্কান কোচের থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। এবার তো সভাপতিই হয়ে গেলেন ফারুক। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের সেই কথায় অটুট থাকবেন কি না, জানতে চাইলে হাথুরু বলেন, ‘হাথুরুসিংহের চুক্তি কত দিন আমি আসলে জানি না। তবে আমি আমার আগের অবস্থানেই আছি। এখন যেহেতু দায়িত্ব পেয়েছি, আমি বিকল্প খুঁজব। তার চাইতে ভালো কাউকে পাই কি না, কাছাকাছি মানের কাউকে পাওয়া যায় কি না, এসব দেখব।’
গেল বছর ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে হঠাৎ করেই অবসর নেন তামিম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায় অবসর ভেঙে দলে ফিরলেও মাঠের খেলায় আর সেভাবে তাকে দেখা যায়নি। তামিমের মাঠে ফেরা কিংবা অবসরের আলোচনাটা একটা রহস্যই হয়ে রয়েছে। গত সোমবার নতুন করে বাঁহাতি ওপেনার আলোচনায় এসেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে বিসিবিতে আসায়। ক্রিকেটপাড়ায় গুঞ্জন উঠেছেÑ বোর্ডে বিশেষ কোনো দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন দেশসেরা ওপেনার। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ফারুক বলেন, ‘আপনি যদি আমাকে বলেন আমি দেখতে চাই তামিম আরও দুই-তিন বছর খেলবে। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আমার ব্যক্তিগত অভিমতে কিন্তু কিছু যায় আসে না। ওর ফিটনেস থাকতে হবে, দলে আসতে হলে কী করতে হবে; যে দিকগুলো আছে। সভাপতি হিসেবে অফ দ্য রেকর্ড যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি কিন্তু দেখতে চাই আরও দুই বছর ক্রিকেট খেলুক। আমি চাই আরকি। মনে হয় ৫০ ওভার বেস্ট। লঙ্গার ভার্সন সবচেয়ে ভালো হতো অভিজ্ঞতাসহ, কিন্তু এটার যে কষ্ট হয়তো ওর শরীর নিতে পারবে না। আমি জানি না। এটা তামিমই বলতে পারবে। খুব ভালো হয় যদি ও খেলতে পারে। আর যদি খেলতে না পারে, বোর্ডে আসে তাহলে আমি খুব খুশি হব। কারণ আপনি দেখেন, তামিম আমার অন্তত বিশ বছরের ছোট হবে; যদি বেশি না হয়। কাছাকাছি হয়তো। সে সাবেক অধিনায়ক, তার মানে তার লিডারশিপ কোয়ালিটি আছে। এক্ষেত্রে কিন্তু খেলোয়াড়ের চিন্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তামিম কী চিন্তা করছে? প্রথমে এদিক-সেদিক না ঘুরিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা দরকার। তামিম খুব সেন্সিবল ছেলে।’
সাকিবকে নিয়ে ফারুক বলেন, ‘সাকিবের ব্যাপারে পলিসি কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলাপ করব। সাকিব এখন যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থা সে চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করব। আমাদের এখন দুটি টেস্ট ম্যাচ আছে। তারপরে কী হবে, সেটা তখন বোর্ডের একটা পলিসির ব্যাপার হবে। এখন যদি বোর্ড থেকে বলে দেওয়া হতো যে তাকে (সাকিব) দলে নেওয়া হবে না, তাহলে সেটা পলিসির ব্যাপার হতো। তখন সেই দায়টা বোর্ডের ওপর আসত। সাকিব বাইরে ঘুরে ঘুরে খেলতে পারবে কি না, সেটা একটা ব্যাপার। সেটা আমরা ভালোভাবে দেখব।’