প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪ ২১:১৩ পিএম
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৪ ২১:১৪ পিএম
দীর্ঘ তিন বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান।
সীমিত ওভারের দুই সংস্করণে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সৌভাগ্য হলেও গত ২৩ বছরে টেস্টে
জয়ের স্বাদ পায়নি টাইগাররা। দুই দলের ১৩টি টেস্টের মধ্যে ১২টিতে জিতেছে পাকিস্তান,
একটি টেস্ট ড্র করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। অতীতের পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ হলেও আত্মতুষ্টিতে
নেই পাকিস্তান। বরং নাজমুল হোসেন শান্তদের বেশ সমীহ করছেন ম্যান ইন গ্রিনরা।
রাওয়ালপিন্ডিতে বুধবার বেলা ১১টায় মাঠে গড়াবে দুই ম্যাচ সিরিজের
প্রথম টেস্ট। সিরিজ শুরুর আগে আজ মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে নিয়ে
সমীহের সুরেই কথা বলেন পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক শান মাসুদ, ‘আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে
কোনো দলকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। প্রত্যেকেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। যেকোনো প্রতিপক্ষ
আপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। আমরা আমাদের শক্তিমত্তায় মনোযোগ রাখছি।’
চলতি বছরে কেবল মাত্র একটি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। আর সবশেষ সিরিজে
অস্ট্রেলিয়ার কাছে টেস্ট সিরিজ হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে। তবে অতীতের ফল ভুলে বাংলাদেশের
বিপক্ষে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য মাসুদের, ‘দিন শেষে এটা টিম গেম, একার কারও পক্ষে সম্ভব
নয়। তাই আমরা দল হিসেবে কীভাবে খেলছি এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জয়-পরাজয়ের দিকে
তাকাতেই পারি। অস্ট্রেলিয়ায় হয়তো আমরা ম্যাচ জিতিনি। তবে এমন অনেক কিছু ওখানে করেছি
যা ঠিক ছিল।’
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল পাকিস্তানের অবস্থান এখন
৬ নম্বরে। তবু ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছেন পাক অধিনায়ক, ‘দল হিসেবে আমরা ঠিক পথেই
এগোচ্ছি। আমরা এবার ফাইনাল খেলতে চাই। এজন্য ঘরের মাঠে আমাদের যত বেশি সম্ভব ম্যাচ
জিততে হবে। তাই ভালো খেলতে হবে, উদ্দীপ্ত ক্রিকেট খেলতে হবে। শুধু সমর্থকদের জন্য নয়,
আমাদের জন্যও। আমরা অবশ্য সব সংস্করণেই সেরা ক্রিকেট খেলতে চাই।’
রাওয়ালপিন্ডির উইকেট পেসবান্ধব হওয়ায় এরই মধ্যে চার পেসার নিয়ে একাদশ
ঘোষণা করে দিয়েছে পাকিস্তান। মাসুদ জানান, রাওয়ালপিন্ডির পিচ কন্ডিশনের কথা বিবেচনা
করে এমন সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘রাওয়ালপিন্ডিতে যখনই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছি, কন্ডিশন
পেসার এবং ব্যাটারদের পক্ষে ছিল। স্পিন বোলিং বড় কোনো ভূমিকা রাখেনি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও
নতুন কিছু প্রয়োগ করার চিন্তা করি না, সাধারণত যা আমরা রাওয়ালপিন্ডিতে পাই না। যে কন্ডিশন
সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করে এগিয়ে যেতে চাই।’
লিটন দাসকে ‘টপ কোয়ালিটি প্লেয়ার’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং
ইউনিটকেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক, ‘আমার অন্যতম পছন্দের খেলোয়াড়
লিটন দাস। টপ কোয়ালিটি প্লেয়ার। শুধু লিটনই নন, সাকিব, মুশফিক, মুমিনুলের মতো ক্রিকেটার
আছে যারা অনেক অভিজ্ঞ, অনেক ম্যাচ খেলেছে। টেস্ট ক্রিকেটে এই অভিজ্ঞতাটাই আপনাকে সহায়তা
করবে। বোলিং অ্যাটাক তরুণ হলেও এখানেও প্রতিভাবানরা আছে। তাসকিন এই ম্যাচে নেই, সে-ও
কোয়ালিটি বোলার। বাকিরাও কোয়ালিটি বোলার। দলটা ঠিক পথেই এগোচ্ছে।’