সাক্ষাৎকার
রুবেল রেহান
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪ ০০:৫৭ এএম
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৪ ১০:৪১ এএম
কিংবদন্তি সাবেক হকি তারকা রফিকুল ইসলাম কামাল। সংগৃহীত ছবি
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো একটা পালাবদল চলছে ক্রীড়াঙ্গনেও। গা ঢাকা দিয়েছেন বিভিন্ন ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। অভিভাবকশূন্যতায় বেশ কিছু ফেডারেশন। কথা উঠছে ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়েও। এসব বিষয় নিয়েই প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন কিংবদন্তি সাবেক হকি তারকা রফিকুল ইসলাম কামাল। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে ঢাকার প্রিমিয়ার লিগ হকিতে ৪০ গোল করেছিলেন তিনি। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের সেই রেকর্ডটি এখনও অক্ষুণ্ন।
প্রবা : হকি ফেডারেশনে আপনার উপস্থিতি গত ৪-৫ বছরে সেভাবে দেখা যায়নি। কয়েক বছর আগেও তো আপনি কমিটিতে ছিলেন।
রফিকুল ইসলাম কামাল : নির্বাচিত কমিটিতে এর আগেরবার আমি ছিলাম। পরবর্তী সময়ে মমিনুল হক সাঈদের কমিটিতে আমাদের রাখা হয়নি। আমার মতো অনেকেই আছে যারা আসলে রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। আমি মনে করি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকাটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা দেখেছেন এখন কমিটিতে অনেকেই আছেন যাদের কখনোই হকি খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আমরা আসলে সব সময় এসব ঝঞ্ঝাট থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করি। কারণ হকির উন্নয়নের জন্য কমিটিতে থাকতেই হবে, এমন মন-মানসিকতা আমার নেই। ফেডারেশনের বাইরে থেকেও আমরা কাজ করতে পারি, সেটাই আমার মনের মধ্যে থাকে সব সময়।
প্রবা : ক্রীড়াঙ্গনে এই রাজনৈতিক চর্চা কেন?
রফিকুল ইসলাম কামাল : বাংলাদেশের একটা সংস্কৃতি বা চর্চা বলতে পারি, যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলই দলীয়করণ করেছে। আমি মনে করি ক্রীড়াঙ্গনের মানুষদেরই ক্রীড়াঙ্গনে থাকা উচিত। রাজনৈতিক পরিচয় এখানে মুখ্য হওয়া উচিত নয়। দেখেন একজন খেলোয়াড় তার শ্রেষ্ঠ সময় সে খেলাধুলায় দিয়েছে, এমন না যে সেই ক্রীড়াবিদ এখান থেকে অনেক কিছু পেয়েছে। খুব অল্প কিছু ক্রীড়াবিদই সচ্ছল আছে, কিন্তু অধিক সংখ্যকরাই আর্থিক বা সামাজিকভাবে সেভাবে কিছু পায়নি। সেক্ষেত্রে ক্রীড়াবিদদের অবসরের পর তাকে স্বীকৃতিস্বরূপ যার যার নিজস্ব ফেডারেশনে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। এটা সংগঠকদের ক্ষেত্রেও একই। সবাইকে সবার সম্মানের জায়গাটা দিতে হবে, আসলে আমাদের দেশে এই চর্চাটা এখন উঠে গেছে।
প্রবা : এই চর্চাটা ফেরানোর উপায় কী বলে মনে করেন আপনি?
রফিকুল ইসলাম কামাল : স্পোর্টসে দলীয়করণ না করলেই অনেকটা হয়ে যায়। আমি বলব এখনও যদি ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন করে সাজাতে হয়, যারা ক্রীড়াঙ্গনের ব্যক্তি, যারা ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণ করেনি, তাদের মতো লোককে এখানে নিয়ে আসা উচিত। হোক তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, হোক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত; আমি বলব খেলার জন্য যে যোগ্য লোক, যারা খেলার জন্য কাজ করেছে, তাদের ফেডারেশনে কিছু করার সুযোগ পাওয়া উচিত।
প্রবা : শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হকির সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহসভাপতিও লাপাত্তা। একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে কাজ চালাচ্ছেন সভাপতি। সবকিছু গোছাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স।
রফিকুল ইসলাম কামাল : প্রথম কথা হচ্ছে, যেহেতু ফেডারেশনের টপ লেভেলের তিন-চারটা পদধারী যারা ছিলেন তারা এখন নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ফেডারেশনে আসাও আর সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবেই আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (আরিফুল হক) দায়িত্ব নেবেন। আপনারাই বললেন সে সবকিছু গোছানোর চেষ্টা করছেন। আমি মনে করি তাকে নিজেকেও গোছাতে হবে। তিনি যদি যাদের হকিতে অবদান আছে, যারা বিভিন্ন কারণে হকিতে বঞ্চিত হয়েছেন, আমার মনে হয় সবাইকে নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে একটি সুন্দর কমিটি গঠন করতে পারেন, সেটাই হকিটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে, হকি কিন্তু বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় একটি খেলা।
প্রবা : এ সপ্তাহেই একটি কমিটি দেওয়ার কথা কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন আরিফুল হক প্রিন্স। আর আপনি বললেন সবাইকে নিয়ে, সবার সঙ্গে কথা বলে একটা গ্রহণযোগ্য কমিটি দিলেই সেটা হকির জন্য ভালো। আপনি কি এ ব্যাপারে কিছু জানেন, বা আপনাকে ফেডারেশন থেকে ডেকেছে কি না; কারণ হকির নাম এলে কয়েকজনের মধ্যে আপনার নামও তো আসার কথা।
রফিকুল ইসলাম কামাল : ব্যক্তিগতভাবে আমি আসলে এসব থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করি। নিজে থেকে যেচে গিয়ে ফেডারেশনের হস্তক্ষেপ করার পক্ষপাতী না। তবে কেউ যদি মনে করে আমাকে দিয়ে হকিতে কোনো উপকার আসবে, কাজে আসবে এবং তারা যদি মনে করেন আমি যোগ্য, সেক্ষেত্রে প্রস্তুত আছি।
প্রবা : আপনার চোখে কারা যোগ্য
রফিকুল ইসলাম কামাল : বাংলাদেশের সেরা কোচ মামুনুর রশিদ আছেন, তাকে আপনি কোচিং প্যানেলে রাখতে পারেন। সাবেক খেলোয়াড় আলমগীর আলম আছেন, তপন ভাই (আবু জাফুর তপন), সাবেক খেলোয়াড় বায়জিদ হায়দার আছেন, যারা মাঠ থেকে উঠে এসেছেন; মনে হয় তাদের কাছ থেকে হকির অনেক কিছু পাওয়ার আছে।
প্রবা : আপনি জানেন বাংলাদেশ দলের জার্মানি সফর বাতিল হয়েছে। সেই সফরে কয়েকজন বির্তকিত লোককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম ক্যাসিনোকাণ্ডে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন সম্রাট।
রফিকুল ইসলাম কামাল : যখনই আমি জানতে পারি ইসমাইল হোসেন সম্রাট আছে এই তালিকায়, সত্যি বলতে আমার কাছে খারাপ লেগেছে। যেহেতু উনি খেলোধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত না, হকির সঙ্গে সম্পৃক্ত না। আসলে এসব ঘটনাই আমাদের ক্রীড়াঙ্গনকে কলুষিত করে।