প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৪ ২০:৪৬ পিএম
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৪ ২১:০৯ পিএম
ক্ষমতার পালাবদলে
বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের হিড়িক পড়েছে। তালিকায় বাদ যায়নি দেশের ক্রীড়াঙ্গনও।
সব ফেডারেশন থেকেই বিদায়ি সরকারের আস্থাভাজনদের ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এমন অবস্থায়
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি) বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বোর্ডে পরিবর্তন এলে
প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারেÑ ক্রিকেটপাড়ায় এমন গুঞ্জনও
চাউর হয়েছে। এবার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বললেন হাথুরু। জাতীয় দলের লঙ্কান এই কোচ
জানালেন, বিসিবি চাইলে চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত থাকতে চান টাইগার শিবিরে।
আইসিসি টেস্ট
চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান
করছে বাংলাদেশ দল। রাওয়ালপিন্ডিতে আগামীকাল বুধবার স্বাগতিকদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম
টেস্ট খেলতে নামবেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। আসন্ন সিরিজের আগে গতকাল সোমবার আয়োজিত
এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন হাথুরুসিংহে। বিসিবির প্রকাশিত এক
ভিডিওতে টাইগার কোচ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে (ক্রিকেট বোর্ডে) কী চলছে সেটি নিয়ে আমার তেমন
ধারণা নেই। নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যদি বলিÑ যত দিন পর্যন্ত আমার চুক্তির মেয়াদ আছে,
তত দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার ইচ্ছা আছে আমার।’
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ একাধিক পরিচালকের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। এরই মধ্যে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস দায়িত্ব ছেড়েছেন। বিসিবিতে পরিবর্তন এলে দায়িত্বে থাকবেন কি না, এমন প্রশ্নে হাথুরুর জবাব, ‘বোর্ড যদি বদলে যায় এবং তারা যদি পরিবর্তন চায়, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। তারা যদি আমাকে চালিয়ে যেতে বলে, আমাকে নিয়ে খুশি থাকে, আমিও খুশি মনে দায়িত্ব পালন করব।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্মরণও করেছেন হাথুরু, ‘(আন্দোলনে) যাদের কাছের মানুষজন মারা গেছে, তাদের পরিবারের জন্য আমার দোয়া ও ভালোবাসা। খুবই কঠিন সময় ছিল সেটি। আমার আশা, শিক্ষার্থীদের প্রশ্নগুলোর উত্তর আসবে। অভূতপূর্ব একটি ঘটনা এটি। আশা করি, দেশ আবারও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আসবে।’
ইতোমধ্যে প্রথম টেস্টের একাদশ ঘোষণা করে দিয়েছে পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে চার পেসার রেখে পেস আক্রমণের বার্তা দিয়েছে স্বাগতিকরা। ফলে পেসারদের কীভাবে সামলান টাইগার ব্যাটাররা তার উপর ম্যাচের গতিপথ নির্ভর করছে অনেকটাই। অবশ্য ব্যাটারদের নিয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ, ‘ব্যাটিং চিন্তার ব্যাপার ছিল অনেক দিন ধরে। যখন আমরা আসলে দেশে খেলি, তখন আমরা ফল মুখাপেক্ষী পিচে খেলে থাকি। সেসব পিচে অনেক সময় ২৫০ রানও জেতার মত স্কোর হয়ে যায়। অবশ্যই যখন এসব পিচে খেলবেন তখন ব্যাটারদের কঠিন সময় যাবে। পাকিস্তানের পিচ সাধারণত ব্যাটারদের সাহায্য করে, এখানে ব্যাট-বলের মাঝে ভালো লড়াই হয়ে থাকে। আশা করি এখানে এসব পিচে ভালো ফলাফল দেখাতে পারব।’
বাংলাদেশ বরাবরই শক্তিশালী ছিল স্পিনে। দলে একগাদা স্পিনারের সাথে ব্যাটাররাও স্বাছন্দ্য ছিলেন স্পিন বোলিং খেলতে। পেসের বিপক্ষেও ফুটে উঠত সব ধরনের দুর্বলতা। দলে পেসারও খুঁজে পাওয়া যেত খুবই কম। তবে বর্তমানে দেশের পেস বোলিংয়ে উন্নতি এসেছে অনেকখানি। দেশে, দেশের বাইরে ভালো করতে শুরু করেছেন টাইগার পেসাররা। পাকিস্তান সিরিজের বাংলাদেশ স্কোয়াডেও পেসার আছেন পাঁচজন। তাই পাকিস্তানের পেসারদের সমীহ করার পাশাপাশি নিজ দলের পেসারদের নিয়েও দারুণ রোমাঞ্চিত হাথুরু, ‘আমি দারুণ রোমাঞ্চিত তাদের (পেসারদের) নিয়ে। তাদের হয়ত অত বেশি দেখা যায়নি। কারণ আমরা তাদের অত বেশি ব্যবহার করিনি। তবে সর্বশেষ বিশ্বকাপে পেসাররা নিজের সুবিধামত কন্ডিশনে ভালো করেছে। এটা আসলে রাতারাতি হবে না। গত ২ বছর ধরে আসলে আমাদের পেসাররা ভালো করছে। ভিন্ন ব্যাপার হচ্ছে, তাদের অভিজ্ঞতা। তারা সবাই মিলেও হয়ত ২০ টেস্ট ম্যাচ খেলেনি। তারা তরুণ পেসার যদি পাকিস্তানি পেসারদের সাথে তুলনা করা হয়।’
হাথুরুর মতে, ‘পিন্ডি পিচ দেখে যা মনে হচ্ছে তা পেসারদের সাহায্য করবে বলে মনে হচ্ছে সেই সাথে ব্যাটিং সহায়কও হবে। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা অত বেশি স্পিনার দলে নেয়নি। আমাদের দলেও আমরা বেশ কিছু পেসারকে গড়ে তুলেছি। আমাদের বেশ ভালো কিছু পেসার আছে। যদি কন্ডিশন (পেসারদের) সহায়ক থাকে (সেক্ষেত্রে তাদের খেলানো যাবে)। এছাড়া আমাদের ২ জন ভালো অলরাউন্ডার রয়েছে যারা কিনা ভালো স্পিনও করতে পারে, তারা বিশ্বমানের। সাকিব আল হাসান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ রয়েছে আমাদের দলে। আমাদের সব দিক কাভার করাই আছে।’
হাথুরু আরও বলেছেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম পাকিস্তানের উইকেট বাংলাদেশের উইকেটের চেয়ে ভিন্ন হবে। স্পিনার যাদের আমরা দলে নিয়েছি তাদের আমরা দুনিয়ার যেকোনো জায়গাতেই নেব, কারণ তারা মেধার কারণেই দলে আছে, কন্ডিশনের কারণে নয়। আমাদের বেশ ভালো পেসার রয়েছে দলে। আমি আসলে পিসিবিকে ধন্যবাদ দিতে চাই কারণ তারা আমাদের ‘এ’ দলকে আগে এখানে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। এখান থেকে মনে হয় ১৫ মিনিট দূরে আছে তারা। সেখানে তারা খেলছে। সেখানে আমাদের কয়েকজন পেসার চার দিনের ম্যাচ খেলছে। এই স্কোয়াডে আমাদের পাঁচজন পেসার রয়েছে। আমি আগেই বললাম যে, আমাদের সব দিক থেকেই কাভার করা আছে।’
শুরুর সূচির প্রায় ৫ দিন আগে পাকিস্তানে গিয়েছে বাংলাদেশ দল। শুরুতে লাহোরে চলেছে অনুশীলন, ট্রেনিং সেশন। এই প্রসঙ্গে হাথুরু জানান, ‘আসলে আমরা পিসিবিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ তারা আমাদের আগে এসে অনুশীলন করার সুযোগ দিয়েছে লাহোরে। লাহোরে সুযোগ-সুবিধা দুর্দান্ত ছিল। অনুশীলনের দারুণ ৩ দিন গেছে সেখানে। ৬ জন প্লেয়ার আগে এসেছে ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে। প্রস্তুতির ব্যাপারে আমরা সবাই খুশি, চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছি আমরা।’
এদিকে সাম্প্রতিক সময়টা কিছুটা কঠিন যাচ্ছে সাকিব আল হাসানের। ক্রিকেটের মাঠে ফর্ম নিয়ে কিছুটা ধুঁকছেন অনেক দিন ধরেই। কিছুদিন আগে সরকারের পতনে হারিয়েছেন সংসদ সদস্যের পদটাও। মাঝে নানা ধরনের বিতর্কিত কান্ডে খবরের শিরোনাম হয়েছেন একাধিকবার। সবকিছু মিলিয়ে সময়টা কঠিনই সাকিবের জন্য। আসন্ন পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে সাকিব কেমন পারফর্ম করেন তা দেখার অপেক্ষাতে রয়েছেন অনেকে। পাকিস্তানে দলের সাথে যোগ দিয়ে প্রথম থেকেই অনুশীলন করছেন সাকিব। অনুশীলনে সাকিবের মাঝে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন হাথুরু। তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ। সে ভালো ব্যাট করছে। তাকে বেশি ফিট মনে হচ্ছে দেখে। কিছু চোখের টেস্টের মধ্য দিয়েও গেছে সে। সে জানিয়েছে, এর ফলে তার খেলায় মনোযোগ দিতে সুবিধা হচ্ছে, আগের সমস্যাগুলো কাটিয়ে।’
এছাড়া সাকিব-মেহেদী হাসান মিরাজদের স্পিন গুরু মুশতাকের আহমেদের ব্যাপারেও দারুণ ইতিবাচক হাথুরু, ‘আমি মুশিকে (মুশতাক আহমেদ) অনেক দিন ধরে চিনি। ১৯৯৮ সাল থেকে তাকে চিনি আমি। সে দারুণভাবে কোচিং স্টাফে মানিয়ে নিয়েছে। সে অনেক অভিজ্ঞ। ইংল্যান্ড, পাকিস্তানের সাথে সে অনেক দিন কাজ করেছে। স্থানীয় অনেক ব্যাপারে তার জ্ঞান রয়েছে। অভিজ্ঞতাও আছে দুনিয়ার নানা প্রান্তে কাজ করার। শুধু বোলিং নিয়ে নয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও সে আমাদের সাহায্য করে যাচ্ছে।’