প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৪ ১৭:৩৪ পিএম
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৪ ১৯:৫৭ পিএম
প্রায় একমাস ধরে উত্তপ্ত বাংলাদেশের
রাজনৈতিক অঙ্গন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর দেশের
পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে শঙ্কা তৈরি হয়েছে আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে। নিরাপত্তা ইস্যুতে আইসিসিও মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনে
বিকল্প ভেন্যুর সন্ধান করছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক এলিসা হিলি।
সূচি অনুযায়, আগামী ৩ অক্টোবর থেকে
শুরু হওয়ার কথা মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যা চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। ১০ দলের
এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা সিলেট ও ঢাকায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের সহিংস
ঘটনায় এ মুহূর্তে বাংলাদেশে কীভাবে ক্রিকেট খেলা হতে পারে, মানবিক বিবেচনায় সেটিও ঠিক
বোধগম্য হচ্ছে না হিলির।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ
টেনে হিলি বলেন, ‘এ মুহূর্তে ওখানে (বাংলাদেশে) একটা ক্রিকেট ইভেন্ট চলা এবং যে দেশ
সত্যিই ভুগছে, তাদের পুঁজি নিয়ে অন্য জায়গায় (বিশ্বকাপে) ব্যবহারের ব্যাপারটি আমার
কাছে কঠিন মনে হচ্ছে। যেসব মানুষ মারা যাচ্ছে, তাদের সহায়তায় এখন সবাইকে প্রয়োজন।’
ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, ইংল্যান্ড,
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। এই বিষয়টিও সামনে এনেছেন হিলি, ‘এ মুহূর্তে মানুষ হিসেবে
সেখানে খেলার ব্যাপারটি আমার জন্য ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এটি হয়তো ভুল একটা
কাজ হবে। নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেয়ে বড় ব্যাপার
ঘটছে। তবে আমি এটি আইসিসির ওপর ছেড়ে দেব।’
এদিকে মেয়েদের বিশ্বকাপ আয়োজনে ভারতকে আয়োজকের ভূমিকা নিতে প্রস্তাব দিয়েছিল আইসিসি। বিসিসিআই সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। এরপর বিকল্প হিসেবে শোনা যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরশাতের নাম। তবে এখনও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি।
গত মার্চ–এপ্রিলে বাংলাদেশ
সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের
পর এটিই ছিল অস্ট্রেলিয়া নারী দলের প্রথম বাংলাদেশ সফর। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিশ্বকাপ
না হলেও সে অভিজ্ঞতা কাজে দেবে বলে আশা হিলির, ‘সেখানে গিয়ে কন্ডিশন ও ধীরগতির টার্নিং
উইকেটে খেলে অভ্যস্ত হওয়া আমাদের ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে গেছে। বিশ্বকাপ বাংলাদেশে
হোক বা বাংলাদেশে না হোক; মনে হয় না আমাদের যা আছে, তাতে প্রভাব ফেলবে। আমাদের সামনে
যা-ই আসুক না কেন, আমরা ভালোমতোই প্রস্তুত।’