প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৪ ০২:০৫ এএম
বাফুফের সামনে ফুটবলারদের মানববন্ধন
দেশের ফুটবলের অবস্থা এমনিতেই টালমাটাল। তার ওপর আসন্ন ২০২৪-২৫ মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দলবদলসহ আরও কিছু বিষয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। দেশের দুই শীর্ষ ফুটবল ক্লাব শেখ জামাল ধানমন্ডি এবং শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র সেই জটিলতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে আরও। ক্লাব দুটি আসন্ন প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেবে না বলে ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আশঙ্কা রয়েছে ফকিরেরপুল ইয়াং মেন্স ক্লাব নিয়েও। এবারই প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত হওয়া ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব তাদের খেলোয়াড়দের মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েছে খেলবে না বলে। কদিন আগে লিগ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী।
এতগুলো ক্লাব একসঙ্গে লিগে অংশ না নিলে বিপাকে পড়তে পারেন দেশের শীর্ষ লিগে খেলা কয়েকশ ফুটবলার। কারণটাও পরিষ্কারÑ প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে খেলোয়াড়দের রুটি-রুজির প্রধান উৎস। একসঙ্গে এত ক্লাব অংশ না নিলে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। কেননা খেলতে না চাওয়া এই ক্লাবগুলোর সঙ্গে নতুন মৌসুমের জন্য চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন অনেক ফুটবলার। এখন ক্লাবগুলো লিগে অংশ না নিলে ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ হয়ে পড়বে অনিশ্চিত! এ অবস্থায় নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে এক ছাতাতলে এসে দাঁড়িয়েছেন তারা। সংকটাপন্ন মৌসুমের জন্য ফুটবলাররা দিয়েছেন ৭ দফা দাবি।
বাফুফে অবশ্য দলবদলের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছিল ফিফার কাছে। ফিফা দলবদলের সময় তিন দিন বাড়িয়ে ১৯ থেকে ২২ আগস্ট করেছে। তবে এই সময়ও যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে অংশ নিতে না চাওয়া ক্লাবগুলো। পেশাদার লিগের ফুটবলাররা সভাপতি বরাবর দেওয়া আবেদনে যে ৭ দাবি করেছেন সেগুলো হচ্ছেÑ১. খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের সময় বৃদ্ধি ২. দায়সারা গোছের লিগ না চালানো ৩. সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ৪. যে ক্লাবগুলো খেলবে না বলে শোনা যাচ্ছে সেসব ক্লাবের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা ৫. বিদেশি ছাড়া লিগ আয়োজন করা ৬. ক্লাবের পৃষ্ঠপোষক যারা ছিল তাদের ধরে রাখা ৭. আজকের (রবিবার) মধ্যে ক্রীড়া উপদেষ্টার সকল খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করা।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় দল এবং আবাহনীর খেলোয়াড় রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি ফেডারেশনে আমাদের কিছু দাবি জানাতে। হঠাৎ করেই কিছু ক্লাব এবারের মৌসুমে দল করবে না বলে জানিয়েছে। এতে করে আমাদের অনেক ফুটবলারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। প্রায় ১০০-এর ওপর রানিং ফুটবলার কোনো দল পাচ্ছে না। আমরা চাই, ফুটবল ফেডারেশন এই বিষয়ে চেষ্টা করুক। দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের খেলানোর বিষয়ে রাজি করাক। এ ছাড়া আমরা বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বসতে চাই। বাফুফের সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি, যেন আগামীকালের (আজ) মধ্যে আমাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়।’
নতুন মৌসুমের জন্য প্রয়োজনে নিজেদের পারিশ্রমিক কমাতেও রাজি রেজারা, ‘হঠাৎ করে এত খেলোয়াড় কোথায় যাবে? আমরা প্রয়োজনে স্যাক্রিফাইস করে খেলতে রাজি আছি। আরও খোলামেলা করে বলতে গেলে পারিশ্রমিক কম নিয়ে খেলতে রাজি আছি। তবুও খেলা হোক। মাঠে ফুটবল থাকুক।’
সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছে ১০ দল। কয়েক বছর আগেও লিগে ১৩টি দল খেলেছে। কিন্তু সংখ্যাটা কমে যাওয়ায় ক্ষতি হয় খেলোয়াড়দের। সবশেষ লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীর জার্সিতে খেলা ডিফেন্ডার রায়হান হাসান বলেন, ‘দিনকে দিন প্রিমিয়ার লিগে দলের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ৫ বছর আগেও ১৩ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রিমিয়ার লিগ। এরপর প্রতি বছর দল কমতে কমতে সবশেষ লিগে অংশ নেয় ১০ দল। এখন যদি সেই সংখ্যা কমে ৬-৭ এ দাঁড়ায়, তাতে কীভাবে খেলব আমরা। এমন দায়সারা লিগে অংশ নিতে চাই না আমরা। আমরা চাই সবার অংশগ্রহণ। আমরা ফুটবলার, এর বাইরে আমাদের কোনো পরিচয় নেই। এটাই আমাদের রুটি-রুজি।’
এদিকে, লিগ কমিটির প্রতিনিধিদের কেউ ভবনে না থাকায় খেলোয়াড়রা তাদের দাবির চিঠিটি বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের হাতে তুলে দেন। সংবাদ সম্মেলনে বাফুফের একমাত্র প্রতিনিধি হয়ে আসা ইমরান হোসেন বলেন, ‘দলবদলের সময় ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ছিল। ফিফার অনুমতিক্রমে আরও তিন দিন বর্ধিত করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের দাবির কথা আমি শুনেছি। আমরা ক্লাবগুলোর সঙ্গে কথা বলে এটার সমাধানের দ্রুত চেষ্টা করব। এর বাইরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সাক্ষাতের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
গতকাল এই সংবাদ সম্মেলেন উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দল ও প্রিমিয়ার লিগে বিভিন্ন ক্লাবের জার্সিতে খেলা ফুটবলাররা। ৫০ জনের একটি দল শনিবার বাফুফে ভবনে এসে তাদের ৭ দফা দাবি সংবলিত চিঠি বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটির কাছে হস্তান্তর করেন।