প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৪ ১৯:৩৯ পিএম
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৪ ১৯:৫৭ পিএম
‘বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল খেলোয়াড়-কর্মকর্তাবৃন্দ’-এর ব্যানারে শনিবার একটি সমাবেশ হয় বাফুফে ভবনের সামনে। সংগৃহীত ছবি
কামরুন নাহার ডানা দেশের সাবেক কিংবদন্তি ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। সংশ্লিষ্ট
আছেন নারী ফুটবলের সঙ্গেও। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যানও ছিলেন
কামরুন্নাহার; ব্যাডমিন্টন ছাড়াও সামলেছেন মেয়েদের ফুটবল। তা ছাড়া ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে
সব সময়ই সোচ্চার এই নারী সংগঠক।
নারী ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় ডালিয়া আক্তার। মেয়েদের লিগ শুরুর
দিকে ছিলেন মোহামেডানের অধিনায়ক। ফুটবল ছেড়ে পরবর্তীকালে হ্যান্ডবলও খেলেছেন তিনি।
পুরুষ হ্যান্ডবল দলে কোচিংও করিয়েছেন ডালিয়া। তিনি এখন সংগঠকও। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দুজনই
পরিচিত মুখ। দুজন এবার একসঙ্গে গলা মিলিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও নারী
উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণের পদত্যাগ দাবিতে। অভিযোগ করেছেন বাফুফে ভবনের ক্যাম্প
নিয়েও। এই ক্যাম্পকে উল্লেখ করেছেন মেয়েদের বন্দিশালা বলে।
বর্তমানে বাফুফে ভবনের চার তলায় নারী ফুটবলারদের আবাসিক ক্যাম্প।
এখান থেকেই পরিচালিত হয় মেয়েদের ফুটবল। কিন্তু আবাসিক এই ক্যাম্প নিয়ে প্রায়ই অনেক
কথা ওঠে। ক্যাম্পে মেয়েদের নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন ডালিয়া। ফেডারেশনের নিজস্ব ভবনের
সামনে শনিবার সকালে এক বিক্ষোভ সমাবেশে ডালিয়া বলেন, ‘বাফুফে ভবনের চার তলায় মেয়েদের
রাখা হয়েছে, এটা যেন বন্দিশালা। মেয়েরা কী খাচ্ছে, জানতে দেওয়া দেওয়া হয় না, এমনকি
তাদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। এই মেয়েরা একদিন এই ভবন থেকে বেরিয়ে হয়তো সত্যটা প্রকাশ
করবে।’
সালাউদ্দিন-কিরণের পদত্যাগের দাবিতে দেশের ফুটবলের সমর্থক গোষ্ঠী
‘বাংলাদেশ ফুটবল আল্ট্রাস’ নামের একটি সংগঠন কদিন ধরেই আন্দোলন করে যাচ্ছে। এবার এই
যুগলের পদত্যাগের একদফা দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সাবেক নারী ফুটবলররা। ‘বাংলাদেশ মহিলা
ফুটবল খেলোয়াড়-কর্মকর্তাবৃন্দ’-এর ব্যানারে শনিবার একটি সমাবেশও হয়েছে। তাতে সামনে
থেকে কথা বলেছেন ডালিয়া, ‘বাফুফের ক্যাম্পে থাকা এরা ছোট ছোট মেয়ে। কথা বলতে ভয় পায়।’
মেয়েদের কীভাবে কথা বলতে দেওয়া হয় না তার একটি উদাহরণ টেনে ডালিয়া বলেন, ‘এক মেয়ে বলেছিল,
বারবার কেন পাঙাশ মাছ খাওয়ানো হয়? এটা বলার কারণে ওকে শাস্তি দেওয়া হয়।’
২০০৮ সালে বাফুফে সভাপতি হিসেবে প্রথমবার নির্বাচিত হন কাজী সালাউদ্দিন।
এরপর একটানা ১৬ বছর ধরে এই পদে আছেন সাবেক এই ফুটবলার। নিজের চাওয়া মতো তিনিই কমিটিতে
যুক্ত করেন মাহফুজা আক্তার কিরণকে। এই দুজনকে উদ্দেশ করে ডালিয়া বলেন, ‘তারা বাফুফেতে
একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছেন। পদ আঁকড়ে ধরে আছেন। অবিলম্বে তাদের বিদায় নিতে হবে। এবার
সময় এসেছে, যোগ্যদের সুযোগ দেওয়ার।’
জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন ডালিয়া। ফুটবল ছাড়ার পর তাকে বাফুফে সেভাবে
আর ডাকেনি কিংবা যোগ্য সম্মান দেয়নি বলে দাবি করেছেন নিজের সময়ের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়,
‘জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক থাকার পরও আমাকে নারী ফুটবলের কোথাও রাখা হয়নি। তারা
সব কুক্ষিগত করে রেখেছে। যোগ করেন, অলিম্পিক বাছাই খেলতে পাঠানো হয়নি আমাদের মেয়েদের।
এবার আপনারা পদ থেকে সরে যান।’
২০০৪ সালে প্রথমবার যখন নারী লিগের আয়োজন করা হয় সেই সময় বাফুফের
কমিটির সদস্য ছিলেন কামরুন্নাহার। নারীদের ফুটবল খেলা সেভাবে সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি
তখনও। বিশেষ করে মৌলবাদীরা কোনোভাবেই চায়নি মেয়েরা হাফ প্যান্ট, জার্সি পরে মাঠে খেলুক।
কিন্তু কোনো কিছুই তোয়াক্কা করেননি কামরুন্নাহার। শনিবার সমাবেশে সাবেক এই ব্যাডমিন্টন
তারকা বলেন, ‘ফুটবল ফেডারেশন যেন সালাউদ্দিন-কিরণের ফেডারেশন। উনি (সালাউদ্দিন) নিজের
স্বার্থ ছাড়া কোনো কাজ করেননি। বাফুফেতে রাজনীতিকরণ হয়েছে। ফেডারেশনে নির্বাচনে যারা
কাউন্সিলর হয়েছে, তারা আজ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। যারা পালিয়ে বেড়ায়, তারা যেন ক্রীড়াঙ্গনে
না আসে। আমরা ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে পরিবর্তন চাই।’