প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৪ ১০:২৪ এএম
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৪ ১০:৪৩ এএম
অস্তিত্ব সংকটে শেখ জামাল-রাসেল
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বহুল প্রচলিত শব্দ- অস্তিত্ব সংকট। বিশেষ করে ফুটবল অঙ্গনে। সোনালী অতীত হারিয়ে অনেক ক্লাবই ধুঁকছে। অনেক ক্লাবই হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বেশ কয়েকটি ক্লাব পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। তার মধ্যে অন্যতম শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ব্যাপক হামলার শিকার হয় আবাহনী লিমিটেড। ক্লাবটির ৫২ বছর ধরে সংগৃহীত ট্রফিগুলোও চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বাদ যায়নি পাশের দুই ক্লাব শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ও শেখ জামাল। অথচ, নতুন মৌসুমের জন্য বেশ কিছু খেলোয়াড় নিবন্ধন করে রেখেছিল ২০১২-১৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের রানার্সআপ হওয়া শেখ জামাল। ২০০৭ সাল থেকে পেশাদার ফুটবল লিগ শুরুর পর অবশ্য লিগ শিরোপা জিততে পারেনি তারা। আশির দশকের প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি বেশ কয়েকবারই চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। কিন্তু তারাই এখন লিগ থেকে সরে যাচ্ছে। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। এ ব্যাপারে ক্লাবের কোনো কর্মকর্তাও মুখ খোলেননি। তবে বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তাদের সরে যাওয়ার খবরটাই পাওয়া গেছে।
২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য দলবদলের শেষ দিন আগেই ১৯ আগস্ট ধার্য করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। যদিও ক্লাবগুলো সময় বাড়ানোর জন্য বাফুফেকে জানিয়েছিল। কিন্তু ফিফা সেটি মেনে নেয়নি। এমন অবস্থায় শেখ জামালের ঘুরে দাঁড়ানোটা চ্যালেঞ্জের। এদিকে দলবদলের সময় ঘনিয়ে আশায় বিপাকেই পড়েছে ধানমন্ডি পাড়ার এই ক্লাবটি।
অথচ একটা সময় এই ক্লাবের পরিচালক ছিলেন দেশের স্বনামধন্য কয়েকজন সাবেক ফুটবলার। একটা সময় পর তাদেরকে দৃশ্যপটেই রাখা হয়নি। যাদের মধ্যে অন্যতম কিংবদন্তি সাবেক ফুটবলার আব্দুল গাফ্ফার। শেখ জামালের বর্তমান এই পরিস্থিতিতে বেশ ব্যথিত তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, ‘আমরা যারা ছিলামÑ আসলাম, চুন্নু ভাই; পরবর্তীতে আমরা ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারি নাই। এখন যেটা হলো... বর্তমান সময়ে আমাদের ক্লাবের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’
শেখ জামালে হামলার পর আব্দুল গাফ্ফার ছুটে গিয়েছিলেন ক্লাব পরিদর্শনে। ক্লাবের অমন দশায় একজন ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে বিষয়টি মেনে নিতে কষ্ট হয়েছে তার। তবে ক্লাবের প্রতি তার যে ভালোবাসা কিংবা আবেগ ছিল সেটি, এখনও আছে বলে জানালেন তিনি। যদিও ক্লাবের থেকে তাদেরকে এখনও ডাকা হয়নি সেভাবে। তবে প্রয়োজনে ক্লাবের পাশেও দাঁড়াবেন বলেছেন গাফ্ফার, ‘এখন কেউ না কেউ তো হাল (ক্লাবের) ধরবেই। সবকিছু মিলিয়ে এটা তো এখন বলা যায় না কে বা কারা দায়িত্ব নেবে। কিন্তু আমরা সংগঠক হিসেবে ক্লাবের পাশে আছি। তারা যদি চায় আমরা সহযোগিতার হাত বাড়াব।’
এদিকে, প্রায় ৩০ ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করে রেখেছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। মৌসুম শুরুর আগে ক্যাম্প করতেও প্রস্তুত ছিলেন ক্লাবটির কর্তারা। দলবদলের নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘটা করে প্রিমিয়ার লিগের দলবদল করার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরই গুটিয়ে যায় ক্লাবটি। বিশেষ করে শেখ রাসেলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বসুন্ধরা গ্রুপ সরে যাওয়ার পরই বিনিয়োগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান ক্লাব কর্তারা। সূত্র জানায়, এমন অবস্থায় সামনের মৌসুমে লিগে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেখ রাসেল।