প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৪ ২৩:৩৬ পিএম
আদ্রিয়ানা আরাউহো
আর্থিক সমস্যা পেয়ে বসেছিল আদ্রিয়ানা আরাউহোকে। তার সংকটটা ঠিক কতটা প্রবল ছিল, সেটা স্পষ্ট হয়ে যায় তার কাজে। জীবনের চলার পথ আগলে দাঁড়ানো অন্তরায় দূর করতে নিজের সেরা অর্জনকে বিক্রি করতে একবারের জন্যও দ্বিধাবোধ করেননি। আদ্রিয়ানা নারীদের বক্সিংয়ে প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে ব্রোঞ্জপদক জেতেন ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ জানায়, আদ্রিয়ানার এ বিজয়ের মাধ্যমে অলিম্পিকে পদক জয়ের সেঞ্চুরি করেছিল তার দেশ।
আর্থিক অনটনের দরুণ ক্যারিয়ারের সেই সেরা অর্জনকে নিলামে তুলেছিলেন। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম এস্তাদাওকে ৪২ বছরের আদ্রিয়ানা বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল; কিন্তু সেটি নিতেই হতো। পদকটি আমার শ্রেষ্ঠতম অর্জন। কিন্তু সামনে এগিয়ে যেতে আমার অর্থের প্রয়োজন ছিল।’
বক্সিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলে অবসর জীবনে বেকায়দায় পড়ে যান আদ্রিয়ানা। বাঁচার তাগিদে পরিকল্পনা করেন বাহিয়া অঞ্চলে একটি রেস্তোরাঁ খোলার। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ হাতে ছিল না। এ কারণে পদকটি বিক্রি করে দেন। ঠিক দুই সপ্তাহ পর ব্যথিত আদ্রিয়ানার মুখে যেন হাসি ফোটে। চমকে যান খুশি করার মতো এক খবরে। জেনে যান পদকটি ফেরত পেতে যাচ্ছেন! শুরুতে নিলাম থেকে পদকটির ক্রেতার পরিচয় জানতে পারেননি।
শেষে জানতে পারেন পদক ক্রেতা ব্যক্তিটি আর কেউ নন, ব্রাজিলের বুকমেকার প্রতিষ্ঠান ‘সুপারবেট ব্রাজিল’-এর প্রধান নির্বাহী আলেক্সান্দ্রে ফনসেকা। মহানুভব ওই ব্যক্তি পদকটি আদ্রিয়ানাকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর্থিকভাবে তাকে সহায়তাও করেন। নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ আদ্রিয়ানাকে আর ফেরত দিতে হয়নি।
নিলাম থেকে দেড় লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল পেয়েছিলেন আদ্রিয়ানা। এ নিয়ে আদ্রিয়ানা সংবাদমাধ্যম এস্তাদাওকে বলেন, ‘সেই মুহূর্তে আমাকে যুক্তি মানতে হতো। আর্থিক সমস্যায় ছিলাম। পদকটাকে সমস্যা থেকে উত্তরণের সুযোগ হিসেবে দেখি। সকাল ১১টার দিকে এটি নিলামে তোলা হয়। বিকাল ৪টার দিকে একজন ক্রেতাও মিলল। দেড় লাখ রিয়ালে ওটা বিক্রি করি। খুশি হব না মন খারাপ করব, বুঝতে পারছিলাম না। টাকার জন্য ভালো লাগছিল, পদকের জন্য খারাপ লাগছিল, যেটা আমার শ্রেষ্ঠতম অর্জন।’
সুপারবেট ব্রাজিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্যাত্রিসিয়া প্রাতেস পদক ফেরত দেওয়া নিয়ে বলেন, ‘একজন উচ্চপর্যায়ের অ্যাথলেটের এমন অবস্থা আমাদের ছুঁয়ে গিয়েছিল। সেজন্য আমরা তাকে সাহায্য করতে চেয়েছি যেন তার অবসরটা শান্তিপূর্ণ হয়। আমরা নিলামে পদকটি কিনেছি এটা জানাজানি হওয়ার পর তার সঙ্গে আলোচনায় বসে একাডেমিকে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছি।’
এস্তাদাও জানিয়েছিল, আদ্রিয়ানা বাহিয়া অঞ্চলে রেস্তোরাঁ চালু করতে চান। কিন্তু দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ জানিয়েছে, টাকাটা পেয়ে সাও পাওলোয় আদ্রিয়ানা এবার বক্সিংয়ের জিমনেসিয়াম খুলবেন। বক্সিংয়ের সঙ্গে নতুন খেলোয়াড়দের জন্য যেখানে ক্লাস, লেকচার ও অনুশীলনের ব্যবস্থা থাকবে। আর্থিক সহায়তার সঙ্গে সুপারবেট ব্রাজিল আদ্রিয়ানাকে জিমনেসিয়ামের ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে সাহায্য করতে চায়।