প্যারিস অলিম্পিক
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৪ ১৩:১২ পিএম
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৪ ১৬:৫১ পিএম
অলিম্পিকে মেয়েদের ফুটবলে কখনোই সোনা জিততে পারেনি ব্রাজিলের মেয়েরা। অলিম্পিকের এবারের আসরেও একই দশা সেলেসাও মেয়েদের। নারী ফুটবলের ইভেন্টের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১-০ গোলে হেরে রুপা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ব্রাজিলের। ১৯৯৬ সালে মেয়েদের ফুটবল এই ক্রীড়া মহাযজ্ঞে অন্তর্ভুক্তির পর মার্কিন মেয়েরা শিরোপা জিতেছে চারবার। আর তিনবার ফাইনালে উঠে তিনবারই রুপা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে লাতিন আমেরিকার দলটিকে।
এই হারের মধ্য দিয়েই ব্রাজিলের জার্সিতে বড় আসরে কিংবদন্তি মার্তার অধ্যায় শেষ হল। অলিম্পিকের ২০০৪, ২০০৮ সালের পর এবার- তিনবারই ব্রাজিল দলে ছিলেন মার্তা। ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা নারী ফুটবলার ও সবচেয়ে বেশি গোল স্কোরার বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের একজন। কিন্তু রেকর্ড টানা পাঁচবারসহ মোট ছয়বার ফিফার বর্ষসেরা নারী ফুটবলার হওয়া এই মহাতারকার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেল বড় কোনো দলীয় সাফল্য ছাড়াই।
ছেলে-মেয়ে মিলিয়েই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন মার্তা। বিশ্বকাপের মঞ্চে জিতেছেন গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট। ছেলে-মেয়ে মিলিয়ে পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলারও তিনি। পাঁচটি অলিম্পিকে গোল করার অনন্য কীর্তিও তার দখলে। অবিশ্বাস্যভাবে এবার ষষ্ঠ অলিম্পিক খেললেন এই ৩৮ বছর বয়সে। শেষ বেলায় এসে অপূর্ণতা ঘোচানোর আরেকটি সম্ভাবনা জেগেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সেই আক্ষেপ মেটানো হলো না।
মার্তা অবশ্য এখনও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাননি। তবে ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত সাফল্য আর রেকর্ডে টইটম্বুর এই কিংবদন্তি জানিয়ে দিয়েছেন, এই বছরই তার শেষ। তাই বড় কোনো আসরও তাই শেষ এই অলিম্পিক দিয়েই। । কিন্তু দলীয় অর্জনে প্রাপ্তি একবার বিশ্বকাপে রানার্স আপ আর অলিম্পিকে তিনটি রুপাতেই সন্তুষ্ঠ থাকতে হল।
বিদায়বেলায় মার্তা বলেন, ‘যখন ২০০৪, ২০০৮ সালে রৌপ্যপদক পাই, আমি এখনকার মতো এতটা গর্ববোধ করিনি। কারণ আরও একটি অলিম্পিক ফাইনালে খেলতে ১৬ বছরের অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা ব্রাজিলের কেউ বিশ্বাসও করেনি। এই পদক সেই গর্ব ফিরিয়ে এনেছে। দেখিয়েছে ব্রাজিলের মেয়েরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে জানে, প্রতিভা আছে এবং তার যথাযথ মূল্যায়ন দরকার।’
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছয়বারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় মার্তা বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না, আপনারা আমাকে আবারও বিশ্বকাপে দেখতে পাবেন। আমি জানি না কী হবে, কিংবা জাতীয় দলের পরিকল্পনা কী। কিন্তু আমার পরিকল্পনা হচ্ছে, যেকোনোভাবে দলকে সাহায্য করে যাওয়া। কারণ, এটাই আমার জীবন।’
২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হবে মেয়েদের বিশ্বকাপ। খেলোয়াড় হিসেবে দলীয় সাফল্য না পেলেও ঘরের মাঠে ভিন্ন ভূমিকায় সেই আক্ষেপ মেটাতে চান মার্তা। তিনি বলেন, ‘আমি ফুটবল থেকে হারিয়ে যাব না। আমি চেষ্টা করব, কোনোভাবে দলকে সাহায্য করতে।’
প্যারিসে সোনা জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও দল যেভাবে লড়াই করেছে, তা নিয়ে গর্বিত মার্তা, ‘এই প্রতিযোগিতায় আমরা যা করেছি, দল নিয়ে গর্বিত। এটা খুবই কঠিন টুর্নামেন্ট ছিল। প্রতি দুই দিন পরপর ম্যাচ এবং চোটও ছিল অনেক। এরপরও ফাইনালে আসার জন্য আমরা নিজেদের ছাড়িয়ে গেছি এবং নিজেদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য অর্জন করেছি, যা ছিল একটি পদক নিয়ে আসা।’