বিসিবিতে সংস্কার প্রসঙ্গে কোচ ফাহিম
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৪ ২০:০৯ পিএম
রাজনৈতিক পালাবদলে বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডও সমস্যা কাটিয়ে উঠবে বলে আশাবাদী প্রবীণ ক্রিকেট বিশ্লেষক ফাহিম— আ. ই. আলীম
বাংলাদেশের ক্রিকেটকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন নাজমুল আবেদিন ফাহিম। বিসিবিতে সামলেছেন কোচিংয়ের দায়িত্ব। হাইপারফরম্যান্স ইউনিট, ক্রিকেট একাডেমি, বয়সভিত্তিক দল এবং কাজ করেছেন নারী বিভাগেও। অংশ নিয়েছিলেন সবশেষ বিসিবি নির্বাচনেও। বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা ছিলেন দীর্ঘদিন। এবার সেই অভিজ্ঞতা পুঁজি করে নতুন রূপরেখা দিতে চান জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রিকেট কোচ ও বিশ্লেষক ফাহিম। ঢেলে সাজাতে চান বাংলাদেশ ক্রিকেটকে।
আজ শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে নিজের সেই চাওয়া, লক্ষ্য এবং বিসিবির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেন স্বনামধন্য এই কোচ। বিসিবিকে বিশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করে ফাহিম জানিয়েছেন, নিজের প্রস্তুত করা রূপরেখা নিয়ে বসতে চান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গেও। মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক নম্বর গেটের বাইরে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ফাহিম দাবি তুলেছেন, অন্যসব জায়গার মতো বিসিবিতেও সংস্কার হোক।
স্বনামধন্য কোচের সবার আগেই চাওয়া অনিয়মের পরিবর্তন। বিসিবির বাইরের চাকচিক্যের আড়ালে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সামনে এনে সেসব সংস্কারের দাবি তুলেছেন ফাহিম, ‘যেহেতু খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি, আমার মনে হয় না বিসিবি খুব একটা সুশৃঙ্খল সংস্থা। বাইরে থেকে এর চাকচিক্য দেখে হয়তো মনে হয় বিসিবি খুব দারুণ একটা সংস্থা। বিসিবির যে সুযোগ ছিল, সেটার ঠিকঠাকভাবে প্রয়োগ হয়নি। অনেক কারণেই হয়নি। অনেক ইচ্ছাকৃত ভুলের কারণে হয়নি। আমার মনে হয়, এখানে পরিবর্তন আনা দরকার। এখানে যে অনিয়ম হয় ভেতরে ভেতরে, সেটার পরিবর্তন আনা দরকার। কারণ এগুলো শক্তিশালী করতে পারলে আমাদের অনেক ধরনের সমস্যার সমাধান হবে।’
তাই বিসিবির দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনাও করে রেখেছেন সাকিব-তামিমদের গুরুখ্যাত ফাহিম। সুযোগ এলে নিজের সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছাও পোষণ করেছেন এই ক্রিকেট বিশ্লেষক, ‘এটা (রূপরেখা) নিয়েই তো বছরের পর বছর আমরা চিন্তাভাবনা করেছি। বিশেষ করে আমি। কোন জায়গায় কী করলে আরেকটু এগোনো যায়, কোন জায়গায় ঘাটতি আছে, আমাদের কী রিসোর্স আছে যা দিয়ে আমরা ওসব কাটিয়ে উঠতে পারি। সামনে হয়তো এটা নিয়ে আলাপও করব। কোনো জায়গায় পিছিয়ে আছি, অথচ সেসব জায়গায় আমাদের পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ নেই, সেখানে যদি ইনপুট দেওয়ার সুযোগ থাকে, অবশ্যই অংশগ্রহণ করব। শুধু আমার কথা নয়, যারা এসব বিষয়ে অবগত আছে, তাদের কাছ থেকে আইডিয়া নেওয়া দরকার। তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়।’
সেই লক্ষ্যে একটি রূপরেখা প্রস্তুত করে রেখেছেন ফাহিম। সেটি নিয়ে বসতে চান ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফের সঙ্গেও, ‘আমি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু করি, নিশ্চয়ই আলাপ করব। বর্ধিত একটা রূপরেখা নিয়ে আসতে চাইব। যেন যারা দায়িত্বে আছেন তাদের সাহায্য করতে পারি। আমি আবারও বলি, এটা আমার ব্যাপার নয়। উপদেষ্টাদের কথা বললেন, তারা চায় সিস্টেমটাকে ঠিক করতে। যারা সিস্টেম ভালোভাবে চালাতে পারবে সেই ক্রিকেট বোর্ডে আসার যোগ্যতা রাখে। সত্যিকার অর্থেই যারা ক্রিকেটে ভালো চায়, আর ক্রিকেট বাংলাদেশকে যেভাবে বিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করে, এখানে কিন্তু ফাঁকি দেওয়ার কোনো উপায় নেই। এখানে সঠিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
২০ মিনিটের দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বোর্ড পরিচালকদের সমালোচনা করেছেন ফাহিম। বোর্ডপ্রধান নাজমুল হাসান পাপনসহ যারা বোর্ডে অনুপস্থিত তাদের ‘সত্যিকার অর্থে ক্রিকেটের সেবক’ মনে করেন না স্বনামধন্য এই কোচ। তিনি বলেছেন, ‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সময় বিসিবির কর্মকাণ্ড সঠিক পথে ছিল না। যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে বিসিবি পরিচালনার পক্ষে আমি।’
আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ব্যর্থতার দায়ও ‘অযোগ্য নেতাদের’ মনে করেন ফাহিম, ‘অবশ্যই দায়টা সবচেয়ে বেশি নেতৃত্বে। এখানে পরিবর্তন আনা খুব দরকার। এ জায়গাটা ঠিক থাকলে বাকি জিনিস এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়। মানে এখন পুনর্গঠন করতে হলে আইসিসির আইনসংক্রান্ত অনেক বিষয় আছে, অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু আমরা তো অবশ্যই চাইবে এমন একটা বোর্ড হবে যেখানে ভালো একজন নেতা থাকবে।’
রাজনৈতিক পালাবদলের বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডও সমস্যা কাটিয়ে উঠবে বলে আশাবাদী প্রবীণ কোচ ফাহিম। প্রয়োজনে নিজেও নতুন রূপে সংস্কারে যোগ দেবেন। নিজেও রূপরেখা প্রস্তুত করেই রেখেছেন। এখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে ডাকের অপেক্ষায় ফাহিম।