প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪
আরিফুর রাজু
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৪ ২১:০২ পিএম
‘যদি মায়েরা পৃথিবী চালাতেন, তবে এই ধরণিতে কোনো ঘৃণা-যুদ্ধ ছড়াতো
না!’ প্যারিস অলিম্পিকে জ্যাভেলিন থ্রো-তে পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমের সোনা জয়ের
খবর প্রকাশের সময় একটি টুইট বার্তা তুলে ধরে এনডিটিভি। যাতে লেখা ছিল মূল্যবান কথাগুলো।
জ্যাভেলিন থ্রোতে সোনা ও রুপাজয়ী দুই খেলোয়াড়ের বন্ধুত্ব ও তাদের মায়েদের মন্তব্য তুলে
ধরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি। ৩৪-এর আসরে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের নীরাজ চোপড়াকে
হারিয়ে সোনা জেতেন নাদিম। তার হাত ধরে ৪০ বছর পর ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতল পাকিস্তান।
গতকাল বৃহস্পতিবার ছয়বারের চেষ্টায় নিজের বর্শা সর্বোচ্চ ৯২.৯৭ দূরত্বে
ছুড়ে মারেন নাদিম। ভেঙে ফেলেন ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে নরওয়ের থ্রোয়ার আন্দ্রেয়াস থরকিলদসেনের
রেকর্ড। আর গত আসরে সোনা জেতা নীরাজ ফাইনালে কেবল একটি থ্রো সফলভাবে নিতে পেরেছেন।
৮৯.৪৫ মিটার যাওয়া সেই থ্রোতে রুপার জায়গা নিশ্চিত করেন তিনি। টোকিও অলিম্পিকে ৮৭.৫৮
মিটার দূরত্বে থ্রো করে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন এই ভারতীয়। সেখানে ২৭ বছর বয়সি নাদিম হয়েছিলেন
পঞ্চম। সর্বশেষ কমনওয়েলথ গেমসে জিতেছিলেন সোনা, যদিও সেখানে ছিলেন না মূল প্রতিদ্বন্দ্বী
নীরাজ চোপড়া। ভারতের থ্রোয়ার টোকিওতে জিতেছিলেন সোনা।
বদলে যাওয়া নাদিমের সাফল্য রাতারাতি হয়নি। এতদূর আসার পেছনে পোড়াতে
হয়েছিল প্রচুর কাঠখড়। বেশ কয়েক বছরের পুরোনো বর্শাটা বদলানোর মতো অবস্থা ছিল না তার।
যদিও ক্রিকেট প্রধান দেশে এমনটা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবু হাল ছাড়েননি। সাধ্য-সামর্থ্য
যা ছিল কাজে লাগিয়েছে সর্বোচ্চ। শেষ দিকে অবশ্য এগিয়ে আসে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল)
দল মুলতান সুলতানস। প্যারিস অলিম্পিকে নাদিমের পৃষ্ঠপোষক হওয়ার ঘোষণা দেয় তারা। এমন
বন্ধুর পথ মাড়িয়ে নাদিম লিখেছেন ইতিহাস।
রেকর্ড গড়া থ্রো নাদিম বলেছেন, ‘যখনই বর্শাটা ছুড়লাম, হাত থেকে বেরোনোর
ওই অনুভূতিটা হয়েছে। মনে হয়েছে অলিম্পিক রেকর্ড হতে পারে।’ এবারের সোনা জয়ে যে টোকিওর
আগের গেমস অনুপ্রেরণা ছিল, নাদিম জানিয়েছেন সেটিও, ‘আমি টোকিওতে ভালো করার মতো যথেষ্ট
ফিট ছিলাম, কিন্তু তখন ভালো করতে পারিনি। অলিম্পিকের পর কঠোর পরিশ্রম করি, এরপর কমনওয়েলথ
গেমসে সোনা জিতি। এরপর নিজের ছন্দ ধরে রাখতে আরও বেশি পরিশ্রম করি। আজ দেশের জন্য সোনা
জিতলাম।’
নাদিমের এই ইভেন্টে আলাদা করে চোখ ছিল পাকিস্তান ও ভারত দুই দেশেরই।
এমনিতে ট্র্যাকের বাইরে দুজন বেশ ভালো বন্ধু। নীরাজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রসঙ্গে
নাদিম বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা তো ছিলই, কোনো সন্দেহ নেই। ক্রিকেটের মতো জ্যাভেলিন
থ্রোতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল! দুই দেশেই সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখেছেÑ আমরা যাতে একে অন্যকে
হারাই। নীরাজ ভাইকে রুপা জিততে দেখে ভালো লাগছে।’ তবে এ প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নাদিম দেখছেন
ইতিবাচক হিসেবেই, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসলে ক্রিকেট ম্যাচে, অন্য খেলায় যখন দুই দেশ খেলে।
কিন্তু আমাদের খেলা দেখা এবং আমাদের অনুসরণ করাটা দুই দেশের তরুণদের জন্য ভালো ব্যাপার।
উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক দিক।’
দুই প্রতিবেশী দেশের বৈরী সম্পর্ক ছাপিয়ে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা প্রকাশ
করেছেন এ দুই অ্যাথলেটের মায়েরা। রেকর্ডের পর নাদিমের মা এনডিটিভিকে বলেছেন, ‘সে (নিরাজ)
আমার সন্তানের মতোই। সে নাদিমের বন্ধু এবং ভাই। হার-জিত খেলার অংশ। আল্লাহ তাকে দয়া
করেছে। সে সোনার পদক জিতেছে। তারা আপন ভাইয়ের মতো। আমি নিরাজের জন্য দোয়া করেছি।’ আর
নীরাজের মা বলেছেন, ‘রুপা জেতায় আমরা খুশি। যে সোনা জিতেছে সেও আমার সন্তান। এ নিয়ে
আমাদের কোনো আফসোস নেই।’