অলিম্পিক ফুটবল
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৪ ১২:১৮ পিএম
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৪ ১২:৪৪ পিএম
আজ প্যারিস অলিম্পিকের পুরুষদের ফুটবল ইভেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-স্পেন। সংগৃহীত ছবি
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত কোয়ার্টার ফাইনাল জয়। এরপর সেমিফাইনালে থিয়েরি হেনরির দল উড়িয়ে দেয় মিসরকে। এবার অলিম্পিকে সোনা জেতার জন্য কেবল একটি ম্যাচ দূরে ফ্রান্স। আজ প্যারিস অলিম্পিকের পুরুষদের ফুটবল ইভেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-স্পেন। ১৯৮৪ সালের পর এ ইভেন্টে প্রথম সোনা জেতার দ্বারপ্রান্তে ফরাসিরা। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়।
লিওতে সেমিফাইনালে ১০ জনের মিসরকে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। যেখানে জোড়া গোল করেন জিন-ফিলিপ মাতেতা। আগের ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটিও করেছিলেন ক্রিস্টাল প্যালেসের এ স্ট্রাইকার। তার আর অলিসের গোলে ৪০ বছরের মধ্যে অলিম্পিকে প্রথম ফুটবল পদক নিশ্চিত করে ফ্রান্স। তবে দুর্দান্ত গতিতে ছুটতে থাকা দলটি কেবল পদক জিতেই খুশি থাকতে চায় না। হেনরির দলের লক্ষ্য এবার সোনা জয়। আর সেটি পাওয়ার যোগ্য দাবিদারও ফ্রান্স। এমনটাই বলছেন অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ। তাদের যুক্তি দিয়েছেন এভাবেÑপ্যারিস অলিম্পিকের এ ইভেন্টে ফ্রান্স অপরাজিত দল। গ্রুপের সব ম্যাচ জিতেছে তারা। যেখানে ৭টি গোল করেছে এবং ৩টি ক্লিন শিট রেখেছিল। এরপর নকআউটেও স্রেফ ১টি মাত্র গোল হজম করেছে ফ্রান্স। এ কারণেই অনেকে মনে করছেন দলটির অনুপ্রেরণার অভাব হবে না পার্ক দেস প্রিন্সেসের ফাইনালে।
তবে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন নিজেদের সোনালি বছরকে আরও রাঙিয়ে দিতে চাইবে নিশ্চয়ই। গত মাসেই তাদের সিনিয়র দল জার্মানিতে দারুণ বীরত্ব দেখিয়েছে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে জিতেছিল প্রতিযোগিতার রেকর্ড শিরোপা। স্পেনের অলিম্পিক দলও চিত্তাকর্ষক ফ্যাশনে ফাইনালে পৌঁছেছে। তাদের একমাত্র পরাজয় ছিল গ্রুপ পর্বে। হেরেছিল মিসরের বিপক্ষে। তবে সে হারটা তাদের মানতে হয়েছিল আগের ম্যাচে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পরে। এরপর লা রোজাসরা কোয়ার্টার ফাইনালে পরাজিত করে জাপানকে। এরপর শেষ চারের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েও হারায় মরক্কোকে। মার্শেইতে আধা ঘণ্টার কম সময় খেলা বাকি থাকতে ছিল হারের শঙ্কায়। স্টেডিয়ামেও সিংহভাগ সমর্থন ছিল মরক্কোর পক্ষে। এত কিছু বৈরিতাও সেদিন আটকাতে পারেনি স্পেনকে। ৬৬ ও ৮৫ মিনিটে যথাক্রমে লোপেজ ও সানচেজের গোলে মরক্কোকে কাঁদিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে স্প্যানিয়ার্ডরা।
১৯৯২ সালে ঘরের মাটিতে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। ২০০০ সালের অলিম্পিকেও আরেকটি স্বর্ণ পদকের কাছাকাছি গিয়েছিল লা রোজাসরা। কিন্তু ব্রাজিলের কাছে সিডনির সেই ফাইনালে বেদনাদায়ক পরাজয়ে রৌপ্য জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল স্পেনকে।
অলিম্পিকে সাধারণত ফুটবল দলটা হয়ে থাকে বয়সভিত্তিক। ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের ক্যাটাগরিতেও সেটি পড়ে না। এ দলটির বয়সসীমা সর্বোচ্চ ২৩ বছর। তবে দলে তিনজন সিনিয়র খেলোয়াড় থাকতে পারেন। সে যাই হোক, ম্যাচটি যখন ফ্রান্স বনাম স্পেনের; ঘুরেফিরে ইউরোর সেই ম্যাচের কথাই বারবার সামনে আসছে। এবার ঘরের মাঠে ইউরো হারার শোধ নেবে ফ্রান্স নাকি স্বাগতিকদের আরও একবার কাঁদিয়ে শিরোপা উল্লাস করবে স্প্যানিয়ার্ডরা।