প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৪ ০২:৫৭ এএম
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৪ ১০:৪১ এএম
শ্যারন ফন রুভেনডাল
আবারও ম্যারাথন সাঁতারের মুকুট নিজের করে নিলেন শ্যারন ফন রুভেনডাল। বৃহস্পতিবার প্যারিস অলিম্পিকে মেয়েদের ১০ কিমি সাঁতারে স্বর্ণ জিতেছেন নেদারল্যান্ডসের এই সাঁতারু। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে এই ইভেন্টে প্রথমবার স্বর্ণ জেতেন এই ডাচ নন্দিনী। তবে এই রাজত্ব টোকিও অলিম্পিকে ধরে রাখতে পারেননি শ্যারন। পান রুপার পদক। প্যারিসের সিন নদীতে সেই রিওর স্মৃতি ফেরালেন এই ডাচ নন্দিনী। এর মধ্য দিয়ে গড়লেন ইতিহাস। অলিম্পিকে প্রথম সাঁতারু হিসেবে দুবার স্বর্ণ জেতার কর্তি গড়লেন শ্যারন।
জোড়া স্বর্ণ শিকারের পথে শ্যারন সময় নেন ২ ঘণ্টা ৩ মিনিট ৩৪ দশমিক ২ সেকেন্ড। বলা বাহুল্য তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি বাকি প্রতিযোগীরা। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার মোয়েশা জনসন তার চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন ৫ দশমিক ৫ সেকেন্ড। মোয়েশা পান রুপা। আর ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন ইতালির জিনেভরা তাদেউচি।
চলতি প্যারিস অলিম্পিকে অন্যতম বিতর্ক সিন নদীর জল দূষণ। এ নিয়ে ঘটেছে অনেক কিছুই। সাঁতার কাটতে গিয়ে দূষণের শিকার হতে হয় প্রতিযোগীদের। সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। তাই সবচেয়ে দূরপাল্লার এই সাঁতার সিন নদীতে সম্ভব কি না ওঠে সেই প্রশ্নও। এই ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার আগে সিন নদীর পানি নিজেই পরখ করেন শ্যারন। এখানকার পানি যথেষ্ট নিরাপদ এটা নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে রাজি হন এই ডাচ জলকন্যা। প্রতিযোগিতার দুদিন আগে সিন নদীর পানি হাতে নিয়ে বলেন, ‘এই পানি শীতল ও চমৎকার। আমি এখানে সাঁতার কাটার জন্য মুখিয়ে আছি।’
প্যারিসে রিওর স্মৃতি ফেরানোর তাড়না থেকেই তার এই সাফল্য বলেও জানান শ্যারন। তার জীবনের ভালোবাসা ও ট্র্যাজেডির সঙ্গে মিশে আছে রিও। ২০১৬ সালের অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতার পর তার প্রিয় কুকুরের নাম রাখেন রিও। তার এই অতি প্রিয় কুকুরটি মারা যায় এ বছরের মে মাসে। রিওকে সন্তানতুল্য মনে করেন তিনি। রিও মারা যাওয়ার পর মুষড়ে পড়েছিলেন, স্বর্ণ জেতার পর বলেন এসব কথাও। মিক্সড জোনে শ্যারন সাংবাদিকদের জানান, এই বিজয় রিওর স্মৃতির প্রতি উত্সর্গ করছি। এ সময় আবেগাপ্লুত শ্যারন বলেন ‘সাঁতার যেমন আমার সবকিছু, তেমনি সেও (রিও) আমার সবটা জুড়ে ছিল। মে মাসে ও মারা যাওয়ার পর আমার পৃথিবী স্থির হয়ে গেল এবং আমি তার জন্য আরও একবার সাঁতার কাটতে চেয়েছিলাম।’
সান্তানতুল্য রিও মারা যাওয়ার পর ভেঙে পড়েছিলেন শ্যারন। তার এই শোককে শক্তিতে পরিণত করার জন্য রুভেনডালকে সাহস জোগান তার বাবা। সেই স্মৃতি মনে করে স্বর্ণ জেতা এই সাঁতারু বলেন, ‘আমার বাবা বলেছেন, আরও একবার সাঁতার কাটো এবং তার (রিও) জন্য হলেও এটি করো। আমি সেটাই করেছি।’ স্বর্ণ মিশন শেষ করার পর তার কবজিতে আঁকা রিওর ট্যাটুতে চুমুও দেন শ্যারন। বাষ্ফরুদ্ধ কণ্ঠে রিওর মৃত্যু কথা বলেন শ্যারন, ‘তার (রিওর) ফুসফুসে একটা অপারেশনের প্রয়োজন হয়। আমরা ভেবেছিলাম, সে সুস্থ হয়ে উঠবে। আর আমরা একসঙ্গে অলিম্পিকে আসব। এরপর দেশে ফিরে রিওর সঙ্গে বাগানে ছুটোছুটি করব। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। সার্জারির পর বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিল। শেষ পর্যন্ত রিও আমাকে ছেড়ে চলে গেল।
২০১৬ সালে রিওতে স্বর্ণপদক এবং টোকিওতে রৌপ্যপদক বিজয়ী শ্যারনের এটি তৃতীয় অলিম্পিক পদক। ৩০ বছর বয়সি এই ডাচ নন্দিনী ২০২২ সালে বুদাপেস্টে গৌরব অর্জন করেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হওয়ার। টোকিও অলিম্পিকে অল্পের জন্য স্বর্ণ হাতছাড়া করেন শ্যারন। সেবার ব্রাজিলের আনা মার্সেলা কুনিয়ার চেয়ে মাত্র ০.৯ সেকেন্ড বেশি সময় নিয়ে লাভ করেন দ্বিতীয় স্থান। কুনিয়া সময় নেন ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৩০.৮ সেকেন্ড। আর শ্যারন সময় নেন ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৩১.৭ সেকেন্ড। টোকিওর চেয়ে এবার অবশ্য বেশি সময় নেন এই ডাচ নন্দিনী। তবে তাতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলতে কোনো সমস্যা হয়নি শ্যারনের।