প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৪ ১৯:৩৯ পিএম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৪ ২১:২২ পিএম
সাইদুর রহমান প্যাটেল আর নেই। সংগৃহীত ছবি
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্যাটেল আর নেই। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ৭৩ বছর বয়সি সাইদুর রহমান এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইদুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ফেডারেশন লিখেছে, ‘খবরটি শুনে আমরা সত্যিই দুঃখিত। সেখানে (পরকালে) তিনি সুন্দর জায়গায় থাকবেন।’ সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবশেষে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় গঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। যে দলটির উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন ও তহবিল সংগ্রহ। সেই স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সাবেক ফুটবলার সাইদুর রহমান। ওই বছরের ২৫ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর স্টেডিয়াম সাক্ষী হয়েছিল অনন্য এক ইতিহাসের। ভারতের মাটিতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল প্রথম ম্যাচটি খেলেছিল নদীয়া জেলা ক্রীড়া সমিতি দলের বিপক্ষে। এরপর একে একে খেলা ১৫টির মতো ম্যাচ থেকে ওঠা টাকা মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দেয় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।
ক্লাব ক্যারিয়ারে সর্বশেষ ইস্ট এন্ড ক্লাবে খেলেছিলেন সাইদুর রহমান। যে ক্লাব এখন মৃতপ্রায়। অসুস্থাবস্থায় সুদূর আমেরিকায় থেকেও তিনি ভেবেছিলেন পুরোনো ক্লাব নিয়ে। আশা করেছিলেন একদিন আবার জৌলুস ফিরে পাবে তার সাবেক ক্লাব। ১৯৭৫ সালে ইস্ট এন্ড ক্লাবে তাকে নেওয়া হয়। শুধু নেওয়া বললে ভুল হবে, সেই সময়ে দলের অধিনায়ক ছাপিয়ে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় দল গঠনেরও। দল গঠনের পর সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে পরবর্তী সময়ে ইস্ট এন্ড ক্লাবও মাঠে সাফল্য বয়ে আনে। গত এপ্রিলে প্রতিদিনের বাংলাদেশের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে সেই সময়কার অনেক স্মৃতি রোমন্থন করেছিলেন সাইদুর রহমান। জানিয়েছিলেন কীভাবে সাদামাটা একটা দল ঢাকার জায়ান্ট কিলারে পরিণত হয়েছিল।
কিন্তু ইস্ট এন্ড ক্লাবে তার শেষটা সুন্দর হয়নি। রাজনৈতিক কারণে দৃশ্যপটই বদলে যায় সে সময়। বেঁচে থাকতে সেই ঘটনা নিজেই জানিয়েছিলেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে, ‘এখানে একটা ট্র্যাজেডি আছে। আমি আড়ালে চলে গেলাম। ক্লাবে রাত ২টা-৩টার সময় কারা যেন হানা দেয়। অনেক খেলোয়াড় ভয়ে পালাল। পরে আমি জেলে (শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে) গেলাম। ছয় বছর আমি না থাকায় ক্লাবে ধস নামল।’
ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে ১৯৫১ সালের ৭ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন সাঈদুর রহমান প্যাটেল। বসবাস করতেন রাজধানীর গেন্ডারিয়ায়।