প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৩৮ পিএম
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি : সংগৃহীত
কাতার ২০১০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমতি পায়। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার, সক্ষমতা ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। বিশেষত বিদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে কাতারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে অনেক পশ্চিমা দেশ। এবার তার দাঁতভাঙা জবাব দিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবলের আগের দিন শনিবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কাতারের রাজধানী দোহায় সংবাদ সম্মেলন করেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এতে তিনি নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাকস্বাধীনতা হরণ, এলজিবিটিকিউ অধিকার অস্বীকার ইত্যাদি নিয়ে পশ্চিমারা কাতারের যে সমালোচনা করছে, তার কঠিন জবাব দিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট।
জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘ইউরোপ ও অন্য পশ্চিমারা আমাদের (ফিফা) সম্প্রতি যথেষ্ট পাঠ দিয়েছেন। আমি নিজেও একজন ইউরোপীয়। তিন হাজার বছর ধরে আমরা ইউরোপীয়রা সারা বিশ্বে এসব করে বেড়াচ্ছি। অন্যদের পাঠ দেওয়ার আগে এখন আমাদের ক্ষমা চাওয়ার সময় এসেছে বলে আমার মনে হচ্ছে। আমি মনে করি, আমরা গত তিন হাজার বছরে যা করেছি, তার জন্য আগামী তিন হাজার বছর আমাদের ক্ষমা চাইতে হবে। এখন পশ্চিমারা যা করছে, তা এক ধরনের ভণ্ডামি।’
সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজের বিরক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আজ আমার নিজেকে একজন কাতারি মনে হচ্ছে। একজন আরব মনে হচ্ছে। নিজেকে মনে হচ্ছে আফ্রিকান। এ মুহূর্তে আমার নিজেকে একজন সমকামী, পঙ্গু ও পরিযায়ী শ্রমিক মনে হচ্ছে।’
‘আপনারা যদি এতই সমালোচনা করেন, তাহলে কাতারের মতো নিজেরাই কেন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন না। কাতার হাজার হাজার বিদেশি শ্রমিকের জন্য কর্মসংস্থান করেছে। পারলে আপনারাও করুন।’
‘যারা কাতারের বিশ্বকাপ আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান; তাদের বলি, কাতার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এবারে বিশ্বকাপ হবে অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ।’
২০২১ সালে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমতি পাওয়ার পর থেকে কাতারে অন্তত ৬ হাজার ৫০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের প্রায় সবাই ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক।
উল্লিখিত সময়ে নিজ দেশে ওই পরিমাণ শ্রমিকের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও, তারা সবাই ফুটবল বিশ্বকাপ প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে মারা গেছেন, এমন দাবি অস্বীকার করে কাতার।
কাতার ও ফিফার তথ্যমতে, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বকাপ প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে ৪০ বিদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মাত্র তিনজন সরাসরি প্রকল্প সম্পৃক্ত কাজে মারা গেছে। বাকিরা সড়কসহ নানা দুর্ঘটনায় মারা গেছে।
রবিবার উদ্বোধনী ম্যাচে ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে কাতার। আল-বাইত স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় রাত ৭টায় এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।