প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৪ ১৪:১৭ পিএম
কাতার বিশ্বকাপে হার, বর্ণবিদ্বেষী গান, অধিনায়ককে কটাক্ষ এবং ‘দ্বিচারী’
রাষ্ট্র অ্যাখ্যাÑ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাক্ষী আর্জেন্টিনা।
দুই দেশের মাঝে শীতল যুদ্ধ বহমান। যদিও এ নিয়ে ক্ষমা চেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে বিতর্কের
উৎস যেহেতু ফুটবল, হয়তো মাঠেই হবে এর ফয়সালা। অবশ্য সে সুযোগ অলিম্পিকে পেয়েই গেল ফ্রান্স।
আজ শুক্রবার রাত ১টায় বোর্দোয় কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক
দল। স্নায়ুক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিতে যাওয়া ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বেইন স্পোর্টস।
আজকের ম্যাচে ‘কে সেরা’ প্রশ্নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিকট অতীত ঘটন-অঘটন।
ম্যাচটি যতটা দুই অধিনায়ক নিকোলাস ওটামেন্ডি ও জ্যঁ-ফিলিপে মাতেতার, ততটা বিশ্বকাপজয়ী
দুই কোচ হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানো ও থিয়েরি অঁরির। ম্যাচটির আগেই শুরু তর্কযুদ্ধ। আর্জেন্টিনাকে
এক প্রকার হুমকিও দিয়ে রেখেছেন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক মাতেততা। আর্জেন্টিনা ও ম্যানসিটির
ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ বলেছেন, এখনই সময় ১৬ বছরের আক্ষেপ ঘোচানোর। ছোট্ট ফুটবল জীবনে
সব পাওয়া এই তারকা এবার সুযোগ অলিম্পিক স্বপ্ন পূরণের।
দীর্ঘ সময় ফুটবলে রাজত্ব করা আর্জেন্টিনার অলিম্পিকে শুরুটা হোঁচট
দিয়ে। যদিও পরের দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায়। তবে গ্রুপ
রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। বিপরীতে বেশ ছন্দে ফরাসিরা। তিন ম্যাচে দলটি করেছে
সাত গোল, গোল খায়নি একটিও। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তাই বেশ আত্মবিশ্বাসী দলটি। তার
মধ্যে শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। তাতেই ক্ষোভ-জেদ আর তেতে থাকার ব্যাপারটিও
একটু বেশি। এ নিয়ে দলটির অধিনায়ক বলেছেন, সম্প্রতি যা ঘটেছে, তাতে ফ্রান্সের সবাই আক্রান্ত
হয়েছে। এবার আমরা দেখব কোয়ার্টার ফাইনালে কী হয়।’ তবে আর্জেন্টিনাকে সমীহও করছেন ইংলিশ
ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেসের এই স্ট্রাইকার, ‘আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং
ওরা এমন একটা দল, যারা সব টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠে। তবে আগে আমরা (নিউজিল্যান্ডের
বিপক্ষে) জয় উদযাপন করব। এরপর ওদের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ভাবব।’
আর্জেন্টিনাও পাখির চোখ করেছে প্যারিস অলিম্পিক। সোনার পদক চাই-ই
চাই তাদের। ২০০৪ ও ২০০৮ সালে টানা দুবার অলিম্পিক ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। এবার
১৬ বছরের আক্ষেপ ঘোচানোর পালা। আলভারেজ বলছেন সেটিই, ‘আমরা হার দিয়ে শুরু করেছিলাম।
সেই হার নিয়ে সত্যিই খুব রাগান্বিত ছিলাম। এরপর আমরা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ফ্রান্স
স্বাগতিক। তাই আমরা জানি ওদের বিপক্ষে খেলার অর্থ কী। তবে ফাইনালে যেতে হলে আমাদের
সামনে যারাই পড়বে, তাদেরকেই হারাতে হবে।’ একই কথা দলটির মিডফিল্ডার থিয়াগো আলমাদারও।
বলেছেন, আপনার লক্ষ্য যখন সোনা। তখন প্রতিপক্ষ কে, তারা কেমন শক্তিশালী, সেটা নিয়ে
ভাবা অমূলক। ব্রডকাস্টার টিওয়াইসিকে ২৩ বছর বয়সি এই তারকা বলেছেন, ‘সোনার পদক জয় করতে
এসেছি। আমাদের যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে প্রস্তুত থাকতে হবে।’