ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড শুরু আজ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১১:১৮ এএম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১১:২৩ এএম
নোয়াহ লাইলস
দুই হাতের তর্জনি প্রদর্শন। অতঃপর আকাশ পানে তীর ছোড়ার ভঙিমা- উসাইন বোল্টের এই ট্রেডমার্ক উদযাপন এখন আর দেখা যায় না ট্র্যাকে। কিংবা দুই হাত বাঁকিয়ে চুলবিহীন মাথার ওপর রাখা- মো. ফারাহর সেই মায়াজালের উদযাপনও এখন আর চোখে পড়ে না। কিন্তু স্প্রিন্টপ্রেমীদের চোখ আজও খুঁজে বেড়ায় জ্যামাইকান গতিদানব উসাইন বোল্টের মতো নতুন তারকাকে। যিনি কিনা ভেঙে দিতে পারেন বিশ্বের এ দ্রুততম মানবের ১০০ মিটারের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ড। কিংবা সন্ধান করে বেড়ান ব্রিটিশ দৌড়বিদ মো. ফারাহর মতো ট্র্যাকে দাপট দেখানোর মতো নয়া কোনো সুপারস্টারকে।
সাঁতারের ৪০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে ‘রেস অব দ্য সেঞ্চুরি’তে অস্ট্রেলিয়ান কন্যা আরিয়ার্না টিটমাস, কানাডার সামার ম্যাকিন্টোশ আর যুক্তরাষ্ট্রের কেটি লেডিকির বিজয় উপভোগ শেষে এবার ক্রীড়ামোদীদের চোখ রাখার পালা অ্যাথলেটিকসে। আজ থেকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে গড়াতে যাচ্ছে অলিম্পিকের সবচেয়ে আকর্ষণের এই ডিসিপ্লিন। যেখানে সব সময়ই আধিপত্য বিস্তার করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডকে বোল্ট গুডবাই বলার পর অলিম্পিকে দেখা মেলেনি আর কোনো মহাতারকার। শুধু অলিম্পিক কেন? বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের ট্র্যাকেও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কোনো সুপারস্টারের অভাব অনেক দিনের। নতুন কোনো মেগাস্টার আবির্ভূত হয়ে বোল্টের ফেলে যাওয়া শূন্য জায়গাটা ঠিক পূরণ করতে পারছে না কেউ।
তবে সারা দুনিয়া এখনও চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় নতুন কোনো মহানায়কের ছড়ানো দ্যুতিতে চোখ ঝলসে নিতে। বোল্টের বিদায়ে স্প্রিন্টে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেই স্থানটা পূরণের লক্ষ্যে ট্র্যাকে নামতে প্রস্তুত মাইকেল জনসন, ম্যারিয়ন জোন্স ও কার্ল লুইসদের উত্তরসূরি মার্কিন দৌড়বিদ নোয়াহ লাইলস।
তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের তারকা এ স্প্রিন্টারের লক্ষ্য টোকিও অলিম্পিকে তার সঙ্গী হওয়া দুর্ভাগ্য ঝেরে ফেলা। টোকিও অলিম্পিক আয়োজনের মূল সূচি ছিল ২০২০ সালে। লাইলস পাখির চোখ করেছিলেন ১০০, ২০০ ও ৪x১০০ মিটারের স্বর্ণপদকে। কিন্তু করোনা মহামারির দাপটে শেষ পর্যন্ত অলিম্পিক ওই আসরের পর্দা উঠে পরের বছর মানে ২০২১ সালে।
কিন্তু তার আগেই যত সব আপদ কাঁধে চেপে বসে লাইলসের। চোট তো ছিলই, সঙ্গে মানসিক অবসাদও পিছু নিয়েছিল তার। সব মিলিয়ে লাইলস হয়ে পড়েছিলেন বিপর্যস্ত। গত আসরের ১০০ মিটারের অলিম্পিক ট্রায়ালেই কপাল পুড়েছিল তার। শেষমেশ লাইলস সন্তুষ্ট থেকে যান শুধু ২০০ মিটারের ব্রোঞ্জপদক নিয়ে। স্বর্ণপদক হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপের আগুনে এখনও পুড়ে ছারখার হন লাইলস।
তাই তো কিছু দিন আগে লন্ডন ডায়মন্ড লিগে ১০০ মিটারে ব্যক্তিগত সেরা ৯.৮১ সেকেন্ডের টাইমিং করেও তার কণ্ঠে ঝরেছে সেই অপ্রাপ্তির দুঃখগাথা, ‘আমার বুকে এখনও আগুন ধরায় ওই ব্রোঞ্জ। আমি প্যারিসে এটি নিয়েই ঘুরব। নিজেকে মনে করিয়ে দিতে যে এবার আর এই রঙ নিয়ে ফিরছি না।’
প্যারিস অলিম্পিকে চার বছর আগের পুরোনো দুঃখ ঘোচানোর টার্গেট এবার লাইলসের চোখের সামনে। ২০২৩ বুদাপেস্টে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪x১০০ মিটারের তিনটি ইভেন্টেই সোনার পদক পরেছেন নিজের গলায়। এবার প্যারিস অলিম্পিকেও এই তিন ইভেন্টেই রাজত্ব করতে চান লাইলস। সঙ্গে দৌড়াতে চান ৪x৪০০ মিটার রিলেতেও।
উসাইন বোল্টের পর প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের এক আসরে জিতেছেন ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪x১০০ মিটার রিলেতে। ২০১৫ সালে বেইজিংয়ে যা করেছিলেন জ্যামাইকান এ কিংবদন্তি। ১১টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও আটটি অলিম্পিক সোনা জয়ের পর ২০১৭ সালে অবসর নেন বোল্ট।
অলিম্পিকের ইতিহাস বলছে- এখন পর্যন্ত কোনো অ্যাথলেট একই আসরে চারটি ট্র্যাক ইভেন্টে স্বর্ণপদকের দেখা পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের জেসি ওয়েন্স (১৯৩৬ বার্লিন) ও কার্ল লুইস (১৯৮৪ লস অ্যাঞ্জেলস) দুজনই চারটি করে স্বর্ণ জয়ের ইতিহাস গড়েছেন। তবে সেটা ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্ট মিলিয়ে। দুজনই ১০০, ২০০ ও ৪x১০০ মিটারে তো সেরা হয়েছেনই, সঙ্গে অন্য যে ইভেন্টে সেরা হয়েছেন, সেটা ছিল লং জাম্প।
অন্যদিকে ১৯০০ সালে প্যারিস অলিম্পিকে ৬০ মিটার স্প্রিন্ট, ১১০ মিটার হাই হার্ডলস, ২০০ মিটার লো হার্ডলস ও লং জাম্প মিলিয়ে চার সোনা জয়ের কীর্তির মালিক আর কেউ নন, যুক্তরাষ্ট্রের আলভিন ক্রায়েনজলিন। প্যারিস অলিম্পিকে এবার লাইলসের সামনে সুবর্ণ সুযোগ, সেই কিংবদন্তিদের মাইলফলক ছোঁয়ার। একই সঙ্গে সেই লিজেন্ডদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
তবে লাইলসকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত হয়ে আছেন ইতালির দৌড়বিদ মার্সেল জ্যাকব। ট্র্যাকে আলো ছড়াতে পুরুষদের সঙ্গে প্রস্তুত নারী স্প্রিন্টাররা। স্বর্ণপদক জয়ের লড়াইয়ে নামবেন যুক্তরাষ্ট্রের শা’কারি রিচার্ডসন, জ্যামাইকার শেরিকা জ্যাকসন ও শেলি-অ্যান ফ্র্যাসার-প্রাইস।
ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে নাটকীয় গল্প লিখতে বিশ্বের সেরা অ্যাথলেটরা নিজেকে শেষ সময়ের জন্য ঝালাই করে নিচ্ছেন। রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর প্রচণ্ড শত্রুতায় চোখ রেখে বিশ্বরেকর্ড গড়ার দিকে নজর থাকবে তাদের। নিজেদের ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে দিতে স্তেদে দে ফ্রান্সের ট্র্যাকে নামছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা প্রিন্টাররা। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তাদের লড়াই আজ শুরু হয়ে চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত।