প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৪ ১৮:৩৬ পিএম
গোটা বিশ্বের বাঁকবদলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘ফরাসি বিপ্লব’। আর তাই পৃথিবীর যে প্রান্তেই খুব বড় কিছু ঘটলে তুলনা করা হয় ফরাসি বিপ্লবের সঙ্গে। আর ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্যারিস। শিল্প-সাহিত্য সর্বোপরি ভালোবাসার নগরী প্যারিসের শতবর্ষী অলিম্পিকে অন্তত প্রথম চার দিনে ক্রীড়াপিয়াসীরা দেখছেন ‘এশিয়া বিপ্লব’। গতকাল সোমবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পদক তালিকার শীর্ষ চারটির তিনটি স্থানই দখল করে আছে এশিয়ার তিন দেশ।
চলতি অলিম্পিক আসরে বেশিরভাগ ইভেন্টই এখনও বাকি। ১৬ দিনের আসরে অতিক্রান্ত হয়েছে চার দিন। শেষ পর্যন্ত প্রভাত দিবসের পূর্বাভাস দেবে কি না সেটা অন্য প্রসঙ্গ। তবে এশিয়ার তিন প্রধান চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া কিন্তু সব আলো টেনে নিয়েছে নিজেদের দিকে। গতকাল রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে মোট ৩২টি ইভেন্ট। এর মধ্যে পাঁচটি স্বর্ণ নিয়ে টেবিলে সবার ওপরে চীন। পরের তিনটি স্থানে যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এই তিন দেশের সংগ্রহে চারটি করে সোনা। তিন স্বর্ণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পাঁচ নম্বরে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টেবিলের অবস্থান যে পাল্টাবে এটা অনুধাবন করার জন্য প্রয়োজন পড়ে না বিশেষজ্ঞ হওয়ার। কেননা ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড’-এর ইভেন্টগুলো যখন শুরু হবে তখন যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা এগিয়ে যাবে। তবে গত তিন দশকে অলিম্পিকে এশিয়ার গ্রাফটা কিন্তু ক্রম ঊর্ধ্বমুখী। আর নতুন মিলেনিয়ামে অলিম্পিকের মূল লড়াইটা মূলত যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের মধ্যে।
১৯৮০-এর দশকের আগ পর্যন্ত অলিম্পিকে সেই অর্থে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই ছিল না এশিয়া। ১৯৮৮ সালে প্রথমবারের মতো আশার আলো দেখায় স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়া। সিউল অলিম্পিকে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সেরা চারে জায়গা করে নেয় স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়া। তবে সেই অবস্থান পরবর্তীতে ধরে রাখতে পারেনি কোরিয়ানরা। ১৯৯০-এর দশকে অলিম্পিক আসরে রাজসিক উত্থান ঘটে চীনের। ১৯৯২-এ বার্সেলোনা আসরে চতুর্থ স্থান লাভ করে চীন। এরপর আর পেছনে তাকায়নি দেশটি। ১৯৯৮ সালে আটলান্টায় অলিম্পিকের শতপূর্তি আয়োজনেও চতুর্থ হয় চীন। পরের আসরে তারা উঠে আসে তৃতীয় স্থানে। ২০০৪ সালের অলিম্পিকে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে চীন। সাফল্যের এ ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে স্বাগতিকতার সুবিধা কাজে লাগিয়ে টেবিলে এক নম্বর স্থান পায় চীন। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে দ্বিতীয় স্থানে থাকে চীন। পরের আসরে তিন নম্বরে থেকে শেষ করে দেশটি।
সর্বশেষ টোকিও আসরে অলিম্পিকে নিজেদের সরব উপস্থিতি জানান দেয় এশিয়া। চীনের পাশাপাশি জাপানও শামিল হয় শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে। শেষ দিনের চমকে চীনকে টপকে শীর্ষস্থান পায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিনিদের চেয়ে একটা সোনা কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে চীন। ২৭ সোনা জিতে প্রথমবারের মতো তৃতীয় হওয়ার গৌরবের অধিকারী হয় জাপান।
আগামীর অলিম্পিকে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে এাশিয়া, তারই যেন শুরুটা হয়েছে চলতি প্যারিস আসরে।