প্যারিস অলিম্পিক
আরিফুর রাজু
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৪ ১১:৩৮ এএম
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৪০ পিএম
অনেক কথাই বলা হচ্ছিল। কিছু ইতিহাসের পাঠ থেকে, বাকিটুকু অদম্য কীর্তির নিরিখে। স্বপ্নের লড়াইও বলেছেন কেউ কেউ। রোঁলা গাঁরোর লাল দুর্গে স্প্যানিশ কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল ও সার্বিয়ার টেনিস সম্রাট নোভাক জোকোভিচের লড়াইয়ের পরতে পরতে থাকবে উত্তেজনা। আক্রমণ-গতি আর আত্মবিশ্বাসে নির্ধারণ হবে ‘ফয়সালা’। তবে গতকাল সোমবার অলিম্পিকের পুরুষ এককের দ্বিতীয় রাউন্ডে এসবের কিছুই দেখা যায়নি। ফরাসি ওপেনের যে সাম্রাজ্য এক যুগ শাসন করেছেন নাদাল, সেখানেই তাকে সরাসরি ৬-১, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন জোকোভিচ।
নিয়ম-সূচি আর ইনজুরি ইস্যুতে অলিম্পিক পুরুষ এককের দ্বিতীয় রাউন্ডে নাদাল-জোকোভিচ দ্বৈরথ নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধূম্রজাল। জোকোভিচ বিরক্ত প্রতিযোগিতার নিয়ম নিয়ে, নাদাল ক্ষুব্ধ সূচি ইস্যুতে। স্প্যানিয়ার্ড তো প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত টেনিসের দুই মহাতারকার প্রতিযোগিতা দেখল বিশ্ব। তবে ম্যাচটি হয়েছে একেবারেই ম্যাড়মেড়ে। আহত সিংহের মতো কোর্টে নেমেছিলেন নাদাল। ব্যান্ডেজের আস্তরণ ছিল ডান পায়ের থাইয়ে। নিজের চিরচেনা দুর্গে শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ও উদভ্রান্তের মতো দেখাচ্ছিল তাকে। যে লাল সুরকির কোর্টে এক সময় অপ্রতিরোধ্য ছিলেন, সেখানে অসহায় ছিলেন নাদাল।
দুজনের ৬০তম ম্যাচে জোকোভিচ ছিলেন চেনা ফর্মে। জানতেন, ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে চোটাঘাতে জর্জরিত এই নাদাল আর আগের ফর্মে নেই।ম্যাচের সব বিভাগেই পিছিয়ে ছিলেন ২২ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী নাদাল । শক্তিশালী সার্ভিস, ব্যাকহ্যান্ড, ফোরহ্যান্ডে তো ছিলই, দ্রুত কোর্ট কভারিংয়েও সুবিধা নিতে পারেননি তিনি। প্রথম সেটে ৩৯ মিনিটে ৬-১ ব্যবধানে হেরে বসলেন। তবে দ্বিতীয় সেট কিছুটা জমেছে। এ সেটে লড়াই হয়েছে ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট। টানা দুটি ব্রেক পয়েন্ট তুলে নেওয়ার সঙ্গে নিজের সেটে যখন পয়েন্ট আদায় করে নাদাল নেন তখন স্কোরবোর্ড দাঁড়ায় ৪-৪ এ। কিন্তু এরপর নিজের সার্ভে পয়েন্ট আদায় করে নিতে পারেননি এই স্প্যানিশ তারকা। ব্রেক পয়েন্ট আদায় করে ফের এগিয়ে যান ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ীজোকোভিচ। এ সেটে তুলনায় ভালো খেলেও হারলেন ৪-৬ ব্যবধানে।
২০০৮ সালের অলিম্পিকে সোনার পদক জিতেছিলেন নাদাল। ওই আসরেই জোকোভিচ জেতেন ব্রোঞ্জ। ক্যারিয়ারে অনেক অর্জনের ভিড়ে অলিম্পিকে সোনার হাসি কখনও হাসতে পারেননি সার্ভিয়ান সুপারস্টার। তার মধ্যে বয়সও ৩৭ পেরিয়েছে। শরীরে চোটও থাবা দিতে শুরু করেছে। তাই এবারই হয়তো তার এই অপূর্ণতা পূরণের শেষ সুযোগ। সে সুযোগটা অবশ্য এসেছে নিকটতমপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিদায়ে। এ নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে জোকোভিচ। ম্যাচ শেষে সম্প্রচার চ্যানেলকে বলেছেন, ‘অবশেষে স্বস্তি পেলাম। সবকিছুই আমার পক্ষে আসছিল। আমি ৬-১, ৪-০ ব্যবধানে ছিলাম। কিন্তু একটু ধীরে খেলছিলাম এবং তাকে সুযোগ দিচ্ছিলাম। কখনও ভাবিনি দুজন ২০ বছর পরও একসঙ্গে খেলতে পারব।’
অলিম্পিক সিঙ্গেলসে সোনা জেতার স্বপ্ন শুধু জিইয়ে রাখা জোকোভিচও এদিন ছিলেন কিছুটা অস্বস্তিতে। তারও বাঁপায়ে ছিল ব্যান্ডেজ। সবেমাত্র মে মাসের ফরাসি ওপেনের মাঝপথে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন পায়ে। ফিরে এসেছেন উইম্বলডনে। প্রায় অতিমানবীয় পারফর্ম করে পৌঁছেছেন ফাইনালে। যদিও শেষটা সুন্দর হয়নি। তবে অলিম্পিকের শেষটা রাঙানোর পথেই তিনি। বলেছেনও সেটি। ‘আমি দারুণ কিছুর অপেক্ষায়। স্বপ্ন হয়তো পূরণ হবে।’ ম্যাচ শেষে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
জকোর কাছে এককে হারলেও নাদালের প্যারিস অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। ম্যাচ শেষে সেটাই বলেছেন তিনি। বলেছেন, ‘এটাই শেষ নয়, এখনও লড়াই বাকি।’ টেনিসের সময়ের অন্যতম সেরা স্প্যানিশ তারকা কার্লোস আলকারেজের সঙ্গে দ্বৈতে অংশ নেবেন তিনি। নিশ্চয় এককের দুঃখ দ্বৈতে ভুলতে চাইবেন লাল দুর্গের রাজা।