মেয়েদের এশিয়া কাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৪ ১৮:৪৮ পিএম
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪ ১৯:২৫ পিএম
ষষ্ঠবারের চেষ্টায় এশিয়ার সেরার মুকুট অর্জন লঙ্কান মেয়েদের— ছবি: আ. ই. আলীম
এক দুই বার নয়, এশিয়া কাপে পাঁচবার ফাইনাল খেললেও শিরোপা বঞ্চিত ছিল শ্রীলঙ্কার মেয়েরা। প্রতিবারই তারা ভারতের মেয়েদের কাছে হেরে ট্রফি জয়ের সুযোগ হাত ছাড়া করেছিল। তবে ঘরের মাঠে এবার কোনো ভুলই করেননি চামারি আত্তাপাতুরা। রেকর্ড গড়া জয়ে ভারতের মেয়েদের হারিয়েই মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করল লঙ্কান মেয়েরা।
রবিবার (২৮ জুলাই) ডাম্বুলা রঙ্গিরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের নবম আসরের ফাইনালে ভারতকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া ক্যাপের শিরোপা জিতেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক চামারি আত্তাপাতু ও হর্ষিতা সামারাবিক্রমার ব্যাটে চড়ে ভারতের দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য ১৮.৪ ওভারেই পেরিয়ে যায় লঙ্কানরা।
মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের ফাইনালেই টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়ল শ্রীলঙ্কার মেয়েরা। এর আগে চলতি বছর দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েদের বিপক্ষে ১৫৬ রান তাড়া করে জয়ই ছিল তাদের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০০৪,২০০৪-০৫, ২০০৫, ২০০৬ ও ২০২২ সালের এশিয়া কাপে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়েছিল তাদের।
অধিনায়ক আত্তাপাতুর ফিফটিতে লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল লঙ্কানরা— ছবি: আ. ই. আলীম.শিরোপা ধরে রাখার মিশনে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৪৪ রান তুলে দুর্দান্ত শুরু করে দুই ভারতীয় ওপেনার শেফালি ভার্মা এবং স্মৃতি মান্ধানা। তবে সেট হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি শেফালি। ১৯ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর তিনে নামা উমা সেত্রীও (৯) দ্রুত বিদায় নেন। ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরও। ১১ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১১ করে সাজঘরে ফেরেন।
তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন স্মৃতি মান্ধানা। ৩৬ বলে ফিফটি তুলে নেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৬০ রান করে বাউন্ডারি লাইনে কাটা পড়েন ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। ৪৭ বলের ইনিংসে হাঁকান ১০ টি বাউন্ডারি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে জেমিমাহ রদ্রিগেস ১৬ বলে ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন। শেষদিকে ব্যাটিংয়ে এসে তাণ্ডব চালাতে থাকেন রিচা ঘোষ। ইনিংসের শেষ ওভারে তৃতীয় বলে সাজঘরে ফেরার আগে ১৪ বলে ৩০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই ডান হাতি ব্যাটার। তাতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান করে ভারত।
ভারতের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বিশমি গুনারত্নের (১) উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে ব্যাট হাতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নেন চামারি আত্তাপাতু। ৪৩ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৬১ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। অধিনায়কের গড়ে দেওয়া ভিতে দাঁড়িয়ে দলকে শিরোপা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন হার্শিতা সামারাবিক্রমা। বাঁহাতি এই ব্যাটার ৫১ বলে ৬৯ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন। অপরাজিত ইনিংসে ৬টি চারের সাথে হাঁকান ২টি ছক্কা। তার সঙ্গী কবিশা দিলহারি ১৬ বলে ৩০ রান করে দলকে প্রথমবার নারী এশিয়া কাপের ট্রফি এনে দেন।