প্যারিস অলিম্পিক
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৪ ১৬:০১ পিএম
তিন বছরের মাঝে ওলটপালট হয়ে গেল সব। মানিজা তালাশেরও স্বপ্নটাও থমকে গেল। আফগানিস্তানের কাবুলে নিজের ড্যান্স ক্লাবের সামনে বোমা ফাটল, হামলা হলো, অগণিতবার হত্যার হুমকিও পেলেন। কিন্তু থেমে থাকলেন না। ২০২০ সালে আফগান তরুণীর ব্রেক ড্যান্সার হওয়ার সাধ মরণপণ হয়ে গেল। সরকার বদলাল, নিয়মেও এলো ঢের বদল। নিজেকে বাঁচাতে দেশটাই ছাড়তে হলো মানিজাকে। কাবুলের পাহাড়ি পথ ধরে প্রথমে পাকিস্তান। প্রতিবেশী দেশের উদ্বাস্তু শিবির থেকে সরাসরি স্পেনে। মননে বুনে দেওয়া ব্রেক ড্যান্সার হওয়ার সেই স্বপ্ন ইউরোপের আলো-বাতাসে অঙ্কুরিত হয়ে মহীরুহে রূপ নিল। এবার অপেক্ষা স্বপ্নপূরণ।
প্যারিস অলিম্পিকে
প্রথমবার থাকছে ব্রেক ইভেন্ট। ছেলে ও মেয়েদের আলাদা করে আয়োজন করা এই ইভেন্টকে ব্রেক
ড্যান্সও বলা যায়। দুটি ইভেন্ট থাকবে, বি-বয়েজ আর বি-গার্লস। মানিজা নামবেন বি-গার্লসে।
আগস্টের ৯ তারিখে শুরু হবে মেয়েদের ইভেন্ট। প্রি-কোয়ালিফায়ার ও রাউন্ড রবিন ব্যাটল
৯ তারিখ। ১০ আগস্ট এক দিনেই কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। মানিজা সেখানেই
লড়বেন। মৃত্যুর মুখ থেকে পালানো একজন স্বপ্নদ্রষ্টা কতদূর যাবেন, তা বলে দেবে সময়।
তবে মানিজা নিজেকে প্রমাণ করে দিতে চান।
অলিম্পিককে দেওয়া
সাক্ষাৎকারে নিজের ইচ্ছা, চাওয়া এবং স্বপ্নপূরণের বন্ধুর পথের বর্ণনা দিয়েছেন মানিজা।
আফগানিস্তানের ২১ বর্ষী শরণার্থী মানিজার প্রত্যয়, ‘একজন ছেলে যদি পারেন, তবে মেয়েরা
কেন পারবে না?’ সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেই এতদূর পথচলা। মানিজা বলেছেন, ‘স্বপ্ন আঁকড়ে
ধরে বাঁচতে চেয়েছিলাম। কখনও ভাবিনি আমার দেখা স্বপ্নটা এত সুন্দর হতে পারে। তালেবান
সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশ ছেড়েছিলাম। যেকোনো উদ্বাস্তুর পক্ষে অন্য একটা দেশে গিয়ে
বেঁচে থাকা খুব কঠিন। তবে আমার মনে হয়, আফগানিস্তানে থেকে যে মেয়েরা লড়াই করছে, স্বপ্ন
মুঠোয় ধরার চেষ্টা করছে, তারা আমার কাছে রোল মডেল।’
প্যারিস অলিম্পিকে
একটা পদক কি বদলে দেবে মানিজার জীবন? মানিজা অবশ্য তেমন মনে করছেন না, তার মতে ব্রেকিং
যে একটা খেলা সেটিই তিনি প্রমাণ করে দিতে চান, ‘একটা পদক জেতা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ
নয়। আমি আফগানিস্তানের লোকজনের কাছে প্রমাণ করতে চাই, ব্রেক ড্যান্স একটা নাচ নয়, খেলা।
এটাই কলা, এটাই সংস্কৃতি।’
২০২১ সালে তালেবানরা
আফগানিস্তানের সরকার গঠন করার পর থেকেই দেশটিতে নারীদের জন্য বেপর্দায় চলাফেরায় কঠোর
নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তারা নারীদের বেপর্দা চলাফেরা, খেলাধুলা, অভিনয় ও গান-বাজনা
এমনকি নারীদের নাচও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই সময়ে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বাঁচা মানিজা স্পেনের
একটি ক্যাম্পে বাস করেন। চলতি বছরের মে মাসে অলিম্পিকে শরণার্থী দলের প্রতিনিধিত্ব
করার সুযোগও পেয়ে যান। ব্রেকিং তারকা মানিজার জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি কোচিংয়ের
ব্যবস্থাও করে। এবার মানিজার স্বপ্নপূরণের পালা।
অলিম্পিককে মানিজা
প্রত্যয়ী কণ্ঠে নিজের চাওয়াটাও বলেছেন, ‘বলতে চাই আমি কে, কোথা থেকে এসেছি এবং আমি
শিল্প, সংস্কৃতি, স্পোর্টস ও শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি। বোঝাতে চাচ্ছি মেয়েরাও শক্তিশালী।’
একসময় বারবার
লাঞ্ছিত হওয়া মানিজা অলিম্পিকে ইতিহাসও হতে চলেছেন। তাও নিজের সেই পছন্দের ব্রেক ড্যান্সের
মাধ্যমে। তাই তো ইনস্টাগ্রামে সুখবরটি শক্তিশালী একটি মেসেজ দিয়ে লিখেছেন তিনি, ‘এখন
আমি বুঝতে পারছি, যা তুমি চাও তা সবই পাওয়া সম্ভব। এটার জন্য দরকার শুধু চেষ্টা, ধৈর্য
ও সময়ের। আর কিছু সত্যিকারের বন্ধুর।’ সেই পোস্টের ভিডিওতে দুটি ছবি যোগ করে দিয়েছেন
মানিজা। স্কিনে ভেসে ওঠা একটি ছবিতে দেখা যায়, ‘২০২০Ñঅলিম্পিক গেমসে খেলব কথা দিয়েছিলাম।’
পরের ছবিটি অলিম্পিক প্রতীকের সামনে, ‘২০২৪Ñআমি কথা রেখেছি।’