প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৪ ২০:৪৯ পিএম
টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে ঘণ্টায় ১০০ মাইল বা ১৬১ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারবেন ইংল্যান্ডের পেস বোলার মার্ক উড, এমন বিশ্বাস দলটির অধিনায়ক বেন স্টোকসের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ডারহাম-সতীর্থর গতির ঝড় তোলা দেখার পর এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০-তে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। ট্রেন্ট ব্রিজে দ্বিতীয় টেস্টে ২৪১ রানে হারানোর ম্যাচে ৩৪ বছর বয়সী উড নেন মাত্র দুটি উইকেট। তবে এক প্রান্তে গতির ঝড় তুলে অন্য প্রান্তে উইকেট নিতে অন্যদের সহায়তা করেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে অফ স্পিনার শোয়েব বশির নেন ৪১ রানে ৫ উইকেট। ম্যাচে উডের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৯৭.১ মাইল। তার বাউন্সার সামলাতে গিয়ে হাত ভেঙেই গেছে কেভিন সিনক্লেয়ারের। ফলে এজবাস্টনে আজ শুরু হওয়া তৃতীয় টেস্টে খেলতে পারছেন না তিনি।
এই ম্যাচের আগে স্টোকস বলেছেন, ঘণ্টায় ১০০ মাইল বেগে বোলিং করার সামর্থ্য মার্ক উডের আছে। তবে সে এটা নিয়ে চিন্তিত নয়, ‘আমার মনে হয় না সে এটি (১০০ মাইল বেগে বোলিং) নিয়ে খুব একটা চিন্তিত। তাকে দেখে মনে হচ্ছে, সে এটার আরও কাছে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমি আসলে সে এখন যা করছে, সত্যি বলতে তা নিয়েই খুশি। এমন গতি ধরে রাখাটা দুর্দান্ত। সে যখনই টেস্ট ম্যাচ খেলে, তার গড় গতি ঘণ্টায় ৯০ মাইলের ওপর থাকে।’
ক্রিকেটের বনেদি ফরম্যাটে সর্বোচ্চ গতির বলের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের। ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৯.৬ মাইল বা প্রায় ১৬০.৩ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন বাঁহাতি এই পেসার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একশ মাইল গতিতে বোলিং করার কৃতিত্ব একমাত্র শোয়েব আখতারের দখলে। ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ খ্যাত পাকিস্তানের এই গতি তারকা ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০০.২ মাইল গতিতে বোলিং করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন।
সতীর্থের প্রশংসায় স্টোকস আরও বলেন, ‘ম্যাচ চলাকালীন উড সবসময়ই পর্দায় দেখে নেয় সে কত গতিতে বল করছে। সে জানে, সে শুধু দক্ষতার সঙ্গে বোলিং করার জন্য নয় কিন্তু দ্রুতগতিতে বোলিং করার জন্যও দলে আছে। একটা স্পেলে ৯০-এর বেশিতে করাটা ভালো কিন্তু সে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিটি স্পেলেই ঘণ্টায় ৯০ মাইলের বেশি গতি তোলে। তার সিংহ হৃদয়। স্পেলের পর স্পেল, বলের পর বল করে যায়। কত গতি তুলছে, সেটি সব সময়ই উড খেয়াল করে বড় পর্দায়। সে জানে, সে শুধু দক্ষতার সঙ্গে বোলিং করার জন্য নয় কিন্তু দ্রুতগতিতে বোলিং করার জন্যও দলে আছে।’
উডের ৩৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে চোটের আঘাত কম আসেনি। তবে এই মুহূর্তে তাঁর বোলিং নিয়ে দারুণ খুশি স্টোকস, ‘আমাদের যা আছে, সেটি উদ্যাপন করা উচিত। তার সিংহ-হৃদয়। স্পেলের পর স্পেল, বলের পর বল করে যায়। সে যখন বোলিং করে, পুরো ম্যাচই বদলে যায়। তার নাম উচ্চারণ করার সঙ্গে দর্শকেরা উল্লাস করে ওঠে। আর বড় পর্দায় যখনই গতি দেখানো হয়, সবাই আরও উজ্জীবিত হয়।’