প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৪ ২০:১৪ পিএম
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৪ ২০:৪৫ পিএম
ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান দল ব্যর্থ হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। অবশ্য ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরেই দলের কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন আনে পিসিবি। গ্যারি কারস্টেনকে সীমিত ওভার (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) ও জেসন গিলেস্পিকে টেস্টের প্রধান কোচ করা হয়। সাদা পোশাকে পাকিস্তান দলের খেলার ধরন পাল্টে ফেলতে চান গিলেস্পি। ৪৯ বছর বয়সি অস্ট্রেলিয়ান এই কোচ পাকিস্তানের টেস্ট দলকে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো গড়ে তুলতে চান।
আগামী মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে পাকিস্তান দল। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত সিরিজের প্রথম টেস্ট রাওয়ালপিন্ডিতে ২১ আগস্ট শুরু হবে, করাচিতে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ৩০ আগস্ট। আসন্ন এই সিরিজ দিয়েই নতুন দায়িত্ব শুরু করবেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার গিলেস্পি। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই বাবর আজমদের খেলার ধরনে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন সাবেক এই ডানহাতি পেসার।
গিলেস্পি বলেন, ‘জাতীয় দলের খেলা দেখে পাকিস্তানের মানুষ এবং মিডিয়া বলুক, এ রকম স্টাইলে দলের ক্রিকেট খেলা উচিত। কোনো সন্দেহ নেই যে ইংল্যান্ড কেমন ক্রিকেট খেলে। সকলেই জানে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের মাইন্ডসেট কেমন। আমি এটাই আমার দলের মধ্যে আনতে চাই। আমি চাই না কোচ হিসেবে দলে যোগ দিয়ে শুধুই এটা করতে চাই বা ওটা করতে চাই বলব। আমার কাজ দলের সবাইকে সমর্থন করা আর ক্রিকেটারদের মধ্যে থেকে সেরাটা বের করে নিয়ে আসা।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি মাত্রই এখানে এসেছি। প্রথমে ক্রিকেটার ও অন্য কোচদের সঙ্গে বসে তাদের মধ্যে কিছু বিষয়ে আলাপ করতে চাই। আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশ কীভাবে ক্রিকেট খেলছে সে ব্যাপারে স্পষ্ট জানি। খেলার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ খেলোয়াড় নিয়ে স্কোয়াড গড়তে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে এভাবে। ফর্মে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোচিং স্টাফের সমন্বয় এবং পিসিবির সঙ্গে একত্রে আমরা নিশ্চিতভাবে উন্নতি ও সফলতার পথে এগিয়ে যেতে পারব।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শোচনীয় ব্যর্থতার পর বেশ কয়েকজন পাক ক্রিকেটারকে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলতে অনুমতি দেয়নি পিসিবি। বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন গিলেস্পি। পাকিস্তানের নতুন এই টেস্ট কোচ বলেন, ‘ক্রিকেটাররা কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় রয়েছে। বোর্ড থেকে তারা ভালোই টাকা পাচ্ছে, তাই আমাদের অধিকার রয়েছে ক্রিকেটারকে ফিটনেসের জন্য বিরতি নিতে বলার, যাতে তাদের পারফরম্যান্সে উন্নতি হয়। এ ছাড়া পাকিস্তানের পরের সিরিজের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হবে ক্রিকেটারদের। আমরা চাই ক্রিকেটাররা লিগে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করুক, কিন্তু পাকিস্তানের কথাও তো ভাবতে হবে। পরে এ নিয়ে সৎভাবে কিছু আলোচনা করতে হবে, কিন্তু এই মুহূর্তে পাকিস্তান ক্রিকেটের যা দরকার সেটাই করা হয়েছে।’
ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির মতো টেস্টেও নাজুক অবস্থায় আছে পাকিস্তান দল। সাদা পোশাকে সর্বশেষ ১৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র তিনটিতে জিতেছে তারা, তাও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। বাকি ১২ ম্যাচের মধ্যে ৮টি টেস্টে হেরেছে, বাকি চারটি টেস্ট ড্র। এমন খারাপ ট্র্যাক রেকর্ডই বদলানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ টেস্ট দলের কোচ জেসন গিলেস্পির কাছে।