অলিম্পিকে আর্জেন্টিনা-মরক্কো
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৪ ২০:১৭ পিএম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪ ২১:৩৬ পিএম
অলিম্পিকের ফুটবল ইভেন্টের খেলা শেষ হওয়ার পরও দেড় ঘণ্টার মতো বসে রইলেন আর্জেন্টিনা ও মরক্কোর ফুটবলাররা। দুই দলের খেলা ২-২ গোলে ড্র ধরে নিয়েছিলেন সবাই। তবে নাটক তখনও বাকি ছিল। সেইন্ট এতিয়েনের মাঠের ম্যানেজার জানালেন, ম্যাচ শেষ হয়নি; বাকি আছে ৩০ সেকেন্ডের খেলা! অন্তিম মুহূর্তে আর্জেন্টিনার গোলের পর মরক্কোর ভক্ত মাঠে নেমেছিলেন। বাজি ছুড়ে মারা হয়েছিল আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের দিকে। ফুটবলে পিচ ইনভেশন বা মাঠে ভক্তদের ঢুকে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে এ কারণে ম্যাচ থামিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিরল। যদিও অলিম্পিকে আর্জেন্টিনা ও মরক্কো ম্যাচে তাই ঘটল। খেলা থাকল বন্ধ। এরই মাঝে ঘটল অন্য ঘটনা।
ম্যাচের শেষ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান মেদিনার গোলে ২-২ গোলে সমতা এনেছিল আর্জেন্টিনা। দেড় ঘণ্টা পর জানানো হয়, অফসাইডে বাতিল হয়েছে সেই গোল। আর খেলা হবে আরও তিন মিনিট। দুই দলই স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় আরেকবার মাঠে নামে তিন মিনিটের খেলা শেষ করতে। সেখানে আর্জেন্টিনা আর গোল পায়নি। অন্যদিকে গোল বাতিলের সুবাদে ২-১ গোলের জয় দিয়ে দারুণ এক সূচনা করে মরক্কো।
ম্যাচের এই ফলাফল মেনে নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ম্যাচের পর ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাপিয়া লিখেছেন, ‘সেইন্ট এতিয়েনে (ম্যাচের ভেন্যু) আর্জেন্টাইনরা যে অভিজ্ঞতার শিকার হলো, সেটা আক্ষেপের বিষয়। দুই ঘণ্টা লকার রুমে অপেক্ষা করে ফুটবলারদের মাঠে যাওয়া, অনুশীলন করে আবার এমন একটা ম্যাচ শুরু করা, যেটি মরক্কো–সমর্থকদের মাঠে ঢোকার কারণে রেফারির খেলা স্থগিত করা উচিত ছিল। সহিংসতার কারণে আর্জেন্টাইন প্রতিনিধিরা ভুগেছে, এর কোনো মানেই হয় না। এটা টুর্নামেন্টের নিয়মের বরখেলাপ। দুই দলের অধিনায়ক চেয়েছিলেন ম্যাচটা যাতে আর মাঠে না গড়ায়। কিন্তু তাদের মতামত শোনা হয়নি। এফএর পক্ষ থেকে আমরা এরই মধ্যে ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছি, যেন যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়, যারা দায়ী তাদের যেন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।’
এ ঘটনার পর অলিম্পিকে আর্জেন্টিনা দলের কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানোও ধুয়ে দিয়েছেন আয়োজকদের, ‘এমন ঘটনা পাড়ার ফুটবলেও ঘটে না। এটা লজ্জার এবং অলিম্পিকের চেতনাবিরোধী। এই সংস্থাকে মানসম্মত হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই মুহূর্তে তারা সেটি হতে পারেনি। আমার জীবনে দেখা এটাই সবচেয়ে বড় সার্কাস। এটি অবশ্যই সার্কাস, তবে ছেলেদের আমি বলেছি এ ধরনের বিষয়গুলো আমাদের হাতে নেই। আর এটি নিয়ে ভাবতেও চাই না। আমাদের যোগ্যতা অর্জন করতে ছয় পয়েন্ট তুলে নিতে হবে। এই আক্ষেপকে আমাদের শক্তিতে পরিণত করতে হবে।’
অলিম্পিকে আর্জেন্টিনা ও মরক্কোর ম্যাচের ফলাফলে সন্তুষ্ট নন লিওনেল মেসি। এতিয়েতেনের নাটকের পর এটিকে অবিশ্বাস্য বলেছেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। মেসি তার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘ইনসোলিতো’ বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় অবিশ্বাস্য। সঙ্গে একটি বিস্ময়ের ইমোজিও ব্যবহার করেছেন সাবেক বার্সেলোনা তারকা। কোপা আমেরিকার ফাইনালে অ্যাঙ্কেলে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে থাকা মেসি পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছেন। তবে আর্জেন্টিনার অলিম্পিক ফুটবল দলের ম্যাচেও যে নজর রেখেছেন, সেটা তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা যায়। এদিকে অলিম্পিক দলকে সমর্থন জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার দি পল লিখেছেন, ‘যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি তোমাদের পাশে আছি। তোমরা যে কাউকে হারাতে পারো।’