প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৪ ১৭:০৯ পিএম
ক্রীড়াজগতে ‘ভাগ্য
খেলা’ একটু বেশিই হয়। এক সুযোগে বাজিমাতের ঘটনা ঘটে অহরহ। কখন প্রিয় সতীর্থ আউট হবেন,
অফফর্মে পড়বেন, কখনইবা ইনজুরির থাবায় যাবেন ছুরি-কাঁচির নিচেÑ তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা,
ডাগ আউটে ধুঁকপুকানি, চলে প্রার্থনা। একটা সুযোগ লুফে নেওয়ার কী যে প্রাণপণ চেষ্টা।
খেরোখাতায় নয়া কাব্য লেখার দুর্বিষহ অভিযান। ক্রিকেটে এসব হয়, প্রায়ই…। শোয়েব বশিরের
ছোট্ট ক্যারিয়ারে আষ্টেপৃষ্ঠে আছে এসবের ছাপ। জ্যাক লিচের জায়গায় সুযোগ পেয়ে ২০-বর্ষী
তরুণ স্পিনার নিজের ক্যারিয়ার করেছেন পোক্ত, অলংকৃত করেছেন ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেট।
এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ২৪ উইকেট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাকে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ
টেস্টে ইংল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি স্পিনার বানিয়ে দিয়েছে।
বশির মাঠে নামলেই
যেন টুপটাপ করে হেমন্তের ঝরাপাতার মতো খসে পড়ে রেকর্ড! ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সিটা
এ বছরের জানুয়ারিতে প্রথমবার গায়ে জড়ালেও ক্রিকেট বিশ্ব তাকে ভালোভাবে চিনেছে ওয়েস্ট
ইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে। তবে রোহিত শর্মাদের বিপক্ষে সিরিজেও সাফল্যের সাক্ষ্য রেখেছিলেন।
দলের প্রসিদ্ধ ও বিশ্বাসযোগ্য স্পিনার লিচের জায়গায় বশিরকে মাঠে নামায় ওয়েলস অব ইংল্যান্ড
ক্রিকেট ম্যানেজম্যান্ট। অথচ কাউন্টিতে এই লিচের জন্যই সামারসেটের সেরা একাদশে সুযোগ
পেতেন না বশির। এজন্য ধারে উস্টারাশায়ারে খেলা লাগত তার। ভারত সফরে প্রতিভার বিচ্ছুরণ
দেখানো তরুণ ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে
৫ উইকেট শিকার করেছেন। এই পাঁচ উইকেট তাকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়। ইংল্যান্ডের
সাদা পোশাকের খেলায় কয়েকটি রেকর্ডও গড়েছেন বশির। ঘরের মাঠে ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া সর্বকনিষ্ঠ
বোলার হয়ে গেছেন ২০ বছর ২৮২ দিন বয়সি এ স্পিনার। ২০০৬ সালের পর ট্রেন্ট ব্রিজে ৫ উইকেট
নেওয়া প্রথম স্পিনারও তিনি। পাঁচ টেস্টের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে ইনিংসে তিনবার ৫ উইকেট
নিলেন বশির। এর মধ্যে লর্ডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বোলিং পাননি। প্রথম
৫ টেস্টে ইংল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি স্পিনারও তিনি। তার চেয়ে এগিয়ে শুধু
নিক কুক ও গ্রায়েম সোয়ান।
অল্পবয়সি বশিরের
বড় কীর্তিতে মুগ্ধ ইংলিশদের অধিনায়ক বেন স্টোকস। বলেছেন, ‘বশির বিশ্বকে দেখিয়েছে, সে
কী করতে পারে। কন্ডিশন পক্ষে থাকলে সে কী ঘটাতে পারে, তা ইতোমধ্যে দেখিয়েছে। মূলত সে
উইকেটের জন্য মরিয়া থাকে সব সময়ই। এ সপ্তাহ আগেও এখানে উইকেটের জন্য কিছুই ছিল না।
অথচ সাত দিনের ব্যবধানে সে উইকেট তুলে মেধার সাক্ষ্য দিয়েছে।’
বশিরের এমন অর্জনে
দেশটির সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন বলেছেন, ‘তার (বশির) সীমানা আরও উঁচুতে। সাফল্য পেতে
হলে আপনাকে বোলিং করে যেতে হবে। কিন্তু বশির শিখতে শিখতেই ভালো পারফরম্যান্স করছে।’
বশিরের উচ্চতা
৬ ফিট ৪ ইঞ্চি। লম্বা গঠন তাকে স্পিনের সঙ্গে বাউন্স পেতে সাহায্য করে। ইংল্যান্ডের
এই আবিষ্কার পরবর্তীতে নিজেকে কোথায় দাঁড় করান, দেশের ক্রিকেট কতটা সমৃদ্ধ করেন, সেটাই
দেখার বিষয়।