কোপা আমেরিকা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৪ ১৩:১৮ পিএম
নিজেদের ঐতিহাসিক অর্জনকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে। কোপায় এককভাবে সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের শেষ ধাপে লিওনেল স্কালোনির দল। দক্ষিণ আমেরিকার এই মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় ১৫টি শিরোপা জিতে উরুগুয়ের সঙ্গে যুগ্মভাবে শীর্ষে আর্জেন্টিনা। আর তাই কোপায় একক শ্রেষ্ঠত্বের পথে মেসিদের শেষ বাধা কলম্বিয়া। মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি শুরু হবে সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায়।
কোপায় সর্বাধিক শিরোপা জেতার পাশাপাশি আরও অর্জনের ডাক শুনতে পাচ্ছেন মেসিরা। বিশ্বকাপ ও মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা তিনটি বড় শিরোপা জয়ের একমাত্র কীর্তিটি স্পেনের। ২০০৮ সালের ইউরোজয়ী স্পেন ২০১০ সালে জেতে বিশ্বকাপ। এর দু বছর পর ইউরো শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে স্প্যানিশরা। কোপার পর বিশ্বকাপ জিতে সেই রেকর্ডের ঘ্রাণ পাচ্ছেন মেসিরা। তবে আকাশে ওড়া আর্জেন্টাইনদের জন্য কাজটা যে সহজ হবে না সেটা কিন্তু এরই মধ্যে প্রমাণ করে দিয়েছে কলম্বিয়া।
এবারের কোপায় আর্জেন্টিনার মতোই অপরাজিত কলম্বিয়া। শুধু তাই নয় টানা ২৮ ম্যাচ অজেয় তারা। নেস্তোর লরেঞ্জোর শিষ্যরা সৃষ্টি করে চলেছেন বিস্ময়ের পর বিস্ময়। ধরা যাক, সেমিফাইনালের কথাই। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল লাতিন ফুটবলের আরেক প্রতিভূ কোপায় ১৫ বারের শিরোপাধারী উরুগুয়ে। এমন শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময় একজন কম নিয়ে খেলেও ফাইনালে উঠেছে তারা। ১০ জনের বিপক্ষে ১১ জন নিয়ে খেলেও কলম্বিয়ার রক্ষণভাগে ন্যূনতম চিড়ও ধরাতে পারেনি উরুগুয়ে। ম্যাচে প্রথমার্ধে পাওয়া ১-০ লিড ধরে রেখে বাজিমাত করেছে লরেঞ্জোর শিষ্যরা।
যদিও ধারে-ভারে-গুণে-মানে আর্জেন্টিনার সঙ্গে কোনো তুলনাই চলে না কলম্বিয়ার। কোপাতে মাত্র একবারই শিরোপা জিতেছে তারা। সেটাও ২৩ বছর আগে। ২০০১ সালের ওই আসরে আর্জেন্টিনা অংশই নেয়নি। আর ব্রাজিলও পাঠিয়েছিল তাদের দ্বিতীয় সারির দল। সেই হিসেবে এবারে কলম্বিয়া পেয়েছে তাদের ইতিহাস সেরা সাফল্য। মুখোমুখি লড়াইয়েও আর্জেন্টিনার চেয়ে অনেক পেছনে তারা। দুদলের ৪৩ দেখায় আর্জেন্টিনার ২৬ জয়ের বিপরীতে কলম্বিয়ার জয় ৮ ম্যাচে। বাকি ৯ ম্যাচ শেষ হয় সমতায়। তবে এবারের কলম্বিয়াকে আলাদাভাবে হিসাবে না রেখে কোনো উপায়ই নেই আর্জেন্টিনার।
এবারের কোপায় এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ (১২ গোল) গোল করেছে কলম্বিয়া। এর ৫টিই এসেছে সেটপিস থেকে। গোল করার পাশাপাশি রক্ষণেও যে সমানভাবে পারদর্শী সেটাও লরেঞ্জোর শিষ্যরা প্রমাণ করেছে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে। শিরোপার লড়াইয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন সেটা স্বীকারও করেছেন আর্জেন্টাইন সেনসেশন মেসি। তার কথায়, ‘এই মুহূর্তে কলম্বিয়া খুবই ভালো দল। দলটিতে দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। আক্রমণেও দ্রুতগামী।’ তবে ফাইনাল জেতার জন্য শান্ত থাকার ওপর জোর দিচ্ছেন মেসি, ‘আমি শান্ত আছি এবং মুহূর্তটির (ফাইনাল) অপেক্ষায় আছি। সবকিছু অনেক বেশি উপভোগ করার চেষ্টা করি। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। আর ম্যাচটা কেমন হবে সেটা নিয়েই ভাবছি।’ ‘আমরা এখন স্বপ্নের ঘোরে আছি। এই মুহূর্তটির জন্য আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিলাম।’
এই ফাইনাল ম্যাচটা আবেগেরও। কোপায় এটিই শেষ ম্যাচ আর্জেন্টিনা আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা অ্যনহেল ডি মারিয়া। এটাই মেসির ক্যারিয়ারে শেষ কোপা, পাওয়া যাচ্ছে এমন আভাসও। মেসি আবেগঘন ভাষায় বলেছেন, ডি মারিয়ার জন্য হলেও আমাদের এই কোপা শিরোপা জিততে হবে।’ ফাইনালের মঞ্চ মেসির বর্তমান ঠিকানা মিয়ামির স্টেডিয়াম। এদিকে এবারের আসরে দলকে সামনে থেকে টানছেন ২০১৪ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট বিজয়ী রদ্রিগেজ। দেশের জার্সিতে খুব বড় অর্জন নাই সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ তারকার। এই আসরে নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ছয়টি গোল। ট্রফির জন্য রদ্রিগেজ ও তার সতীর্থরা যে জানবাজী রেখে লড়বেন তা বলাই বাহুল্য।