ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৪ ১৬:০৬ পিএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৪ ১৬:২৫ পিএম
ফাইনাল মহারণ হতে পারে এই দুই তরুণেরও লড়াইয়ের ক্ষেত্র— ছবি: সংগৃহীত
সেমিফাইনালের আগেই ফাইনালের প্রতিপক্ষ চেয়ে বসেছিলেন জুড বেলিংহাম। ইংল্যান্ডের তারকা উইঙ্গার বলেছিলেন, ‘স্পেন গত তিন সপ্তাহ ধরে দারুণ খেলছে। যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। আশা করছি, আমরা স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে পারব। তারা দারুণ খেলছে টুর্নামেন্টে।’ জুডের সেই আশা পূরণ হয়েছে, শিরোপার পথে তাদের বাধা স্পেন। আরেকটু আগ বাড়িয়ে বললে লামিনে ইয়ামাল। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ১৭ বছরের এই তরুণ যা করছেন তাতে তার জন্য বোধকরি কোনো বিশেষণই যথেষ্ট নয়।
লামিনের প্রশংসা তো থাকবেই, বেলিংহামকে কীভাবে আড়ালে রাখা যাবে! মূলত ফাইনালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণই এই দুজন। স্কিলের সঙ্গে গোল করার সক্ষমতা এবং বিপদের সময় দলের ত্রাতা— ইয়ামাল ও বেলিংহামকে করে তুলেছে আলাদা। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আগামী রবিবার ইউরোপসেরার লড়াইয়ের ভেতরের লড়াইয়ে থাকবে এই দুজন। প্রতিপক্ষ দল অবশ্যই ফাইনালে এই দুই তরুণকে আটকে রাখতে চাইবে। শেষ সময়ে গোল করা জুডকে নিয়ে লম্বা পরিকল্পনাও হয়তো কষে থাকবে স্পেন, সেমিফাইনালের নায়ক ইয়ামালকে আটকাতেও ছক কষা শুরু করে দিয়েছেন কাইল ওয়াকারদের রক্ষণভাগ।
দুজনের দক্ষতা তো জানাই আছে, বয়সও নিশ্চয় চোখে পড়েছে। জুড কদিন আগে ছাড়িয়েছে বিশের কোটা, অন্যজন ইয়ামাল সবে পা রেখেছেন ১৭-তে। বয়স যাই হোক বড় দায়িত্ব তাদের চওড়া কাঁধে বেশ চওড়া। জিততে হলে যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেই গোল আনতে দুদলই তাকিয়ে থাকবে। টানা দুইবার ফাইনালে ওঠা ইংল্যান্ড প্রথমবার ইউরোর স্বাদ নিতে জুডকেই ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে দেখতে চাইবে। সেমিতে ফ্রান্সকে বিদায় করার দিনে ইয়ামাল বুঝিয়েছেন, বয়স কম হলেও তার গুরুত্ব। জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ (৩টি) শিরোপাজয়ী স্পেনকে এগিয়ে নিতে তরুণ ইয়ামাল হতে পারেন বড় প্রভাবক।
ইংল্যান্ড দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন বেলিংহামও। শেষ ষোলোতে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ইনজুরি টাইমে তার অবিশ্বাস্য গোলেই ম্যাচে ফিরেছিল ইংল্যান্ড। ফাইনালে তাই তাকে নিয়েও বাড়তি পরিকল্পনা স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং নিজেদের মাঠে খেলার কারণে জার্মানি ফেভারিট ছিল। এই ফেভারিটদের (ইংল্যান্ড ছাড়া) টপকানোর সুযোগ পেয়েছিলাম এবং বাধাগুলো উতরেছি। এখন আমাদের সামনে আরেকটি বড় ম্যাচ। ইংল্যান্ডের মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে, যারা যেকোনো মুহূর্তে জ্বলে উঠতে পারে। লড়াইটা কঠিন হবে।’
প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে কোনো মেজর টুর্নামেন্টের (বিশ্বকাপ ও ইউরো) ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। শিরোপার নিশ্বাস দূরত্বে ভুল করতে চান না গ্যারেথ সাউথগেট। ইংলিশ কোচ বিশ্বাস রাখছেন তার খেলোয়াড়দের ওপর। ইয়ামালদের বিপক্ষে ছক কষা সম্পর্কে তার ভাষ্য, ‘ওদের (স্পেন) বেশি বল পেতে দেওয়া যাবে না। যেভাবে বলছি, কাজটা এতটা সহজ নয় যে আমরা বল পায়ে রাখব, আর ওরা শুধু ছোটাছুটি করবে। বল পায়ে এবং বল ছাড়া, দুইভাবেই আমাদের অসাধারণ খেলতে হবে। ওরা আসরের সেরা দল। তবে আমরা এখানে এসেছি (শিরোপা) জয়ের জন্য। কাজটা অনেক কঠিন। কিন্তু আমরা এখনও আছি এবং লড়াই করছি।’
সেই লড়াইয়ে জ্বালানি হতে পারে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আলো ছড়ানো বেলিংহাম। স্পেনকে পথ দেখাতে পারেন এখনও স্কুলের গণ্ডি পার না করা ইয়ামালও। বেলিংহাম—ইয়ামাল লড়াইটা দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনারও। রিয়ালে যেমন প্রতিবার স্বাক্ষর রেখেছেন বেলিংহাম একইভাবে বার্সায় ইয়ামাল। এবারের ইউরো ফাইনালে এই দুই তরুণ কে কাকে পেছনে ফেলতে পারেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। রবিবার রাত ১টায় বার্লিনে ইউরো শিরোপা ফয়সালার মহারণ।