প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ২০:৪৯ পিএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪ ২০:৫০ পিএম
অ্যান্ডারসনের বিদায় ছবি: এএফপি
জেমস অ্যান্ডারসনের জন্যই
মঞ্চটা প্রস্তুতই ছিল। লর্ডসের ক্রিকেট তীর্থে ক্যারিয়ারের সাদা পোশাকে সবশেষ ম্যাচ
খেলতে নেমেছিলেন টেস্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। লিজেন্ডের বিদায় স্মরণীয় করে রেখেছে
ইংল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ১১৪ রানে হারিয়েছে বেন স্টোকস ব্রিগেড। এ জয়ে তিন
ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক দল। অ্যান্ডারসনের বিদায়ি টেস্টে ১২
উইকেট তুলে ম্যাচসেরা হয়েছেন ২৬ বছর বয়সি গাস অ্যাটকিনসন।
লর্ডসে আজ শুক্রবার ৩৪.৫
ওভারে ৬ উইকেটে ৭৯ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং
করা উইন্ডিজ তখনও পিছিয়ে ১৭১ রানে। দিনের খেলা শুরু হওয়ার অল্প সময়ে ক্যারিবিয়ান পালে
ধাক্কা দেন অ্যান্ডারসন। ৩৮তম ওভারে জোশুয়া ডা. সিলভাকে ফেরান তিনি। এরপর আক্রমণে আসেন
অ্যাটকিনসন। দ্রুত ২ উইকেট তুলে নেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি হতে পারত ৪৪তম
ওভারেই। তবে ওভারের প্রথম বলে অ্যান্ডারসন কট অ্যান্ড বোল্ড মিস করায় সেটা সম্ভব হয়নি।
৪৭তম ওভারের শেষ বলে সিলসকে ফিরিয়ে ক্যারিবীয়দের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন অ্যাটকিনসন।
অ্যান্ডারসনের বিদায়ি টেস্টে
টস জিতে সফরকারীদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ইংলিশ অধিনায়ক স্টোকস। অ্যাটকিনসনের
তোপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ১২১ রানে। জবাবে ৩৭১ রান করে ইংল্যান্ড।
২৫০ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসেও উইন্ডিজদের ভরাডুবি। ৭৯ রানে ৬ উইকেট
হারিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল তারা। আর তৃতীয় দিনে এক ঘণ্টারও বেশি টিকতে পারেনি।
অ্যাটকিনসন শেষ ইনিংসে ৫ উইকেট নেন। আগের ইনিংসে সাত উইকেট।
বিদায়ি টেস্টে অ্যান্ডারসন
উইকেট তুলেছেন চারটি। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪১ বছর বয়সি পেসারের উইকেট ৭০৪টি।
এই লর্ডস তার ক্রিকেটে উত্থান। ২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাদা পোশাকে অভিষেক হয়েছিল।
দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ার শেষে একই মাঠে বিদায় নিলেন তিনি। ল্যাঙ্কাশায়ারের বার্নলের
এই বাসিন্দা শেষবার মাঠে নামার আগে ১৮৮টি টেস্ট, ১৯৪টি এক দিনের ম্যাচ এবং ১৯টি আন্তর্জাতিক
টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। যথাক্রমে উইকেট নিয়েছেন ৭০৪টি, ২৬৯টি ও ১৮টি। মোট ৯৮৭ উইকেট।
বিদায়ের মুহূর্তটা অ্যান্ডারসনের
জন্য নিঃসন্দেহে চরম আবেগের। তবে এই পেসার নিজেকে ঠিকই সামলে নিয়েছেন, ‘আমার মনে হয়,
আবেগটা ধরে রাখতে পেরেছি। যেভাবে দুই দল আর দর্শক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তাতে সকালটা
আমার জন্য অনেক আবেগের হয়ে উঠেছিল। এখনও চোখের পানি ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আমি অনেক
গর্বিত। ২০ বছর ক্রিকেট খেলা অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার ফল। চোটমুক্ত থেকে সেটা করতে পেরে
আমি অনেক সন্তুষ্ট। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা দুনিয়ার সবচেয়ে সেরা কাজ, এত দীর্ঘ সময় ধরে
সেটা করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। অবসরের পর কী করবেন জিমি। এ নিয়ে মন্তব্য,
‘এখনও অত দূর পর্যন্ত ভাবিনি। এই গ্রীষ্মে দলের সঙ্গে থাকব, যত দূর পারি সাহায্য করব।
এরপর দেখি জীবন কোথায় নিয়ে যায়।’