প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ২০:৪১ পিএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪ ২০:৪৩ পিএম
টেস্ট ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থা এখন বেশ নাজুক। অথচ একটা সময় অপ্রতিরোধ্য একটা দল ছিল ক্যারিবীয়রা। তাদের দেখে রীতিমতো ভয়ে কাঁপন ধরে যেত প্রতিপক্ষের। আশির দশকে তাদের টানা ২৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড এখনও অটুট। অথচ সেই দল এখন র্যাংকিংয়ের আট নম্বর দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট ক্রিকেট ঘিরে যে সংকট, শুধু বেশি বেশি অর্থ বিনিয়োগ করলেই যে সেটি মিটবে, তা মনে করেন না ব্রায়ান লারা। ক্যারিবীয় কিংবদন্তির মতে, প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের যথাযথ পরিচর্যা ও সঠিকভাবে কাজে লাগানো দরকার। যা এখন দেখা যাচ্ছে না।
গতবছর সাদা পোশাকে তিনটি সিরিজ খেললেও একটিতেও জিততে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও এই বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়ে তারা। সেটাও ২৭ বছরের অপেক্ষার পর। কিন্তু সবশেষ ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজের প্রথম টেস্টেও ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে ক্রেইগ ব্রাফেটের দল। অনেকের ধারণা, টেস্টের প্রতি খেলোয়াড়দের অনাগ্রহ এ ক্ষেত্রে বড় কারণ। নিকোলাস পুরান, শাই হোপসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনেক ক্রিকেটারই শুধু সাদা বলের ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী। বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য তাঁরা টেস্ট খেলতে চান না।
দলটির সাবেক অধিনায়ক জেসন হোল্ডারসহ অনেকে মনে করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো দরকার। তবে লন্ডনে থাকা লারা বিবিসির পডকাস্ট ‘স্টাম্পড’-এ বিষয়টি নিয়ে খানিকটা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। লারা বলেন, ‘আপনি যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০-২০ কোটি ডলার দেন, এতে কি আমাদের খেলা বদলে যাবে? আমি নিশ্চিত নই। আমাদের যে সব প্রতিভা আছে, সে সবই তো কাজে লাগানো হয় না।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অন্যতম সংকট ক্রিকেটের প্রতি শিশু-কিশোরদের আগ্রহ কমে যাওয়া। অ্যাথলেটিকসের মতো খেলার জনপ্রিয়তার প্রসারে ক্রিকেটে উঠতি প্রতিভার জোগান কমেছে। এ বিষয়ে লারা বলেন, ‘এটা সত্য যে, শিশুদের জন্য অন্যান্য খেলা এবং বিভিন্ন সুবিধার প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটে। তবে আমি এখনও বিশ্বাস করি ওয়েস্ট ইন্ডিজের করপোরেট জগতের এগিয়ে আসা দরকার। পৃষ্ঠপোষকদের আকৃষ্ট করার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট যথেষ্ট কাজ করছে বলে আমি মনে করি না। অথচ এর মাধ্যমে অন্তত তৃণমূল ক্রিকেট, একাডেমি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করা যেত। আমার মতে এ বিষয়গুলো খুবই, খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও খুব একটা মাতামাতি নেই। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে অনেক সিটই ফাঁকা পড়ে থাকে। যেমনটা আগে হতো না। তাই ক্রিকেটের প্রতি তাদের সেই ভালোবাসাটা ফিরিয়ে আনা উচিত বলে মনে করেন লারা, ‘গেট দিয়ে আসার সময় আমরা কাউকে অপেক্ষা করতে দেখি না। বুধবার আমি লর্ডসে ঢুকি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এবং তখনো বাইরে লোকে অপেক্ষা করছিল গেট খোলার। এই বিষয়টির সঙ্গে আমি ছোটবেলা থেকেই পরিচিত। ভোর সাড়ে ৫টায় গিয়ে কুইন্স পার্কের (ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোয়) গেট খোলার অপেক্ষায় থাকতাম। কিন্তু এমনটা আর হচ্ছে না। সকাল ১১ টায় গেলেও স্টেডিয়াম ফাঁকা দেখা যায়, চাইলে যেকোনো সিটে বসা যায়। তাই আমাদের চেষ্টা করতে হবে দর্শকদের ফিরিয়ে আনার। এর মাধ্যমেই ক্যারিবিয়ানরা প্রাণ খুঁজে পাবে এবং টাকার দুনিয়ায় তাদের বুঝতে হবে টেস্ট ক্রিকেট আসলে কী এবং এর থেকে কী পেতে পারে। এটা নিয়ে দর্শককে আরও উৎসাহী করে তুলতে হবে এবং আমরা তা করতে পারিনি।’