প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ১৯:৫৬ পিএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪ ২০:১২ পিএম
সবশেষ ২০২৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশ নারী দলের হয়ে খেলেছেন জাহানারা
আলম। মাঝে এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপসহ ঘরের মাঠে ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ছিলেন
ব্রাত্য। দীর্ঘ এক বছর পর আবারও জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি। শ্রীলঙ্কায় আসন্ন এশিয়া কাপে
লাল-সবুজের জার্সিতে করবেন প্রত্যাবর্তন। জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও পথ হারাননি জাহানারা।
ফেরার লড়াইয়ে সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছিলেন ৩১ বছর বয়সি
এই টাইগ্রেস পেসার।
শুক্রবার (১২ জুলাই) দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরার অনুভূতি জানিয়েছেন জাহানারা। বিসিবির প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এক বছর পর আবার জাতীয় দলে ফিরেছি।
এই দীর্ঘ এক বছরের মধ্যে আমি ৯ মাস ট্রেনিং করেছি মাসকো একাডেমিতে। প্রতিটি সময় আমি
নিজেকে প্রস্তুত রেখেছি, নারী দলে যখনই আমার প্রয়োজন হবে যেন প্রস্তুত থাকতে পারি।
শেষ প্রিমিয়ার লিগেও একটি দারুণ পারফরম্যান্স হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। সবকিছু মিলিয়ে
এটা দারুণ অনুভূতি যে আমি আবারও বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারব।’
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৮ জুলাই মাঠে গড়াবে এশিয়া কাপ। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে দল ও নিজের লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছেন জাহানারা, ‘দলের প্রথম লক্ষ্যই থাকবে ভালোভাবে সেমিফাইনাল খেলা। আমরা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনাল খেলতে পারি, তাহলে হয়তো পাকিস্তানের সঙ্গে সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে। এদিক থেকে আমাদের জন্য একটু সহজ হতে পারে এবং অবশ্যই আমরা সেটাই চেষ্টা করব। আমরা চেষ্টা করব আমাদের সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনার জন্য। যেটা ২০১৮ সালে করেছিলাম। আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য থাকবে প্রত্যেকটা ম্যাচে আমি যেন দলের জয়ে অবদান রাখতে পারি।’
২০১৮ সালে নারী এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সামনেই ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এর আগে এশিয়া কাপকে নিজের জন্য ও দলের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ডান হাতি এই পেসার, ‘অবশ্যই এটি আমাদের সবার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়া কাপে আমরা শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের মুখোমুখি হব। এদিক থেকে তিনটি দলই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ আমাদের নিজেদের দেশেই হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। যেহেতু আবহাওয়া, উইকেট আমাদের পরিচিত। তাই আমরা যদি এশিয়া কাপে ভালো খেলতে পারি এবং ইতিবাচক ফল পাই তাহলে মানসিকভাবে ও স্কিলের দিক দিয়ে আমরা এগিয়ে থাকব।’
নিজের ফিটনেস নিয়ে জাহানারা আরও বলেন, ‘আমি সব সময় ফিটনেস ফিট। ২০০৭
সাল থেকে যখন ক্রিকেট খেলি তখন থেকে আমি চেষ্টা করেছি নিজের ফিটনেসটা যেন ভালো লেভেলে
থাকে। আমি যেহেতু একজন পেস বোলার, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমি চেষ্টা করেছি একই পেস
মেইনটেইন করার জন্য। এটা আমাকে সাহায্য করেছে বিশেষ করে ফিটনেস ও শক্তির জায়গায়। আপনারা
জানেন হয়তোবা আমি ফিটনেস লেভেলের মধ্যে জিম ও রানিংটা করতে পছন্দ করি। বিশেষ করে, এই
বয়সে এসে প্রায় সাড়ে ১৫ বছর জাতীয় দলকে সার্ভিস দিয়েছি। সাড়ে ১৭ বছর আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার।
সবকিছু মিলিয়ে দেখা যায় যে, এখনও আমি যে লেভেলে আছি ওই শক্তিটা আমাকে গতি বা ফিটনেস
ধরে রাখতে সাহায্য করে।’