প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ১৫:২৬ পিএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪ ১৭:৩১ পিএম
ফুয়েন্তের বাজির ঘোড়া ইয়ামাল।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের জানা জার্মান ‘শিশু আইন’। অজানা নয় আইনভঙ্গের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণও। তবে ফুয়েন্তের এসবে থোড়াই কেয়ার। দলের প্রয়োজনে লামিন ইয়ামালকে তার চাই-ই চাই। স্পেনকে ইউরোর শিরোপার মঞ্চে তোলার নায়কের জন্য গাঁটের পয়সা ঢালতেও প্রস্তুত তিনি।
জার্মানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের রাত ৮টা পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি আছে। ক্রীড়াবিদদের জন্য কিছুটা ছাড়। তাদের জন্য সময়সীমা রাত ১১টা। জার্মান সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের বেশি কাজ বা খেললে গুণতে হবে টাকা। এখানেই ধরা স্পেন। দলটির অন্যতম উইঙ্গার ইয়ামালের বয়স ১৮-এর নিচে। তবে ফাইনালের আগে ১৭ বছরে পা রাখবেন তিনি। তাতেও নেই নিস্তার।
ইউরোর ম্যাচ যখন রাত ৯টায় শুরু, তখন স্টপেজ টাইম এবং ম্যাচ-পরবর্তী দায়িত্ব বিবেচনায় ইয়ামাল পুরো ম্যাচ খেললে আইনভঙ্গের আওতায় পড়বেন। সৌভাগ্যক্রমে, জার্মানির বিপক্ষে স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হয় জার্মান সময় সন্ধ্যা ৬টায়। এ কারণে আইনি সমস্যায় পড়েননি ইয়ামাল। আর সেমিফাইনালে পুরো সময় খেলেননি তিনি। রেফারির বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে তাকে উঠিয়ে নেন ফুয়েন্তে। ফাইনাল যেহেতু জার্মান সময় রাত ৯টায়, তখনই আসল বিপত্তি। রাত ১১টা পার হলেই ইয়ামালের জন্য গুণতে হবে ৩০ হাজার ইউরো।
স্পেনের হয়ে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ যথাক্রমে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৮৬ মিনিট, ইতালি বিপক্ষে ৭১ ও আলবেনিয়ার বিপক্ষে ১৯তম মিনিটে ইয়ামালকে উঠিয়ে নেন ফুয়েন্তে। তবে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে জর্জিয়ার বিপক্ষে পুরো সময় মাঠে ছিলেন ইয়ামাল। ওই ম্যাচের জন্য স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ৩২ হাজার ৫০০ ইউরো জরিমানা গুণতে হতে পারে। যদিও এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি। একই বিপত্তি ঘটবে ইয়ামাল ফাইনালে খেললেও। মজার ব্যাপার হচ্ছে সোমবারের ফাইনাল ম্যাচটি মাঠে গড়াবে জার্মান সময় রাত ৯টায়। সেক্ষেত্রে ম্যাচ নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টিতে গড়ালে ইয়ামালকে নিয়ে বিপাকে পড়তে পারে স্পেন। যদিও জার্মান আইন ভঙ্গ করে এই তরুণকে খেলাতে পারে স্পেন, এমনটাই ধারনা বিশেষজ্ঞদের। কারণ ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে তারকাসমৃদ্ধ দল ইংল্যান্ডের। ব্যাক টু ব্যাক ফাইনালে ওঠা দলটি আছে দুর্দান্ত ফর্মে। হ্যারি কেই, ফিল ফোডেন, জুড বেলিংহামদের বিপক্ষে জিততে হলে সেরা একাদশই নামাতে পারেন ফুয়েন্তে। টগবগে তরুণ ইয়ামালকে এই ম্যাচে খুব বেশি দরকার হবে স্পেনের। এসব কিছু বিবেচনায় জার্মান আইনকে স্পেন বুড়ো আঙ্গুল দেখালে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

জরিমানার পরিমাণ যাই হোক, হীরার টুকরোকে খেলাতে চান ফুয়েন্তে। স্পেন কোচ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যে ম্যাচে তার ইয়ামালকে পুরো ম্যাচ খেলানোর প্রয়োজন হবে, তিনি খেলাবেন। আইনের কথা ভাববেন না।’ বরং বলেছেন, ‘আমরা সবাই জানি সে কে। তার প্রতিভা সম্পর্কেও আমাদের জানা। কিন্তু সে যেভাবে গোল করেছে সেটিকে আমি বিশ্লেষণ করতে পারব না। ওই গোলটা যেন কোনো বিশেষ প্রতিভার স্পর্শ।’
ইয়ামালকে নিয়ে ফুয়েন্তের বাজি ধরাটা স্বাভাবিক। যে ছেলে তার সবশেষ ম্যাচে রীতিমতো তোলপাড় করে দিয়েছেন। নাড়িয়ে দিয়েছেন ইউরোর ইতিহাস। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি খেলোয়াড় হিসেবে গোলের কৃতি গড়েছেন। জয়ের গল্প যার তুলিতে আঁকা তার জন্য জরিমানা গোনা আদৌ দোষের নয় ফুয়েন্তের। বরং কোচের আস্থার এই তরুণ আরেকবার নিজ ইন্সটাগ্রাম পোস্টের মতো বলে দেবেন, ‘চুপচাপ এগিয়ে চলো। শুধু চেকমেট হওয়ার সময় কথা বলো।’ তার চেয়েও বরং সমালোচক কিংবা প্রতিপক্ষকে ম্যাচ শেষে বলবেন, ‘স্পিক মোর’।
স্পেনকে ফুয়েন্তে যে ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন তার অন্যতম স্তম্ভ ইয়ামাল। তার পায়ের জাদুতে আরও এক ধাপ বড় হবে স্প্যানিশ ফুটবল। স্পেনের মাটারা প্রদেশে জন্ম নেওয়া শিশু ইয়ামাল তার গতি, ড্রিবলিং, নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস ও শট, সে সঙ্গে ঠান্ডা মাথায় এমনটা করতেই পারেন ফুয়েন্তের জন্য, তার চেয়েও বেশি মাতৃভূমির জন্য।