প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৪ ২০:২৫ পিএম
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪ ২০:৪৪ পিএম
কয়েকমাস আগেই প্রসবকালীন জটিলতায় প্রাণ
হারান নারী ফুটবলার রাজিয়া সুলতানা। এবার পরপারে চলে গেলেন দেশের নারী ফুটবলের আরেক
সম্ভাবনাময় মুখ মিথিলা আক্তার। লিভার ও শ্বাসকষ্টের জটিলতায় ভুগে গতকাল রবিবার মৃত্যুবরণ
করেন নারায়ণগঞ্জ থেকে উঠে আসা এ ফুটবলার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ২৩ বছর।
বাফুফের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৪–১৫ সালে মিথিলা
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৪ ও ১৬ দলে খেলেছেন। এরপর পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়ে ফুটবল থেকে
বাইরেই ছিলেন মিথিলা আক্তার। অবশ্য বয়সভিত্তিক এই দুই দলের হয়ে কোন কোন টুর্নামেন্টে
খেলেছেন, সে ব্যাপারে কোনো ধারণা দিতে পারেনি তারা।
মিথিলার মৃত্যুতে শোকাহত বাংলাদেশ জাতীয়
নারী ফুটবল দলের সাবেক কোচ গোলাম রব্বানী, ‘মিথিলা আমার প্রশিক্ষণে অনূর্ধ্ব–১৪ ও অনূর্ধ্ব–১৫ জাতীয় দলে
খেলেছে। সেটি ছিল দেশের মাটিতে এএফসি বাছাইপর্বের খেলা। সর্বশেষ খেলেছে ২০১৪–১৫ সালের দিকে।
দল থেকে বাদ পড়ার পর ওর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। আজ মেয়েটার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে হতবাক
হয়ে গেছি। আল্লাহর কাছে ওর জন্য দোয়া করি।’
গত মার্চে সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক
ঘণ্টা পরই শারীরিক জটিলতায় মারা যান সাফ অনূর্ধ্ব–১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী
ফুটবলার রাজিয়া সুলতানা। তার বয়স হয়েছিল ২১ বছর। ২০১৮ সালে ভুটানে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব–১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ
জয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন রাজিয়া। তিনিও ফুটবল ছেড়ে সাতক্ষীরায় বসবাস করছিলেন।
বাফুফের আবাসিক ক্যাম্পের বাইরে থাকা
নারী ফুটবলাররা খুব একটা সুযোগ-সুবিধা পান না। তাদের সুখ-দুঃখের কোনো খোঁজখবরও রাখে
না বাফুফে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ-মন্ত্রণালয় থেকেও ক্রীড়াবিদদের সুচিকিৎসার তেমন ব্যবস্থা
নেই। নারী ফুটবলে যখন একের পর এক সাফল্যের গল্প লিখছেন সাবিনা-সানজিদারা, তখন রাজিয়া-মিথিলাদের
এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন।
মিথিলার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার
পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন।