প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪ ২১:০৯ পিএম
আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪ ২১:১৯ পিএম
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় সারির
দল নিয়ে হার দিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত।
তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরেকবার মাঠে নেমে স্বাগতিকদের উড়িয়ে দিলো তারা, রেকর্ড বই
ওলটপালট করে দলের জয়ে সামনে থেকে অবদান রেখেছেন অভিষেক শর্মা। তরুণ এই ওপেনারের একাধিক
কীর্তিতে জিম্বাবুয়েকে ১০০ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-১ এ সমতা ফেরালো শুভমান গিলের দল।
রবিবার (৭ জুলাই) হারারে স্পোর্টস কমপ্লেক্সে
সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তরুণ অভিষেক
শর্মার সেঞ্চুরি ও তিনে নামা রুতুরাজ গাইকোয়াড়ের ফিফটি নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট
হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২৩৪ রান করে ভারত। জবাব দিতে নেমে ১৮.৪ ওভারে ১৩৪ রানে অলআউট হয়ে
যায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শুভমান গিলকে
(২) আউট করে আগের দিনের স্মৃতি ফেরান ব্লেসিং মুজারাবানি। কিন্তু তাদের কপালে ভাঁজ
ফেলে দেয় ভারতের দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়া অভিষেক ও রুতুরাজ গায়কোয়াড়। প্রথম ম্যাচে
ডাক মারা অভিষেক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতীয় ওপেনার
৪৬ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান।
এদিন ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন অভিষেক। তাছাড়া সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে ভারতের হয়ে প্রথম শতক হাঁকানোর কীর্তি গড়লেন তিনি, লাগলো মাত্র ২ ম্যাচ। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করে গড়া রেকর্ডটি তার কাছে হারালেন দীপক হুদা। এছাড়া চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় হিসেবে তিন অঙ্কের ঘরে রান করলেন ২৩ বছর ৩০৭ দিন বয়সী অভিষেক। অবশ্য সেঞ্চুরি করার পরের বলে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার শিকার হন অভিষেক। তার ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ৮ ছয়ের মার। যা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কোনও ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি রান। এরপর রিংকু সিংকে নিয়ে ৮৭ রানের জুটি গড়ে ইনিংস শেষ করেন রুতুরাজ। ৪৭ বলে ১১ চার ও ১ ছয়ে ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ২২ বলে ২ চার ও ৫ ছয়ে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে রিংকুও নিজেকে চেনান।
২ উইকেটে ২৩৪ রান করে ভারত, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে যা কোনও দলের সর্বোচ্চ। এর আগের রেকর্ড ছিল ২২৯ রান করা অস্ট্রেলিয়ার।
এরপর বল হাতে আরও ভয়্ঙ্কর ভারত। রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। প্রথম ম্যাচের পরে দ্বিতীয় ম্যাচেও ইনোসেন্ট কাইয়াকে বোল্ড করেন মুকেশ কুমার। যদিও পরের ওভারে চালে ভুল করে বসেন শুবমান। অভিষেককে বলে আনেন তি্নি। সেই ওভারে ১৯ রান নেন ব্রায়ান বেনেট। আক্রমণাত্মক শট খেলছিলেন তিনি। তৃতীয় ওভারে আসেন মুকেশ। তাকেও দুটি ছক্কা মারেন বেনেট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে জেতেন মুকেশ। শেষ বলে বেনেটকে ২৬ রানের মাথায় বোল্ড করেন তিনি।
পাওয়ার প্লের মধ্যে আরও দুই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। আবেশ খান নিজের প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট নেন। মেয়ার্স ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে আউট করেন তিনি। ৪৬ রানে ৪ উইকেট পড়ে যায় জিম্বাবুয়ের। খেলা ততক্ষণে অবশ্য তাদের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।
পঞ্চম উইকেটে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন ওয়েসলি মাধেভেরে ও জোনাথন ক্যাম্পবেল। কিন্তু রান তোলার গতি কমে গিয়েছিল। বাধ্য হয়ে ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে বড় শট মারতে গিয়ে আউট হল ক্যাম্পবেল। ৭২ রানে জিম্বাবুয়ের অর্ধেক দল সাজঘরে ফিরে যায়।
নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ছিল। জিম্বাবুয়ের হার ছিল সময়ের অপেক্ষা। দেখার ছিল যে তারা পুরো ২০ ওভার ব্যাট করতে পারে কি না। আগের ম্যাচে ৯০ রানে ৯ উইকেট পড়ার পরেও জিম্বাবুয়েকে অল আউট করতে পারেননি ভারতের বোলারেরা। এই ম্যাচে অবশ্য ১৮.৪ ওভারে ১৩৪ রানে অল আউট হয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। ১০০ রানে হেরে মাঠ ছাড়ল তারা।
মুকেশ কুমার ও আবেশ খান তিনটি করে উইকেট নিয়ে ভারতের বড় জয়ে অবদান রাখেন। আগের দিন চার উইকেট পাওয়া রবি বিষ্ণয় পান দুই উইকেট। ম্যাচসেরা হন অভিষেক শর্মা।