প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪ ২০:৪০ পিএম
আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪ ২০:৫৭ পিএম
সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ স্কোয়াডে জায়গা হয়নি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। ২০২২ সালে ইনজুরিতে পড়ার পর অনেকদিন ধরেই ছিলেন মাঠের বাইরে। এরপর চলতি বছরের বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রত্যাবর্তন করেন জাতীয় দলে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দেখান ঝলক। তবে নির্বাচকদের মন গলাতে না পারায় জায়গা হয়নি বিশ্বকাপের দলে। বিশ্বকাপ সুযোগ না পেলেও সাইফ স্বপ্ন দেখেন কোনো একদিন বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বজয়ের।
আজ রবিবার (৭ জুলাই) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্পের ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুশীলন করেন সাইফউদ্দিন। এরপর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ২৭ বছর বয়সি এই অলরাউন্ডার। বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন নিয়ে সাইফউদ্দিন বলেন, ‘ভারত অনেক উদযাপন করছে বিশ্বকাপ জয়ের পর। এগুলো দেখলে তো গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। অবশ্যই ইনশাল্লাহ আমরাও মাঝেমধ্যে চিন্তা করি কবে এরকম চ্যাম্পিয়ন হব, দেশের মানুষের সাথে এরকম উদযাপন করব, তো এটা আসলে চিন্তা করি। মানুষ তার স্বপ্ন দেখতে দোষ নেই, আমরাও দেখি।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ জিতে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়েছিল
বাংলাদেশ। কিন্তু সুপার এইটে গেলেও তিন ম্যাচেই হেরেছে টাইগাররা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সাইফউদ্দিন বলেছেন, ‘অবশ্যই ভালো খেলেছে, যদিও আরও ভালো খেললে
আরও ভালো লাগত, তারপরও ওভারঅল ভালো লেগেছে। লাস্ট একটা ইকুয়েশন ছিল, সেমিফাইনাল খেলার
ভালো সুযোগও ছিল, হয়তোবা হয়নি। তারপরও ওদের চেষ্টাকে আমি অ্যাপ্রিশিয়েট করি। অবশ্যই
নিজের দেশ ভালো খেললে তো ভালো লাগেই।’
বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তরুণ তানজিম হাসান সাকিবের কাছে জায়গা হারিয়েছিলেন
সাইফউদ্দিন। আর সুযোগ পেয়েই বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়িয়ে এসেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই
পেসার। তানজিম এতটাই দারুণ ফর্মে ছিলেন যে বিশ্বকাপের আগে সেরা ফর্ম নিয়ে খেলতে যাওয়া
শরিফুল ইসলাম পুরো বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ খেলতে পারেননি। বিশ্বকাপে সুযোগ না পেলেও এখনই
আশা হারাচ্ছেন না সাইফউদ্দিন। আবারও সুযোগ পেলে দিতে চান নিজের সেরাটা, ‘দেখুন কম্পিটিশনের
তো শেষ নেই, ভালোর উপরে তো ভালো আছে। চেষ্টা করব আরও ভালো করার। অবশ্যই আমি তাকে (তানজিম)
অ্যাপ্রিশিয়েট করি। তানজিম সাকিব অসাধারণ খেলেছে। আমার সে কলিগ, আবাহনীতে আমরা একসাথে
খেলেছি। তো এটাই আসলে, ক্রিকেটারদের কেউ ভালো খেলবে কেউ খারাপ খেলবে, এর জন্য খুব বেশি
চিন্তা না করে কীভাবে আরও বেটার কিছু করা যায় সেদিকে চেষ্টা করব। প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের
দিন যায়, ওর দিনে ও ভালো, আমার যখন দিন আসবে আমিও আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
দল থেকে বাদ পড়লে খারাপ লাগে কি না এমন প্রশ্নে সাইফ আরও জানান, ‘অনূর্ধ্ব-১৯
থেকে জীবনের সাথে ইউজড টু হয়ে গিয়েছি। এজন্য আসলে খুব বেশি খারাপ লাগে না। চেষ্টা
করি যখনই সুযোগ পাই ভালো খেলার চেষ্টা করি। প্র্যাকটিসের উপরেই থাকি। যেহেতু এখন ফ্যামিলিও
হয়েছে যখন একসাথে থাকি তখন খুব বেশি নেগেটিভ চিন্তা মাথায় আসে না। যখন বাদ পড়া ইস্যু
নিয়ে চিন্তা করি তখন আরও বেশি খারাপ লাগে। তখন আমার কাজেও ব্যঘাত ঘটে, এজন্য কাজ করতে
থাকি সুযোগ আসবে।’
বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের দেখা যায়, খারাপ পারফর্ম করে বাদ পড়তে,
আবার ঠিকই কয়েক সিরিজ পর দলে ফিরতে। সাউফউদ্দিন অবশ্য বলছিলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক
মানের খেলোয়াড় খুব বেশি নেই, যে কারণে কম্পিটিশনের সুযোগও কম। সাইফউদ্দিন বলেন, ‘সত্যি
বলতে, আমাদের বাংলাদেশে তো ওরকম আন্তর্জাতিক (খেলার মতো) খুব বেশি ২০ থেকে ২৫ জনের
বাইরে, ওরকম প্লেয়ার নেই। আমি যদি ফিট থাকি সুযোগ আসবে। অন্যান্য দেশে যদি দেখেন অনেক
বেশি কম্পিটিশন। আমাদের বাংলাদেশে কিন্তু খুব কম সংখ্যক আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়
আছে, বিশ থেকে পঁচিশ জন যতটুকু আমি মনে করি।’