এলপিএল
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪ ২০:০৪ পিএম
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪ ২০:১১ পিএম
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশের পেস
বোলিং ইউনিটের দুই তারকা তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। যেখানে শেষ বলের রোমাঞ্চে শরিফুলের
দল ক্যান্ডি ফ্যালকনসকে ২ রানের ব্যবধানে হারিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে তাসকিনের কলম্বো
স্ট্রাইকার্স।
শনিবার (৬ জুলাই) ডাম্বুলায় এলপিএলের সপ্তম ম্যাচে আগে ব্যাট করে
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ১৯৯ রানের সংগ্রহ পায় কলম্বো। ২০০ রানের লক্ষ্য
তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত সময়ে ৮ উইকেটে ১৯৮ রানে থামে ক্যান্ডি। এতে তিন ম্যাচে দুই
জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেল কলম্বো।
এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ঊড়ন্ত সূচনা পায় কলম্বো। উদ্বোধনী
জুটিতে মাত্র ৩.৩ ওভারে ৫৩ রান যোগ করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও অ্যাঞ্জেল পেরেরা। নিজের
প্রথম ওভারে ১৬ রান হজম করা শরিফুল ইনিংসের চতুর্থ ওভারে সাজঘরে ফেরান রহমানউল্লাহ
গুরবাজকে (২০)।
এরপর অ্যাঞ্জেল পেরেরা ও গ্লেন ফিলিপসের ব্যাটে এগোতে থাকে কলম্বো।
তবে দলীয় ৮৫ রানের মাথায় বিদায় নেন পেরেরা। নবম ওভারে বিদায়ের আগে ৩৮ রান করেন তিনি।
তার ২৩ বলের ইনিংসে ছিল ৩ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কার মার। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে
কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায়।
তবে একপ্রান্ত আগলে ধরে দলকে বড় সংগ্রহের পথেই রেখেছিলেন ফিলিপস। নিউজিল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার ৪৩ বলে করেন ৭০ রান। তার ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ৩ ছক্কার মার। শেষ দিকে শাদাব খানের ১২ বলে ২৩, চামিকা করুনারত্নের ৫ বলে ১৩ ও তাসকিন আহমেদের ৩ বলে ১ ছক্কায় ৭ রানে কলম্বোর পুঁজি দাঁড়ায় ১৯৯ রান।
ক্যান্ডির হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন পেসার দুশ্মন্থ চামিরা। শরিফুল ইসলাম ও ভানিন্দু হাসারাঙ্গা নেন ২টি করে উইকেট। আর একটি করে উইকেট পান চতুরঙ্গা ডি সিলভা ও দাসুন শানাকা।
এরপর জবাব দিতে ব্যাট হাতে মাঠে নামে ক্যান্ডি। প্রথম ওভারেই তাসকিনের
সামনে সুযোগ ছিল দীনেশ চান্দিমালকে ফেরানোর। তবে তাসকিনের বল বাউন্ডারি লাইনে সহজ ক্যাচ
করে বসেন ফিল্ডার। উল্টো হয়ে যায় ছক্কা। সেই ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান চান্দিমাল। তবে
চতুর্থ ওভারে এসেই তাসকিন নেন প্রতিশোধ। চান্দিমালকে (১২) বোল্ড করে তাসকিনের উদযাপন
ছিল দেখার মতো।
তাসকিনের মতো নিজের প্রথম ওভারে ক্যাচ মিসের আক্ষেপে পুড়তে হয় লঙ্কান
পেসার মাথিসা পাথিরানাকে। যদিও এরপর একে একে চারটি উইকেট শিকার করেন লঙ্কান পেস সেনসেশন।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক দেখা দেয় ৮ম ওভারে। শাদাব খানের বলে মোহাম্মদ হারিসকে অবিশ্বাস্য
চোখ ধাঁধানো এক ক্যাচে তালুবন্দী করেন চামিকা করুনারত্নে। তবে দীর্ঘক্ষণ পর্যালোচনার
পর থার্ড আম্পায়ার নট আউটের সংকেত দিলে হতাশায় মুষড়ে পড়ে গোটা দল। কারণ টিভি রিপ্লেতেও
স্পষ্ট ছিল, ক্যাচটা ঠিকঠাকভাবেই ধরেছেন চামিকা।
১৬তম ওভারে পাওয়ার ব্লাস্টে তাসকিন দুর্দান্ত বল করে মাত্র ৬ রান খরচ করেন। শেষ ওভারে আবার ছিলেন একটু খরুচে। সব মিলে ৩৪ রান খরচায় ১ উইকেট শিকার করে তাসকিন শেষ করেন বোলিং কোটা। শেষদিকে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ক্যামিওতে ম্যাচ জমিয়ে তোলে ক্যান্ডি। তবে শেষ বলে ৩ রান নিতে ব্যর্থ হলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ক্যান্ডিকে। ১৪ বলে ৩৩ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ম্যাথিউস।