প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪ ১৬:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪ ১৬:৫৯ পিএম
নিয়াজ মোরশেদের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় দাবাড়ু হিসেবে গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। দাবাড়ু পরিবারে জন্ম নেয়া গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়া তার বাবা পয়গাম উদ্দিন আহমেদকে অনুসরণ করে এসেছিলেন এই আঙিনায়। সেই বাবার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল এই নক্ষত্র।
শনিবার (৬ জুলাই) বাদ যোহর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্থানীয় এক মসজিদে জিয়ার জানাজা শেষে তাজমহল রোডে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় পর পল্টনের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দাবা ফেডারেশন প্রাঙ্গণে জিয়াউরের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন জানাজায়।

মাত্র ৫০ বছর বয়সে অকালপ্রয়াত এই দাবাড়ুর কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ), দাবা ফেডারেশন, তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন। তাঁর মৃত্যুকে দাবারু অঙ্গনের নক্ষত্রের আকস্মিক পতন ও অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন ভক্ত ও ক্রীড়াবিদরা।
শুক্রবার জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের ১২তম রাউন্ডের খেলা চলছিল। গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর মুখোমুখি হয়েছিলেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীবের। ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে প্রায় তিনঘণ্টা খেলেছিলেন জিয়াউর। বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে লুটিয়ে পড়েন। এসময় প্রতিপক্ষসহ অনেকে এগিয়ে আসেন। দ্রুতই শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। দাবা ফেডারেশন থেকে ৯ মিনিটের মধ্যে তাকে হাসপাতালে পৌঁছালেও আর ফেরানো যায়নি। বয়স হয়েছিল ৫০ বছর।
জাতীয় দাবায় এবারও সন্তান তাহসীন তাজওয়ারকে নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন জিয়া। উৎসাহ যোগাতে বরাবরের মতো এদিনও ফেডারেশনে এসেছিলেন স্ত্রী লাবন্য। প্রিয় দুই মানুষের সামনেই চলে যান। দেশ হারায় প্রথম কোন গ্র্যান্ডমাস্টারকে।
জিয়াউরের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্র্যান্ডমাস্টারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), এবং অনান্য ফেডারেশনগুলো। শোক জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন।