প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৪ ১৯:১৪ পিএম
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৪ ২২:৪৭ পিএম
গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান
দাবা পরিবার বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই। দাবার সঙ্গে তিন প্রজন্মের সম্পর্ক জিয়াউর রহমানের। তার বাবা পয়গাম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের দাবাড়ু। তার একমাত্র ছেলে তাহসিন তাজওয়ার জিয়াও এরই মধ্যে বাংলাদেশ দাবায় প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন নিজের নাম। হয়েছেন ফিদে মাস্টার। নিজের শেষ যাত্রায়ও দাবা বোর্ডকেই বেছে নিলেন নিয়াজ মোরশেদের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় এই গ্রান্ড মাস্টার।
চলতি জাতীয় দাবায় খেলতে খেলতেই পৃথিবীর মায়া কাটালেন জিয়াউর রহমান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (৫ জুলাই) পল্টনস্থ বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন কার্যালয়ে চলছিল ১২তম রাউন্ডের প্রতিযোগিতা। গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব। বেলা ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচটিতে ৬টা বাজার কিছুক্ষণ আগে লুটিয়ে পড়েন জিয়াউর। তাকে দ্রুত শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকগণ চেষ্টা করেও জিয়াউর রহমানকে ফেরাতে পারেননি। সন্ধ্যার ঠিক আগেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই গ্র্যান্ডমাস্টারের বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ ছাড়া শোক জানিয়েছেন, যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা।
জাতীয় দাবার ৪৮তম আসরে খেলছিলেন জিয়াউর রহমান। খেলার একপর্যায়ে তিনি চেয়ার থেকে পড়ে যান। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজীবের গাড়িতে করেই তাকে দ্রুত বারডেম ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে নেওয়া হয়। এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী তাসমিনা সুলতানা লাবণ্য। চিকিৎসকদের কাছ থেকে মৃত্যুসনদ হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন লাবণ্য। এই কান্না আক্রান্ত করে হাসপাতালে উপস্থিত দাবা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। জিয়ার অকালমৃত্যুতে দাবাসহ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।
গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াকে বারডেমে নেওয়ার গাড়িতেই ছিলেন চেস ইন্টারন্যাশনাল আরবিটার হারুনুর রশীদ। এই দুর্ভ্যাগ্যজনক মৃত্যু নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি জানান, জিয়া খুব চাপা স্বভাবের। রাজীবের সঙ্গে খেলার একটা পর্যায়ে সে চেয়ার থেকে কাত হয়ে পড়ে। প্রথমে রাজীব ভেবেছিল নিচে পানি বা কিছু একটা সরাচ্ছে। তবে আমরা একটুও সময় নষ্ট করিনি। জিয়া অসুস্থ হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই আমরা তাকে নিয়ে ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে এনেছিলাম। রাজীবের গাড়িতে করেই আমরা হাসপাতালে আসি। চিকিৎসকরা চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ওকে ফেরানো গেল না।
নিয়াজ মোরশেদের পর ২০০২ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার কৃতিত্ব দেখান জিয়াউর। তার একমাত্র ছেলে তাহসিন তাজওয়ার জিয়াও একজন ফিদে মাস্টার। ২০২২ সালে ৪৪তম দাবা অলিম্পিয়াডে ছেলে তাহসিনকে নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ইতিহাস গড়েন জিয়াউর রহমান।
দাবার সঙ্গে স্থায়ী বন্ধন রেখেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান।