প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ২১:০৩ পিএম
আটলান্টিক পারের ক্রিকেট উৎসব
থেমেছে গত শনিবার। অথচ আজ বৃহস্পতিবার ভারতে পা রাখেন রোহিত শর্মারা। শিরোপা জয়ের
প্রায় ১০৫ ঘণ্টা পর দেশে ফিরেছেন চ্যাম্পিয়নরা। মূলত ঘূর্ণিঝড় বেরিলের কারণে বার্বাডোজে
আটকা পড়েন ভারতের ক্রিকেটাররা। তবে বিসিসিআইয়ের বিশেষ ফ্লাইটে চার দিন পর জন্মভূমিতে
ফেরেন তারা। রোহিতদের উৎসব একটু দেরিতে হলেও আয়োজনের কমতি রাখেনি ভারত সরকার ও ক্রিকেট
বোর্ড। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাড়াও ছাদখোলা বাসে প্যারেডের ব্যবস্থা
ছিল। এ সময় লাখো সমর্থক রাজপথে নেমে আসেন।
সকালে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেই
সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের দেখা পায় ভারত দল। বিমানবন্দরে একদফা উদযাপন শেষে বিশ্রামের
জন্য দিল্লির একটি পাঁচতারকা হোটেলে যান তারা। সেখানেও ছিল আয়োজন। প্রাথমিক পর্ব সেরে
রোহিতরা যান নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ চলে প্রায়
এক ঘণ্টা। আলাপচারিতার একপর্যায়ে ভারত অধিনায়ককে পিচের মাটি খাওয়ার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন
করেন। অনেকটা মজার ছলে মোদি বলেন, মাটি খেতে কেমন লাগে। বিরাট কোহলির প্রতিও তার প্রশ্ন
ছিল। বড় ম্যাচের আগে কী ধরনের ভাবনাচিন্তা নিয়ে মাঠে নামেন সাবেক অধিনায়ক, এমনটা জানতে
চান তিনি। অক্ষর প্যাটেলকে প্রশ্ন করেন, ফাইনালে কঠিন সময়ে যখন তাকে ওপরের দিকে ব্যাট
করতে নামানো হয়েছিল, তখন কী ভাবছিলেন তিনি? কথা হয় সূর্যকুমার যাদবের ক্যাচ নিয়েও।
প্রধানমন্ত্রী এবং বাকি সকলের সামনেই ক্যাচ ধরার সেই সাত সেকেন্ডের মুহূর্তের বর্ণনা
দিতে হয় সূর্যকুমারকে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
ও আলাপচারিতা শেষে মুম্বাইয়ের বিমান ধরেন রোহিতরা। মুম্বাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর
চ্যাম্পিয়নদের বহনকারী বিমানকে দেওয়া হয় ওয়াটার ক্যানন স্যালুট। দমকলের দুটি ইঞ্জিন
বিমানের দুদিকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানো হয়। এরপর তারা বাসে করে নরিম্যান পয়েন্টে
যান। সেখানে একটি বিশেষ ছাদখোলা বাস আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। সেই বাসে চেপে ওয়াংখেড়ে
স্টেডিয়ামে যান তারা। ওয়াংখেড়ে
যাওয়ার পথে রাজপথ ছিল লোকারণ্য। তিন ধারার জায়গা ছিল না রাস্তায়। বেশ বেগ পেতে দেখা
যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীদের। তবে উৎসবের দিনে কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিন বিরাট কোহলিদের দেশে ফেরার খবরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেও মানুষের
ঢল নামে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়ে কর্তৃপক্ষকে।
প্রায় ১৩ বছর পর ক্রিকেটে বিশ্বকাপ
জিতল ভারত, সেই উৎসব এতটা গাঢ় হবে অনুমেয়ই ছিল। ভোর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব কতদিন চলে
দেখার বিষয়। তবে রোহিত-কোহলিদের এই জয় শতকোটির দেশে এক প্রকার প্রশান্তি এনে দিয়েছে
তা বলার অপেক্ষা রাখে না।