প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১৭:২৮ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১৭:৩২ পিএম
মুস্তাফিজকে দশে সাত দিলেন ওয়াসিম আকরাম; কোলাজ ছবি
ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা পেসারদের তালিকায় অবধারিতভাবে নাম থাকবে ওয়াসিম আকরামের। পাকিস্তানের সাবেক বাঁহাতি এই পেসার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শিকার করেছেন নয়শর বেশি উইকেট। বর্তমানে নামকরা কয়েকজন বাঁহাতি পেসার সম্পর্কে নিজের মন্তব্য জানিয়েছেন আকরাম। সেখানে বাংলাদেশি মুস্তাফিজুর রহমানকে দশের মধ্যে সাত দিয়েছেন ‘সুলতান অব সুইং’ খ্যাত এই কিংবদন্তি।
২০১৫ সালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক
মুস্তাফিজের। এরপর থেকেই সাদা বলের ক্রিকেটে সব মনোযোগ তার। তবু নবীন পেসারদের দাপটে
মাঝেমধ্যেই তাকে একাদশের বাইরে থাকতে হয়। লাল বলের ক্রিকেটে ফিজ অলিখিত অবসরেই চলে
গেছেন বলা চলে। ২০২২ সালের জুনে সবশেষ টেস্ট ক্রিকেটে দেখা গিয়েছিল তাকে। এ কারণেই
মূলত ওয়াসিমের কাছ থেকে সাতের বেশি নাম্বার পাননি তিনি।
‘স্পোর্টসকিডা’ নামের ওয়েবসাইটে দেওয়া
সাক্ষাৎকারে ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘সে (মুস্তাফিজ) টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করে না।
আমরা যেহেতু টি-টোয়েন্টির কথা বলছি, এই সংস্করণে সে বেশ ভালো। বিশেষ করে তার কাটারের
কারণে এবং সে এখন নতুন বলে ইনসুইংও শিখেছে। নতুন বল কিছুটা ভেতরে আসে। আগে শুধু এঙ্গেলে
বেরিয়ে যেত, কিছুটা অনুমেয় হয়ে পড়েছিল।’
বিশ্বজুড়েই ফিজের কাটারের বেশ সুনাম
রয়েছে। কীভাবে কাটারে তিনি এত সফল, সেটিও ব্যাখা করেছেন ওয়াসিম, ‘এটার পেছনে অনুশীলন
কারণ এবং সে (কাটার) বেশ ভালোভাবে গোপন রাখতে পারে। সে বল ছুড়ার আগে আঙুল বিভক্ত করে
না এবং তার অ্যাকশনেও পরিবর্তন আসে না। এ কারণে সে ধারাবাহিক। তার ইনজুরি সমস্যা রয়েছে
যদিও।’
সাক্ষাৎকারে বিশ্বের আরও তিনজন বাঁহাতি
পেসারকে রেটিং করেন ওয়াসিম। ভারতের আর্শদীপ সিংকে দশে আট দেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে
৫০২ উইকেট নেওয়া ওয়াসিম নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্টকে দিয়ে ফেলেন দশে দশ। অস্ট্রেলিয়ার
মিচেল স্টার্ককে পাকিস্তানের বিশ্বজয়ী এই পেসার দেন ৯.৭৫। তবে স্টার্ককে যে তিনি চূড়ায়
রাখেন তা তার আরেক কথায় স্পষ্ট হয়ে যায়, ‘শেষ দশ বছরে স্টার্কের পরে যদি কোনো শীর্ষ
পর্যায়ের বাঁহাতি পেসার আসে, তাহলে আমি ট্রেন্ট বোল্টেরই নাম বলব।’
টেস্ট ক্রিকেটে ৭৮ ম্যাচে প্রায় ২৭
গড়ে বোল্টের শিকার ৩১৭ উইকেট। ১১৪ ওয়ানডেতে প্রায় ২৪ গড়ে ২১১ উইকেট রয়েছে এই কিউই পেসারের।
টি-টোয়েন্টিতে ৬১ ম্যাচে ৭.৬৮ ইকোনমিতে বোলিং করেছেন তিনি, তাতে উইকেট আদায় করেছেন
৮৩টি।
বোল্টের প্রতিবেশী দেশের স্টার্ক এ
পর্যন্ত ৮৯ টেস্ট খেলে প্রায় ২৭ গড়ে নিয়েছেন ৩৫৮ উইকেট। ওয়ানডে সংস্করণে ২৩ গড়ে ১২১
ম্যাচে ২৩৬ উইকেট এই অজি পেসারের। আর কুড়ি ওভারের খেলায় ৬৫ ম্যাচে তিনি ৭৯ উইকেট শিকার
করেছেন ৭.৭৪ ইকোনমিতে বোলিং করে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মোস্তাফিজের ঝুলিতে
রয়েছে ১০৩ ম্যাচে ১২৮ উইকেট। বাংলাদেশের জার্সিতে কুড়ি ওভারের খেলায় তিনি বোলিং করেছেন
৭.৪০ ইকোনমিতে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১০৪ ম্যাচে প্রায় ২৬ গড়ে ১৬৪ উইকেট নিয়েছেন কাটার মাস্টার।
সাদা পোশাকে ১৫ ম্যাচের বেশি খেলেননি, তাতে পেয়েছেন প্রায় ৩৬ গড়ে ৩১ উইকেট।
টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় দলে গত কয়েক বছরে
নিয়মিত মুখ আর্শদীপ। ইতোমধ্যে ৫২ ম্যাচে ৭৯ উইকেট নিয়ে ফেলেছেন তিনি এই সংস্করণে। আন্তর্জাতিক
টি-টোয়েন্টিতে গড় প্রায় ১৯ ও ইকোনমি ৮.৩৯ সদ্য বিশ্বকাপ জেতা এই পেসারের।