প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৪ ২২:৪৬ পিএম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোটাদাগে ব্যর্থ বাংলাদেশ দল। যদিও ২০০৭ সালের পর এই প্রথম সেরা আটে খেলেছে টাইগাররা। সেমিফাইনালে ওঠার একটা সুযোগও এসেছিল বটে, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্ত ব্রিগেড। পুরো আসরে বোলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও ব্যাটাররা ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা দলকে কোনো আশাই দেখাতে পারেননি। তাই বিশ্বকাপে সিনিয়রদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির পরিচালকদের সভা শেষে এমনটাই জানিয়েছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেন, ‘প্রথম রাউন্ডের খেলা দেখে আমরা খুশি হয়েছি। যেখানে খেলা হয়েছে, যে কোনো দল যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারতো। এদিক দিয়ে আমি বলবো আমি খুশি। আবার আরেকটা জিনিস উল্টো হয়ে গেছে, এত বছরের অভিজ্ঞতা কোনো কাজেই আসলো না। ’
পাপন বলেন, ‘আমি ভাবছিলাম নতুন ছেলেদের নেওয়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এরা কিছু করতে পারবে না। আমাদের সিনিয়ররা ভালো করবে। কিন্তু এটা হয়ে গেছে উল্টো। সিনিয়ররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বরং নতুন ছেলেরা ভালো করেছে। সেদিক দিয়ে বলতে গেলে ওই প্রত্যাশা আমি করিনি, এজন্য ভালো লেগেছে। অন্যদিকে শান্ত, লিটন দাস, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ওদের কাছ থেকে যে প্রত্যাশা ছিল, ওরা তো সব ম্যাচ ভালো খেলবে না। কিন্তু কিছু ম্যাচ, ওদের কাছে যে প্রত্যাশা করেছিলাম; ওটা পূরণ করতে পারেনি। এদিক দিয়ে মনটা একটু খারাপ। ’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার এইটের ম্যাচে ১২.১ ওভারে জিততে পারলে সেমিফাইনালে উঠে যেতে পারত বাংলাদেশ। সেই সমীকরণ তো মেলাতে পারেইনি, উল্টো ম্যাচ হেরে যায় ৮ রানে। ম্যাচশেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছিলেন, শুরুতেই তিন উইকেট হারানোর পর সেমিফাইনালের সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করেননি। তবে বোর্ড সভাপতি শান্তর এমন মন্তব্য মেনে নিতে পারেননি। তার মতে, ১২ ওভার পর্যন্ত আমাদের জয়ের জন্য খেলা উচিত ছিল।
পাপন বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলছি, ওর (শান্তর) এই কথার সঙ্গে আমরা একমত না। তার এই বক্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ১২ ওভার পর্যন্ত (আফগানিস্তানের বিপক্ষে) আমাদের লড়াই করা উচিত ছিল। দেখলাম যে যখন রক্ষণাত্মক খেলার দরকার ছিল তখন মেরে খেলেছে। আর যখন মেরে খেলার দরকার ছিল তখন রক্ষণাত্মক খেলেছে। ’
দল হারলেই ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেতে ওঠেন অনেকে। এই অবস্থার অবসান চান বিসিবি সভাপতি, ‘পার্সোনাল যে অ্যাটাক, আর অ্যাটাকের একটা নমুনা আছে। টিম হেরে গেলে, টিম খারাপ খেললে মানুষজন রাগ করবে, সমালোচনা করবে, সেটারও একটা লিমিট আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেটা সমস্ত লিমিট ক্রস করে গেছে। আমরা এটা আর কোনোভাবেই গ্রহণ করবো না। ’
‘একটা জিনিস আপনাদেরকে বলে রাখি, এই যে সমস্ত মানুষের আপনাদের সঙ্গে আমার বহু বছর হয়ে গেছে অলরেডি। প্রশ্ন করতে চান, আমি প্রশ্ন করতে না করবো, উত্তর দেবো না কখনো এরকম ছিল না। ঠিক হোক, ভুল হোক, আমার যা মনে হয়, আপনাদেরকে বলে এসেছি। কখনো কিছু লুকানোর ব্যাপার না। কিন্তু তার মানে এই না, এখন যে সমস্ত জিনিস সোশাল মিডিয়াতে চলছে। ’- যোগ করেন পাপন।
দীর্ঘদিন ধরে একজন মানসম্মত লেগস্পিনারের খোঁজে ছিল বাংলাদেশ। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সে আক্ষেপ মিটিয়েছেন রিশাদ হোসেন। পাকিস্তানি কিংবদন্তি মুশতাক আহমেদের ছোঁয়ায় বদলে গেছেন তরুণ এই লেগি। তাই পাকিস্তানি এই লিজেন্ডের সাথে চুক্তি বাড়াতে যাচ্ছে বোর্ড। এ প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘মুশতাকের সঙ্গে চুক্তি বাড়াতে আমরা সম্মত হয়েছি। এই সিদ্ধান্তটা হয়েছে। আমরা আবার কিছু কিছু বিকল্পও খুঁজছি সব জায়গাতেই। আমরা দেখতে চাচ্ছি, আমাদের কী কী বিকল্প আছে।’