প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৪ ২০:৫৪ পিএম
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৪ ২১:৩১ পিএম
আফগান ক্রিকেটে
সোনালি দিন চলছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাজিমাত দেখানো রশিদ খানরা কুড়ি কুড়ির বৈশ্বিক ইভেন্টেও
নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছেন। আটলান্টিক পারের মহাযজ্ঞে আফগানরা কূলে গিয়ে তরী ডোবালেও
বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। মোহাম্মদ নবি-রশিদরা যেখানে একের পর এক অর্জনের ভাগিদার, সেখানে
বিলুপ্ত দেশটির নারী ক্রিকেট। ২০২১ সালে তালেবান শাসন ফিরে আসার পর নারীদের খেলার অধিকার
কেড়ে নেওয়া হয়। তবে আফগান নারী ক্রিকেটাররা আইসিসির কাছে ক্রিকেটে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।
ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা যেন তাদের অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক শরণার্থী দল হিসেবে আন্তর্জাতিক
ক্রিকেট খেলার সুযোগ দেয় তার জন্য চিঠি পাঠিয়েছে।
আফগান নারী ক্রিকেটারদের
চিঠিতে রশিদদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার জন্য অভিনন্দন জানানো হয়।
তারা লিখেছেন, ‘আমরা আফগানিস্তানের চুক্তিভুক্ত নারী ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের
সেমিফাইনালে ওঠায় রশিদ খানদের অভিনন্দন জানাই। তাদের অর্জনে গর্বিত আমরা। তবে দুঃখ
এটিই, আমরা নারী ক্রিকেটার হওয়াতে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিতে পারছি না।
আমরা আইসিসিকে অস্ট্রেলিয়াতে আমাদের একটি শরণার্থী ক্রিকেট দল গঠনের অনুরোধ জানাচ্ছি।
যে দলটি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ইস্ট এশিয়ান ক্রিকেট কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
এই দলের মাধ্যমে আমরা পুরুষ ক্রিকেটারদের মতোই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের সব নারীর
প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। যেটি আমরা দেশে থেকে করতে পারছি না।’
২০২১ সালে আফগানিস্তানে
তালেবান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলে দেশান্তর হন নারী ক্রিকেটাররা। যার একটা বড় অংশ পাড়ি
জমান অস্ট্রেলিয়াতে। সেখানে ক্লাব ক্রিকেটে তাদের সরব উপস্থিতি। ক্লাব লিগে খেললেও
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ নেই তাদের। তাই আইসিসির কাছে ক্রিকেটারদের
আবেদন যেন দেশহীন ক্রিকেট দল হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়
তাদের। চিঠিতে তারা আরও লিখেছে, ‘আমাদের লক্ষ্য পৃথিবীর সামনে আমরা আমাদের প্রতিভার
প্রমাণ রাখব। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে বসবাস করা নারীদের আশার আলো দেখাব। আফগানিস্তানে
নারীদের প্রতি কী অমানবিক আচরণ হচ্ছে, সেটি দুনিয়ার সামনে তুলে ধরব। আমরা আফগানিস্তান
পুরুষ দলের মতোই সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা রাখি।’
টেস্ট খেলুড়ে
দেশ হিসেবে একটি নারী ক্রিকেট দল থাকা বাধ্যতামূলক। আইসিসির এমন নিয়ম থাকলেও তিন বছর
ধরে কোনো নারী ক্রিকেট দল নেই আফগানিস্তানে। এ নিয়ে আইসিসির অন্য দেশগুলো রশিদদের আন্তর্জাতিক
ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধের দাবি তোলে। তবে আইসিসি সেই দাবি উপেক্ষা করে আসছে। আন্তর্জাতিক
চাপ এবং নারী ক্রিকেট দলের দাবির মুখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কী প্রদক্ষেপ নেয়
সেটাই দেখার বিষয়।