টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৪ ০২:৪৬ এএম
ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেবের কথা অক্ষরে অক্ষরে সঠিক প্রমাণ করলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। দু’দিন আগে এই পেসারকে নিয়ে কিংবদন্তি কপিল বলেছিলেন, ‘জাসপ্রিত আমার চেয়ে এক হাজার গুণ ভালো বোলার।’ বুমরাহ যে ইতোমধ্যে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার বনে গেছেন সেটি কারও অজানা নয়। আরও একবার নিজের তেজ দেখালেন বিশ্বমঞ্চে, যা তাকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার এনে দিয়েছে।
১৭ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে রোহিত শর্মার দল জিতেছে ৭ রানে। এমন জয়ের দিনে ম্যাচসেরাও হতে পারতেন বুমরাহ। তবে দলের কঠিন মুহূর্তে হাল ধরে ৫৯ বলে ৭৬ রান করা বিরাট কোহলিকেই বেছে নিয়েছে আইসিসি।
ফাইনালে ৪ ওভারে ১৮ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট নেন বুমরাহ। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসের ১৭তম ওভারে করা বুমরাহর স্পেলটি। প্রোটিয়াদের জয়ের জন্য ১৮ বলে তখন দরকার মাত্র ২২ রান, আক্রমণে এসে মাত্র দুই রান দিয়েই মার্কো জ্যানসেনের উইকেট তুলে নেন এই পেসার। এ তো গেল কেবল ফাইনালের কথা, পুরো টুর্নামেন্টেই বুমরাহ সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন।
এবারের বিশ্বকাপে ৮ ইনিংসে বল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ উইকেট শিকার করেছেন বুমরাহ। তার সামনে আছেন কেবল দুজন, ফজল হক ফারুকি ও আর্শদীপ দুজনেই সমান ১৭টি করে উইকেট নিয়েছেন। তবে বুমরাহ অন্য জায়গায় এগিয়ে, ম্যাচের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে তিনি আক্রমণে আসেন। আর প্রয়োজনীয় ব্রেকথ্রু আর ইকোনমিক্যাল বোলিং তার প্রধান অস্ত্র। মাত্র ৪.১৭ ইকোনমি এবং ম্যাচপ্রতি ৮.২৬ গড়ে রান দিয়েছেন ডানহাতি পেসার। তার চেয়ে কম ইকোনমি ও গড়ে বল করা টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্ট বিদায় নিয়েছেন গ্রুপপর্বেই। ফলে বিশ্বকাপজয়ী বুমরাহ কতটা এগিয়ে এবং দলের জয়ে প্রভাব রেখেছেন, এজন্য তার হাতেই তো টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার মানায়!
ফাইনাল শেষে পেসার মোহাম্মদ সিরাজও কৃতিত্ব দিয়েছেন বুমরাহকে। কীভাবে এমন সাফল্যে মাখা পারফর্ম করে গেলেন, সেটিও জানা গেল টুর্নামেন্টসেরা বুমরাহর মুখে, ‘আমি শান্ত থাকার চেষ্টা করেছি। এজন্যই আজ (শনিবার) আমরা এখানে, সত্যিই আমি এখন আর এখানে নেই, এমন উল্লাসের সময়ে আমার সন্তান ও পরিবারকেও কাছে পেয়েছি। এমন অর্জনের জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি, বিশ্বকাপ জেতার চেয়ে আনন্দের কিছু হতে পারে না।’ সাফল্যের পেছনের গল্পটাও ছোট করে বললেন বুমরাহ, ‘পুরো টুর্নামেন্টে বল বাই বল চিন্তা করে এগিয়েছি। মাঝেমধ্যে আবেগও এসে দাঁড়িয়েছে, তবে সবকিছুর পর আমরা কাজটা সম্পন্ন করেছি। সঠিক লেংথে বল ফেলা এবং তার সঙ্গে রিভার্স সুইং, যার বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি খুশি।’