প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৪ ০২:৩৭ এএম
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বৃষ্টি আইনের সেই অদ্ভুত নিয়মের বলি। ১৯৯৬ সালে এক ব্রায়ান লারার হাতেই স্বপ্নের সমাধি। ১৯৯৯ সালে ল্যান্স ক্লুজনার আর অ্যালান ডোনাল্ডের ভুতুড়ে ভুল-বোঝাবুঝি! ২০০৩ সালের পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপে নিজেদেরই অঙ্কের ভুল। দক্ষিণ আফ্রিকার না পাওয়ার এই গল্পটা দীর্ঘ, ইতিহাসটাও কান্নার। বারবার কোনো-না-কোনোভাবে দলটি সেমিফাইনালের মঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের সামনে সুযোগ ছিল আক্ষেপ মুছে ফেলার, সব হিসাব মিটিয়ে দেওয়ার। সে লক্ষ্যে অপরাজিত থেকেই বার্বাডোজের ফাইনালেও উঠে গিয়েছিল এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু হতে হতেও হলো না। জিততে জিততেও শেষ পর্যন্ত জেতা হলো না। হিসাব থাকল হিসাবের খাতাতেই। আর চোকার্স অপবাদটাও দীর্ঘায়িত করল প্রোটিয়ারা!
রবিবার (২৯ জুন) টি-টোয়েন্টির নবম আসরের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরে গেলেন মার্করাম, ক্লাসেন, মিলাররা। অথচ একটা বিশ্বকাপ জেতার জন্য সমীকরণটা কত সহজই না ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে। চ্যাম্পিয়ন হতে শেষ ২৪ বলে ২৬ রানই তো দরকার ছিল। হাতে ৬ উইকেট। মারকাটারি টি-টোয়েন্টির খেলায় এই সহজ হিসাবটা মেলাতে পারবে না দক্ষিণ আফ্রিকা, এটা বোধকরি খুব বেশি লোক ভাবেনি। তার আগে ১৫তম ওভারটায় হেনরিখ ক্লাসেন যেভাবে তাণ্ডব চালালেন, সেটা দেখে শিরোপার ঘ্রাণই যে পাচ্ছিলেন প্রোটিয়া সমর্থকরা। অক্ষর প্যাটেলের ওই ওভার থেকেই দুই ছক্কা আর দুই বাউন্ডারিতে ক্লাসেন তুললেন ২৪ রান।
জেতার জন্য ৩৬ বলে ৫৪ রানের সমীকরণ নেমে দাঁড়াল ৩০ বলে ৩০-এ। ১৬তম ওভারে জসপ্রিত বুমরাহ দিলেন মাত্র ৪ রান। তারপরও ম্যাচটা হাতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু ১৭তম ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার করা ওভারের প্রথম বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্তের হাতে ধরা পড়লেন ক্লাসেন। এক উইকেট হারিয়ে ওই ওভার থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলল মোটে চার রান। নিজের শেষ ওভারটা করতে বুমরাহ এলেন ইনিংসের ১৮তম ওভারে। মার্কো জানসেনের উইকেট তুলে এই ওভারে বুমরাহর খরচ স্রেফ ২ রান। প্রোটিয়াদের জয়ের সমীকরণে বেড়ে দাঁড়াল ১২ বলে ২০ রানে। শেষ ৬ বলে সেটা হলো ১৬ রানের।
শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে তখনও দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন ডেভিড মিলার। কিন্তু পান্ডিয়ার করা শেষ ওভারের প্রথম বলেই অবিশ্বাস্য এক ক্যাচে মিলারকে ফেরালেন সূর্যকুমার যাদব। ফুল টস বলটা এর আগে কতশতবার যে বাউন্ডারির বাইরে আছড়ে ফেলেছেন মিলার সেটি জানা ক্রিকেট সমর্থকদের। কিন্তু এবার আর বলটাকে মাঠের বাইরে নিতে পারল না মিলারের ব্যাট। প্রথম বলে সেই ছক্কাটা হয়ে গেলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হলেও হতে পারত। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। হয়তো জেতাটাই প্রোটিয়াদের কপালে লিখে রাখে নাই ক্রিকেট বিধাতা, হয়তো চোকার্স অপবাদটা মাথায় নিয়েই বিদায় নিতে হবে মিলার, কুইন্টন ডি কক, ক্লাসেনদের।